আগস্টে সড়কে ৩৮৮ দুর্ঘটনায় নিহত ৪৫৯ জন

0 0
Read Time:8 Minute, 1 Second
road accidents

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি বছর আগস্ট মাসে সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪৪৪টি দুর্ঘটনায় ৫৫৩ জনের মৃত্যু এবং ৬৬৯ জন আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। আগস্টে এ-সময় সড়ক-মহাসড়কে ৩৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৫৯ জন নিহত ও ৬১৮ জন আহত হয়েছেন।

যার মধ্যে ৫২.৮৩ শতাংশই ছিল গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা। ২৭.৮৩ শতাংশ ক্ষেত্রে দুই বাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৩.৯১ শতাংশ ক্ষেত্রে গাড়ি খাদে পড়ে যাওয়া, ৪.৮৯ শতাংশ ক্ষেত্রে অন্যান্যভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দেশের দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০) সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময় রেলপথে ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। নৌ-পথে ৪১টি দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত ও ৫২ জন আহত এবং ৩১ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকার সুযোগে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও জাতীয় মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ইজিবাইক উঠে আসায় এবং বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটরসাইকেলের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি এবং বেপরোয়া চলাচল সড়ক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাড়াঁচ্ছে।

আগস্টে সড়কে ৩৮৮ দুর্ঘটনায় নিহত ৪৫৯ জন

আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে—১৯৮ জন চালক, ১২৫ জন পথচারী, ৮০ জন নারী, ৪৪ জন শিশু, ৩৮ জন শিক্ষার্থী, ২২ জন পরিবহন শ্রমিক, ৬ জন পুলিশ, একজন বিমান বাহিনীর সদস্য, একজন সিআইডির সদস্য এবং একজন সেনাবাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

এ ছাড়া ৯ জন শিক্ষক, ৮ জন রাজনৈতিক কর্মী, তিনজন চিকিৎসক, একজন সাংবাদিক এবং একজন প্রকৌশলীর পরিচয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে—১৬৭ জন চালক, ১১০ জন পথচারী, ৬৩ জন নারী, ৩৪ জন শিশু, ৩২ জন শিক্ষার্থী, ১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ছয়জন রাজনৈতিক কর্মী, ছয়জন শিক্ষক, তিনজন চিকিৎসক, একজন প্রকৌশলী, একজন সাংবাদিক এবং পাঁচজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনার ২৮.৯৮ শতাংশই ঘটেছে মোটরসাইকেলে। এ ছাড়া ২১.৬১ শতাংশ ক্ষেত্রে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬.১২ শতাংশ ক্ষেত্রে বাস, ৮.৭৪ শতাংশ ক্ষেত্রে অটোরিকশা, ৯.৭৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭.৭১ শতাংশ ক্ষেত্রে নছিমন-করিমন, ৭.০৩ শতাংশ ক্ষেত্রে কার-জিপ-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় পড়েছে।

এ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ৪ তারিখে। সেদিন ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ৪৬ জন।

সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনার খবর এসেছে ১৯ তারিখে। সেদিন চারটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু এবং তিনজনের আহত হওয়ার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন বলছে, মোট দুর্ঘটনার ৫২.৮৩ শতাংশই ছিল গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা। ২৭.৮৩ শতাংশ ক্ষেত্রে দুই বাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৩.৯১ শতাংশ ক্ষেত্রে গাড়ি খাদে পড়ে যাওয়া, ৪.৮৯ শতাংশ ক্ষেত্রে অন্যান্যভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ০.২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ট্রেনের সঙ্গে কোনো বাহনের সংঘর্ষ এবং ০.২৬ শতাংশ ক্ষেত্রে চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এ-মাসে মোট দুর্ঘটনার ৪৮.৯৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮.৮৬ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১৪.৬৯ শতাংশ ফিডার রোডে ঘটেছে। ৫.১৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঢাকা মহানগরীতে, ২.০৬ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০.২৫ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না সরকার

লক্ষণীয়, সড়ক দুর্ঘটনা এখন বাংলাদেশে নিত্যদিনের ঘটনা। নানা উদ্যোগেও সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না সরকার। এতে প্রাণহানি যেমন বাড়ছে, তেমনি সম্পদের ক্ষতিও বেড়েই চলেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় পথে বসছে অনেক পরিবার। দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, এতে মৃত্যুর হার দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণায় ইতোপূর্বে দেখানো হয়েছে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এবং এর প্রভাবে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এসব দুর্ঘটনার কারণে বছরে মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) ২ থেকে ৩ শতাংশ হারাচ্ছে বাংলাদেশ।

অপরদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ২০ হাজার ৭৩৬ থেকে ২১ হাজার ৩১৬ জন। আর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে বাংলাদেশে মাথাপিছু ক্ষতির পরিমাণ উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় দ্বিগুণ। ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মাথাপিছু ক্ষতি বেড়ে তিনগুণ হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীরা। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর চেয়ে এ ঝুঁকি ১৫ গুণ বেশি। গাড়ির লাইসেন্স দেওয়ার হার দ্রুত বাড়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না-হলে ঝুঁকি কমবে না বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের আরেক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বাংলাদেশে দুর্ঘটনাকবলিত প্রতি ১০ হাজার যানবাহনে মারা যান ১০২ জন। পাশের দেশ ভুটানে এ সংখ্যা ১৬ দশমিক ৭০ জন, ভারতে ১৩, নেপালে ৪০ ও শ্রীলঙ্কায় ৭ জন।

যদিও বাংলাদেশে প্রতি হাজারে যানবাহন আছে মাত্র ১৮ জনের। ভারতে এ সংখ্যা ১৫৯, নেপালে ৮১, ভুটানে ১০৯ ও শ্রীলঙ্কায় ৩২৭।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleppy
Sleppy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *