shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

আমাদের আত্মপরিচয় : হায়াৎ সাইফ

Amader-Attaporicoy-Hayat-Sa
Amader-Attaporicoy-Hayat-Sa

আমাদের আত্মপরিচয় : হায়াৎ সাইফ

একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী হিসেবে আমাদের স্বকীয়তা ও বৈশিষ্ট্যের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে দ্বিধাবিভক্তি যা সৃষ্ট হয়েছিল তা প্রধানত রাজনৈতিক কারণে। এই ভূখণ্ডের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে এখানকার আদিম জনগোষ্ঠী ছাড়াও আরও অনেক নৃগোষ্ঠীর মানুষ এসেছে ও বসতি স্থাপন করেছে, এ মাটির গভীরে শেকড় চারিয়ে দিয়েছে।

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় আমাদের সংস্কৃতি আত্মস্থ করেছে নানাবিধ উপাদান। একসময় সেই সমস্ত উপাদান একাত্ম হয়ে মিশেছে আমাদের যাপিত জীবনে। এই উপাদানগুলোর মধ্যে যেমন আছে খাদ্যাভ্যাস, পোশাক পরিচ্ছদ, সঙ্গীত, স্থাপত্য, তেমনি ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য।

এই ধর্মীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ সাধারণ মানুষের জীবনে তাদের দৈনন্দিন সহাবস্থানকে অনেক সময় বাধাগ্রস্ত করেছে। প্রাচীন ও মধ্যযুগে মানুষের ধ্যান ধারণায় ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বিরল নয়।

কিন্তু লক্ষণীয়, ঐ অসহিষ্ণুতা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে ওপর থেকে, শাসক গোষ্ঠীর ক্ষমতা বিস্তারের উদগ্র বাসনায়। প্রাচীনকালে হিন্দু জনগোষ্ঠী ও বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর সংঘাত শাসকের ক্ষমতা লিপ্সার কারণে তৈরি করা হয়েছে।

মধ্যযুগের খ্রিস্টিয় ধর্মান্তরণ ও ধর্মযুদ্ধ সর্বত্র বিদিত। জেরুসালেমে রোমান শাসক ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়েছিলেন যীশুর প্রচারে এবং তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করা হলো।

এগুলো ক্ষমতা লিপ্সারই প্রতিফলন মাত্র। তারও হাজার বছর পরে আরব দেশে নব্য ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য অত্যন্ত হিংস্র ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। কারণ একটা অন্ধকার ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের প্রচলিত ধ্যান ধারণার বিরুদ্ধে সেটা ছিল একটা বিপ্লব।

কাজেই তখনকার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীগুলোর ক্ষমতাকে কুক্ষিগত রাখার জন্যই নবীন ধর্মাবলম্বীদের চরম নৃশংসতার শিকার হতে হয়।

ষোড়শ, সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকজুড়ে যখন ইউরোপীয় উপনিবেশগুলো স্থাপিত হচ্ছিল তখনও খ্রিস্টান মিশনারিদের সমূহ তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।

তৎকালীন চার্চ ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় ও এমনকি তাদের মুখ্য ভূমিকায় উপনিবেশগুলোতে ধর্ম প্রচার করেছিল।

ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়নে ব্যবহার একেবারেই প্রাচীন ও মধ্যযুগীয়। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ, আদান-প্রদান, ব্যবসা-বাণিজ্য যত বাড়তে থাকে ততই বুঝতে পারা যায় যে মানুষের ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন হলেও সব মানুষের শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক ও দার্শনিক সত্তা একইরকম।

সকল ধর্মাবলম্বী মানুষই দুঃখ পায়, বেদনার্ত হয়, আনন্দে উচ্ছল হয়ে ওঠে, বিষাদে বিষণ্ন হয় এবং নরনারী জাতি, গোষ্ঠী ও ধর্ম নির্বিশেষে পরস্পরকে ভালোবাসে।

আমাদের আত্মপরিচয় : হায়াৎ সাইফ

মানুষের যোগাযোগের ও আদান প্রদানের উন্নত স্তরে তাই দেখা যায় বিভিন্ন ধর্মের নরনারীর মধ্যেও ভালোবাসার উদয় হয় এবং তারা একত্রে বসবাস করতে পারে।

তাহলে মানুষের যে মৌলিক অস্তিত্ব তা কি সম্পূর্ণভাবে ধর্ম ভিত্তিক? এই প্রশ্নটি মনে উদিত হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

আধুনিককালে এসে তাই জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগে রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মের বিচ্ছেদ ঘটেছে। উন্নত সমাজে তাই রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ হয়েছে।

একই রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্মের জনগোষ্ঠী স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারে। যেখানে তা পারে না সেখানেই মানবতা লাঞ্ছিত হয়।

এই উপমহাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে যখন থেকে রাজনৈতিকভাবে এবং

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে তখন থেকেই মানবতা লাঞ্ছিত হয়ে চলেছে।

এর বড় উদাহরণ ১৯৪৬-৪৭ সালের ঘটনা।

ধর্মান্ধতা দুই প্রধান জনগোষ্ঠীকে তখন এমনভাবে মোহগ্রস্ত করেছিল যে ঐসময়ে বিশেষত ১৯৪৬-এর মধ্যভাগে ও ১৯৪৭-এর আগস্টের পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশজুড়েই—

রক্তগঙ্গা বয়ে গিয়েছিল এবং বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল মানুষের চরমতম নৃশংসতার ও নিকৃষ্টতম চরিত্রের।

ছেচল্লিশ-সাতচল্লিশের ওই ঘটনার অব্যবহিত পরে, প্রকৃতপক্ষে সঙ্গে সঙ্গেই, পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রধান পুরুষ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাষ্ট্রটি যে সকলের,

সকল ধর্মাবলম্বীর সেকথা বললেও তাতে কেউ তখন কর্ণপাত করেনি।

মানুষের পশু শক্তিকে একবার নিগড় থেকে ছেড়ে দিলে তাকে আবার প্রশমিত করা সহজে সম্ভব হয় না।

ভারতবর্ষের খণ্ডিত পাকিস্তান ও ভারত দুই রাষ্ট্রেই পরবর্তীকালের ধর্মান্ধতা ও তার কারণে রক্তপাত বার বার সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ভাগ্যবশত এই সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসের মূল যে প্রকৃতপক্ষে ধর্ম নয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য তা চলে গেছে দৃষ্টির আড়ালে।

আমাদের বাংলাদেশে যে জনগোষ্ঠীর বসবাস তার অতীত ও বর্তমান সামান্য পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে,

ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থান দারিদ্র্য বৈষম্য ও ক্ষমতালোভীদের ধর্মকে ব্যবহারের অপচেষ্টার সঙ্গে ওতপ্রোতোভাবে জড়িত।

একসময় বাঙালি মুসলমানের যে আত্মপরিচয়ের সঙ্কট ছিল তার মূল কারণও প্রধানত রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক।

দীর্ঘকালীন মুসলিম শাসনের সময় শাসকদের সংস্কৃতির যে প্রভাব ভারতবর্ষের জনগোষ্ঠীর ওপরে পড়তে থাকে তা কিন্তু সর্বত্র সমানভাবে পড়েনি।

সাধারণ মানুষের জীবনযাপন ধ্যান-ধারণা ও চিন্তা-চেতনাও কিন্তু ধর্মের প্রভাবে তেমনভাবে পরিবর্তিত হয়নি।

আমাদের আত্মপরিচয় : হায়াৎ সাইফ

বর্ণাশ্রমের যে মারাত্মক শৃঙ্খল দীর্ঘকাল ধরে রচিত হয়েছিল সেই অনড় আদিম অবস্থা থেকে—

এই উপমহাদেশের মানুষ এই আধুনিককালেও সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারেনি।

বিভিন্ন সময়ে উচ্চতর শ্রেণীতে বিশেষ করে যে হৃত বংশগৌরবের কথা ইনিয়ে-বিনিয়ে বলা হয় তার পেছনেও প্রকৃতপক্ষে ওই মনোভাবই কাজ করে।

যদি কল্পনা করা যায় এমন একটি সমাজের যেখানে অত্যন্ত উন্নত জীবনযাপন করা যাচ্ছে, সমস্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাচ্ছে এবং

প্রতিটি মানুষের কর্ম অর্থনৈতিকভাবে যথার্থ দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়িত হচ্ছে সে সমাজে এই সমস্ত আত্মম্ভরিতার কথা মানুষ আর বলবে না।

মানুষের যে নিজস্ব আত্মশক্তি তার যখন পূর্ণ বিকাশ ঘটবে এবং আমরা মেনে নেব যে সবার ওপরে মানুষ সত্য তাহার ওপরে নাই,

তখন ব্যক্তি-স্বকীয়তা ও তার মানবিক উৎকর্ষই তার মূল্যায়নের মানদণ্ডে পরিণত হবে।

মানুষের বিবর্তন যদি একটি ইতিবাচক পথে এগোয় তাহলে এমন একটা সময় বিশ্বব্যাপী কল্পনা করা যেতে পারে যখন বিভিন্ন জনগোষ্ঠীতে হিংসা-দ্বেষ ও সন্ত্রাস থাকবে না।

কিন্তু তার জন্য প্রাথমিক প্রয়োজন অর্থনৈতিকভাবে সমস্ত জনগোষ্ঠীর একটা সুষ্ঠু, সুস্থ ও সচ্ছল জীবন-যাপনের নিশ্চিতি।

ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন গুরুত্বপূর্ণ আর্থসামাজিক চিন্তাবিদ এমন একটি সামাজিক অবস্থার কথা ভাবলেও—

যে পথে তা অর্জন করার প্রচেষ্টা হয়েছিল সে পথ হয়তো এতই বন্ধুর যে তেমন একটি অবস্থায় উপনীত হওয়ার আগেই তার তথাকথিত অগ্রযাত্রা বিঘ্নিত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ হয়তো ঠিকই বলেছিলেন, ‘মানুষ যে কি চায় তা সে নিজেই জানে না। এক ঘটি জল চায় না আধখানা বেল চায় জিজ্ঞেস করলে বলতে পারে না।’

তাই অনেক সময় মনে হয়, তাঁরই ভাষায় ‘যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই/ যাহা পাই তাহা চাই না।’

চাওয়া ও পাওয়ার এই ব্যবধান হয়তো মানুষের সবসময়ই থাকবে।

আর যদি তা নাই থাকে তাহলে জীবন স্থবির হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা।

এই দোটানার মধ্যেই হয়তো আমাদের জীবনের দোলাচল। কিন্তু আপাতত দূরভবিষ্যতে নয়,

অদূরভবিষ্যতে অর্থপূর্ণভাবে আমাদের জীবন পরিচালনার কথা যদি ভাবা যায় তাহলে অর্থনৈতিক বৈষম্য সমাজ থেকে যতোটা সম্ভব দূর করার প্রয়োজন হবে।

আমাদের আত্মপরিচয় : হায়াৎ সাইফ

আপাতত অন্য সমস্ত কিছু বাদ দিয়ে সবাই মিলে একটা শুভবুদ্ধির অনুসরণে যথার্থ অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপযোগী রাষ্ট্র ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটানোর পদক্ষেপ নিতে পারলে—

সেটা সার্বিক মঙ্গলের সূচনা করতে পারতো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিকে বলা বাহুল্য তা মনে হয় সুদূর পরাহত।

বর্তমানে আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক ঊর্ধ্বতনের যে পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি সেখানে আত্মপরিচয়ের কোনো সংকট থাকবার কথা নয়।

সাতচল্লিশ, বায়ান্ন ও একাত্তরের ধারাবাহিকতায় আজকে অন্তত এটা সুস্পষ্ট, আমরা আমাদের আত্মপরিচয় ও জাতিগতভাবে আত্মসম্মানবোধ এ দুটোর সমন্বয় ঘটাতে পারিনি।

আজকে এই মুহূর্তে বিংশ শতাব্দীর মধ্যবিন্দু থেকে এখন পর্যন্ত একবিংশ শতাব্দীর সূচনায় জ্ঞান বিজ্ঞান ও

প্রযুক্তির বর্তমান বৈশ্বিক অবস্থায় আমাদের এই ভূখ-ের জনগোষ্ঠী নিশ্চিতভাবেই একটি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

আমাদের শিল্প সাহিত্য সঙ্গীতসহ সামগ্রিক সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের বৈশিষ্ট্যে এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করা এখন অসম্ভব।

রাজনৈতিকভাবে কোনো স্বাভাবিক বুদ্ধির মানুষ আজকে যেমন অখ- ভারতের কথা কল্পনা করতে পারবেন না তেমনি অখ- পাকিস্তানের কল্পনাও বাতুলতা।

কেননা বাংলাদেশের জন্ম কেবলমাত্র একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ঘটেনি।

তা আমাদের সাংস্কৃতিক উজ্জীবনে আমাদের দৈনন্দিন জীবনাচরণের বৈশিষ্ট্যে লালিত হয়ে আত্মসংরক্ষণ এবং

আত্মমর্যাদাবোধে উদ্দীপ্ত হয়ে একটি রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে অর্জিত।

সম্পূর্ণ উন্মাদ ছাড়া আর কারো পক্ষে এই অর্জনকে আজকে অস্বীকার করা সম্ভব নয়।

আজকে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি আমরা বাঙালি এবং বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের অধিবাসী। সেই অর্থে জাতীয়তায় বাংলাদেশী। বাংলাদেশী তাই শাব্দিক পরিচয়।

কিন্তু বাঙালি আত্মিক পরিচয়। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি জাতিগত পরিচয়ে ভারতীয় ও আত্মিক পরিচয়ে বাঙালি।

কাজেই এই দুই বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাদৃশ্য যেমন বৈশাদৃশ্যও তেমনি প্রকট।

তাই আমাদের জাতিগতভাবে আমাদের আত্মপরিচয়কে সংরক্ষণ করবার, উন্নীত করবার চৈতন্যে উদ্বোধিত হতে পারলে আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবার কোনো কারণ নেই। কিন্তু তবুও আমরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির অদূরদর্শিতা ও নানাবিধ ক্ষুদ্রতার কারণ।

এই ক্ষুদ্রতা চিন্তা-চেতনার ও লোভ-লালসা প্রসূত রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের জন্যই দূরীভূত হচ্ছে না।

যেদিন আমাদের সকলের রাজনৈতিক দল মত নির্বিশেষে শুভবুদ্ধির উদয় হবে কেবল সেদিনই এই ক্ষদ্র্রতাকে আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব, না হলে নয়।

আমাদের আত্মপরিচয় : হায়াৎ সাইফ

রাষ্ট্র শক্তিকে কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে যে সমস্ত রাজনীতির প্রধান বাহন ধর্ম সেখানে কেবলমাত্র মানুষকে তার মনুষ্যত্বের পরিচয়ে নয় বরং তার ধর্ম-পরিচয়ে চিহ্নিত করা হয়।

অথচ মানুষের অন্তর্গত সত্তার যে মৌলিক চরিত্র তা তার অনুসৃত ধর্মের দ্বারা সৃষ্ট হয় না। মানুষ হাসে, কাঁদে, উৎফুল্ল হয়, বিষাদগ্রস্ত হয় এবং ভালোবাসে।

শুভবুদ্ধি ও ভালোবাসা মানুষকে স্বস্তির দিকে টানে, শান্তির দিকে টানে।

অন্যদিকে, বিদ্বেষ ও জিঘাংসা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিকে, শ্রেণী থেকে শ্রেণীকে,

এক জনগোষ্ঠী থেকে আরেক জনগোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্ন করে, বিশ্লিষ্ট করে এবং প্রকৃতপক্ষে মানব সভ্যতাকে আক্রান্ত করে।

পরম করুণাময় ধর্ম অবতীর্ণ করেছিলেন মানুষেরই জন্য। এ দেশেরই দুই শ্রেষ্ঠ সন্তানের একজন বলেছিলেন, ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য তাহার ওপরে নাই’।

আরেকজন বলেছিলেন, ‘মানুষ এনেছে গ্রন্থ/ গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন।’

আমাদের বাউলের গান, ভাওয়াইয়া ভাটিয়ালির আকুতি, মেঠো বাঁশির উদাস করা সুর এ সমস্তই আমাদের নাগরিক চেতনায় বর্তমান কালের ধ্যানধারণার বহিঃপ্রকাশসহ—

যে মূলধারার সংস্কৃতিকে বহন করে চলেছে তা উচ্চ কণ্ঠে বলছে—সবার ওপরে মানুষ সত্য তাহার ওপরে নাই।

আমাদের সাংস্কৃতিক ও আর্থসামাজিক তাবৎ কর্মকাণ্ড যেদিন সত্যিকার অর্থে এই মূলধারার বিশাল স্রোতে সবেগে প্রবাহিত হবে মানুষের জন্য মানুষের কল্যাণে—

কেবল সেদিনই বলতে পারব ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি/

কী অপরূপ রূপে দেখা দিলে জননী’ এবং সেদিনই দূরীভূত হবে সমস্ত সংকট সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক।

আপাতত সেই দিনের জন্য হয়তো কিছুকাল অপেক্ষা করতে হবে।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন...