shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

উশ্চারণ বিভ্রাট

Retail talk all around
How many problems I am in
খুচরো কথা চারপাশে

উশ্চারণ বিভ্রাট

সুনীল শর্মাচার্য

উশ্চারণ বিভ্রাট

আজ সকালে ঘুম ভাঙলো রবীন্দ্রনাথের গান শুনে। পাশের অনুষ্ঠান বাড়িতে তারস্বরে মাইক্রোফোন বাজছিল। শয্যা ছেড়ে উঠলাম। প্রভাতকালীন কাজকর্ম সেরে টুকিটাকি দিনের ফিরিস্তি সাজিয়ে নিলাম মনে মনে। কর্মক্ষেত্রে গেলাম।

অফপিরিয়ডে তারাপদ রায়ের কাণ্ডজ্ঞানে ‘উশ্চারণ’ পড়ে বেশ মজা পেলাম। হঠাৎ এক আবৃত্তির অনুষ্ঠানে এক আবৃত্তিকারের কথা মনে পড়ে গেল। আবৃত্তিকার কখনোই র-ফলা বলতে পারেন না। তিনি বলেন—পত্যহ, পতিদিন!

একটা গল্প মনে আসছে।

পাড়াগাঁর স্কুলে পরিদর্শক এসেছেন। একজন ছাত্র তারস্বরে পড়ে যাচ্ছে—‘পেয়ার’ মানে ‘পার্থনা’! শিক্ষক মশায় ফিসফিস করে বললেন, র-ফলাটা কোথায় গেল! ছাত্র থতমত খেয়ে পুনরায় পড়তে শুরু করলো—গ্রড মানে ভ্রগবান! তাই শুনে পরিদর্শক চেঁচিয়ে উঠলেন—ব্রাঃ ব্রাঃ ব্রেশ ব্রেশ ভ্রালো থাকো।

সাধারণ্যে যে সমস্ত ত্রুটি প্রায়ই দেখি সেগুলি হলো—মুখস্ত, হঠাৎ, পাকিস্থান। তবে ব্যবস্থা, খেলনা, লেজ—এগুলির সঠিক উচ্চারণ কী—তা ঈশ্বর জানেন। লেজকে আজকাল ল্যাজ বানানেও লেখা হয়! বয়স-এর উচ্চারণ ও লিপি এখন যেমন ‘বয়েস’।

শ্রদ্ধেয় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের একটি লেখাতে দেখেছি, তিনি একজন ছাত্রকে ইংরেজি পড়াতেন। তিনি যতই শেখান—F-O-X ফক্স মানে খেঁকশেয়াল; ছাত্র ততই বলে, ফস্ ক মানে খেঁকখেয়াল! শিক্ষকের ধমকে ছাত্র একবার যদি বলে—ফক্স মানে খেঁকখেয়াল! তো পরেরবারই ব’লে বসে—ফস্ কে  মানে খেঁশখেয়াল!

কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় একবার একজন ফরাসির সামনে শতবার ‘রঁ্যবো’ বলেও বোঝাতে পারেননি। শেষকালে জানা গেল—উচ্চারণ নাকি রঁ ্যবো নয়; প্রকৃত উচ্চারণ বাংলা অক্ষরে লিখে ওঠা কঠিন। তবে ‘হ্র্যাম্বো’ লিখলে নাকি কিছুটা কাছে যাওয়া যায়।

তাহলেই বুঝুন, সেক্ষপিয়ার-মোক্ষমুলার ভুল, আর শেকস্ পিয়ার—ম্যাক্সমুলার উচ্চারণ ঠিক; কী করে জোর-গলায় বলি! পরিমল গোস্বামী তাঁর ‘এককলমী’র কলমে এই উচ্চারণ-বিভ্রাট নিয়ে লিখেছিলেন।

বৈজ্ঞানিক সি ভি রামনের নামকে প্রায়শই ‘রমন’ লেখা হয় দেখে ‘এককলমী’ এতদূর রেগে ছিলেন যে, বলেছিলেন, এর পর হয়তো কোনোদিন ‘মৈথুন’ লেখা হবে।

উচ্চারণের দোষে মানুষের ব্যক্তিত্বের হানি হয়, এটা বিশ্বাসযোগ্য। নীললোহিত যেমন টেলিফোনে বিশুদ্ধ ‘বাঙাল’ উচ্চারণ শুনে ভাবেন, লোকটি হয়তো ঢিলেঢালা স্বভাবের মানুষ!

তেমনি, একদিন কলকাতায় দেখেছি—একজন স্যুট পরিহিত, লম্বা-চওড়া‌‌ সাইজের জবরদস্ত ভদ্রলোক রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্যাক্সি ডাকেন—টেঁস্ কি, টেঁসকি, ইধার আঁও, তা শুনে আমার কী অবস্থা! ভাবতেও বিভ্রাটে পড়তে হয়!

…………………

পড়ুন

কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের একগুচ্ছ কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের ক্ষুধাগুচ্ছ

লকডাউনগুচ্ছ : সুনীল শর্মাচার্য

সুনীল শর্মাচার্যের গ্রাম্য স্মৃতি

গল্প

উকিল ডাকাত : সুনীল শর্মাচার্য

এক সমাজবিরোধী ও টেলিফোনের গল্প: সুনীল শর্মাচার্য

আঁধার বদলায় : সুনীল শর্মাচার্য

প্রবন্ধ

কবির ভাষা, কবিতার ভাষা : সুনীল শর্মাচার্য

ধর্ম নিয়ে : সুনীল শর্মাচার্য

মুক্তগদ্য

খুচরো কথা চারপাশে : সুনীল শর্মাচার্য

কত রকম সমস্যার মধ্যে থাকি

শক্তি পূজোর চিরাচরিত

ভূতের গল্প

বেগুনে আগুন

পরকীয়া প্রেমের রোমান্স

মুসলমান বাঙালির নামকরণ নিয়ে

এখন লিটল ম্যাগাজিন

যদিও সংকট এখন

খাবারে রঙ

সংস্কার নিয়ে

খেজুর রসের রকমারি

‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ পাঠ্যান্তে

মোবাইল সমাচার

ভালো কবিতা, মন্দ কবিতা

ভারতের কৃষিবিল যেন আলাদিনের চেরাগ-এ-জিন

বাঙালিদের বাংলা চর্চা : খণ্ড ভারতে

দাড়ি-গোঁফ নামচা

নস্যি নিয়ে দু-চার কথা

শীত ভাবনা

উশ্চারণ বিভ্রাট

Spread the love