shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

করোনায় দেশে আরো ৪৬ জনের মৃত্যু

coronavirus
coronavirus-update

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনায় দেশে আরো ৪৬ জনের মৃত্যু, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২২৬ জন।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট ২০২০) শনাক্ত ২ হাজার ২৬৫ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ৬২৫ জন হলো।

আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ৪৬ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৯০৭ জনে দাঁড়াল।

আইইডিসিআরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো ২ হাজার ৯৫২ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে।

তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬৭ জন হয়েছে।

আজ বিকালে সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৯১টি ল্যাবে ১১ হাজার ৩৫৬ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হল ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৫৫টি।

২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৪ শতাংশ ।

শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৬০ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৪৬ জন, নারী ১০ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ৪৫ জন ও বাড়িতে ১ জন রোগী মারা গেছেন।

মৃত ৪১ জনের মধ্যে ৩৩ জনের বয়স ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে।

এ ছাড়া ৬ জনের বয়স ৫১-৬০ বছরের মধ্যে, ৬ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১জনের বয়স ছিল ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ২৭ জন ঢাকা বিভাগের, ৫ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৮ জন রাজশাহী বিভাগের, ১ জন খুলনা বিভাগের,

২ জন বরিশাল বিভাগের, ২ জন সিলেট বিভাগের, ১ জন রংপুর বিভাগের বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

যারা মারা গেছেন, বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণ

এ পর্যন্ত যারা মারা গেছেন, তাদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ষাটোর্ধ্ব রোগীদের মৃত্যুর হার ৪৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ,

৫১ থেকে ৬০ বয়সী রোগীদের মৃত্যুর হার ২৭ দশমিক ৮২ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী রোগীদের মৃত্যুর হার ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ,

৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী রোগীদের মৃত্যুর হার ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বয়সী রোগীদের মৃত্যুর হার ২ দশমিক ৪১ শতাংশ,

১১ থেকে ২০ বছর বয়সী বয়সী রোগীদের মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ ও শুন্য থেকে ১০ বছর বয়সী রোগীদের মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ।

এলাকাভিত্তিক বিশ্লেষণে ঢাকা বিভাগের মৃতের হার ৪৮ দশমিক ১৪ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ২২ দশমিক ২২ শতাংশ,

রাজশাহীতে ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ, খুলনায় ৮ দশমিক ১১ শতাংশ, বরিশাল বিভাগের মৃতের হার ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ,

সিলেটে ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ, ময়মনসিংহে ২ দশমিক ১২ শতাংশ, রংপুরে ৪ দশমিক ১২ শতাংশ।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। ১৮ মার্চ প্রথম করোনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

আরো নির্দেশনা

যে কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ থাকলে কাছের পরীক্ষাকেন্দ্রে নমুনা পরীক্ষা করাবেন।

যত পরীক্ষা করা হবে, ততই করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

তাই সামান্য জ্বর বা কাশিকে অবহেলা করবেন না।

তা ছাড়া কোনো কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেও নমুনা পরীক্ষা করাবেন।

আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে। সঠিকভাবে মাস্ক পরুন। সব বিধি মেনে চলুন।

সবাই সচেতন না হলে যে কেউ যে কোনো সময় আক্রান্ত হতে পারেন।

বিশেষ করে, রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করুন। নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন। পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।

রোগপ্রতিরোধ করতে সতর্ক থাকুন, সচেতন থাকুন। নিজের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলুন।

জনসমাগম এড়িয়ে চলুন, সাবান-পানি দিয়ে বারবার হাত ধোয়ার নিয়ম মানুন।

নিয়মিত ব্যায়াম, ভালো টিভি নাটক, সিনেমা দেখে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখুন।

প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। মহামারির সময় পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ।

যে কোনো ‍দুর্যোগে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হোন।

নারীর প্রয়োজনের প্রতি বিশেষ অগ্রাধিকার দিন। মানসিকভবে উজ্জীবিত রাখার পথ নিজেকে খুঁজে নিতে হবে।

মায়ের দুধে করোনা ছড়ায় না, তাই শিশুকে বুকের দুধ পান করান। দুধ পান করানোর সময় মায়েরা মুখে মাস্ক পড়ুন।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন...