অনলাইনে সাশ্রয়ী দামে ‘ঘরে বসে স্বস্তির পেঁয়াজ’

1 0
Read Time:6 Minute, 12 Second
onion

অন্যান্য পণ্যের মতো এখন পেঁয়াজও ক্রেতারা ঘরে বসে কিনতে পারছেন। অনলাইনে সাশ্রয়ী দামে ই-কমার্সের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির ধারণাটি নতুন।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কয়েকদিন ধরে সাশ্রয়ী মূল্যে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। যারা ট্রাক সেল থেকে কিনতে পারছেন না, তাদের জন্য টিসিবি ই-কমার্সের সহযোগিতায় পেঁয়াজ বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

গত রোবাবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২০) থেকে শুরু হয়েছে টিসিবির ‘ঘরে বসে স্বস্তির পেঁয়াজ’ কর্মসূচি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) আয়োজনে জুম প্ল্যাটফর্মে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২০) দুপুর থেকে কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা দামে এই পেঁয়াজ কেনাকাটা শুরু হয়। এতে ক্রেতাদের প্রচুর সাড়া মিলেছে। তবে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দকৃত পেঁয়াজ খুবই কম বলে জানান বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান।

প্রসঙ্গত, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের ই-কমার্সের মাধ্যমে পেঁয়াজ সরবরাহে এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে দেশের পাঁচটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩৬ টাকা মূল্যে প্রত্যেক ক্রেতার কাছে তিন কেজি করে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। পরে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও পেঁয়াজের পরিমাণ বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয় ।

প্রাথমিকভাবে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাসিন্দারা আটটি (পরে যুক্ত আরো তিনটি) অনলাইন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের পেঁয়াজ কিনতে পারছেন।

তবে একজন ক্রেতা সপ্তাহে একবারই সর্বোচ্চ তিন কেজি পেঁয়াজের অর্ডার দিতে পারবেন, প্রতিটি অর্ডারের ডেলিভারি মূল্য ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা। সে হিসেবে তিন কেজি পেঁয়াজ বাসা পর্যন্ত আসতে ক্রেতার খরচ দাঁড়াবে ১৩৮ টাকা।

এর মধ্যে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২০) বিকাল থেকে চালডাল, স্বপ্ন অনলাইন, সিন্দাবাদ ডটকম, সবজিবাজার ও যাচাই—নামে পাঁচটি ই-কমার্স সাইটের অনলাইনে অর্ডার নেওয়া শুরু হয়। পরদিন বিডিসোল, একশপ ও উইন্ডি—আরো তিনটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ই-কমার্সের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির ধারণাটি নতুন। এ ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আসতে পারে। আমরা থেমে থাকব না, সমস্যার সমাধান করে এগিয়ে যাব।

তিনি আরো বলেন, দেশের অভ্যন্তরে দেশি ও আমদানি করা পর্যাপ্ত পরিমাণের পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ আসছে। আরো ১০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেবে ভারত সরকার। মিয়ানমার ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়ে গেছে।

ই-ক্যাবের জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম শোভন জানান, রোববার বিকেল থেকে ৫টি প্রতিষ্ঠান পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে—যা ঢাকা ও চট্টগ্রামে সীমাবদ্ধ থাকছে। আপাতত এক অর্ডারে সর্বোচ্চ তিন কেজি পেঁয়াজ দেওয়া হলেও, ভবিষ্যতে তা বাড়িয়ে ৫ কেজি করা হবে।

তিনি বলেন, একজন ক্রেতা এক সপ্তাহে একবার অর্ডার দিতে পারবে, মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা দিয়ে যাচাই করা হবে, যেন একই ক্রেতা একাধিকবার অর্ডার দিতে না পারে।

গুদামঘর, ডেলিভারি ক্যাপাসিটি, ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও ই-ক্যাবের সুপারিশ বিবেচনায় টিসিবির ডিলারশিপ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরিবেশক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আপাতত দৈনিক আধা টন হিসাবে তিনদিন পর পর টিসিবি থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহ করতে পারবে। অনলাইনে ১০ হাজার টন পেঁয়াজ বিক্রি প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে—যা বাড়তে পারে।

পুরো প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, টিসিবি ও ই-ক্যাব একটি অভিন্ন বিধিমালা বা এসওপি প্রণয়ন করেছে—যা মেনে চলতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বাধ্য থাকবে।

টিসিবি সূত্র জানায়, টিসিবির নিয়মিত কার্যক্রম চলমান থাকবে। প্রতিদিন ঢাকায় মোট ৮০টি গাড়িতে করে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। ঢাকা ছাড়াও সারা দেশে মোট ৩২৫টি গাড়িতে করে পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি। সেখানে কেজিপ্রতি ৩০ টাকা করে বিক্রি করা হবে।

—শুভ বিশেষ প্রতিবেদক

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleppy
Sleppy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *