shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ১২তম পর্ব

Little Magazine
Little Magazine

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ১২তম পর্ব

জ্যোতি পোদ্দার

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ১২তম পর্ব

দশ

শেরপুরে ছোটদের কাগজ তুলনামূলকভাবে কম হলেও, পাতাবাহার খেলাঘর আসর দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্টিশীল কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পাতাবাহারের প্রকাশনা ‘প্রতিধ্বনি’ সম্পাদক তুলশী নাগ। পঞ্চদশ সন্মেলন ’৮৯ উপলক্ষ্যে প্রকাশিত। প্রচ্ছদ ও ব্লক করেছেন বিজন কর্মকার।

সত্তর আশির দশকে টাউন শেরপুরে যে সকল সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে, তার প্রায় সবগুলো হয় রণজিত নিয়োগীর প্রচ্ছদ কিংবা বিজন কর্মকারের কাঠ খোদাইয়ের কাজ। তিনি ‘প্রবাহ’, ‘মানুষ থেকে মানুষে’, ‘প্রতিধ্বনি’ কিংবা তার নিজের কাগজ ‘চেতনা’য় ব্লকে প্রচ্ছদ করেছেন।

সেই সময় লেটার প্রেসের যুগে কাঠের ব্লক করা এবং স্থানীয়ভাবে ছাপা কষ্টসাধ্য কাজ ছিল। যদিও ‘প্রতিধ্বনি’র প্রচ্ছদের রঙের বিন্যাস তেমনি করে ফুটে ওঠেনি।

তবে বিজনের পেন্সিল স্কেচ নিঁখুত। স্কেচ তার রক্তে খেলা করে। তাঁর সন্তান যেমন তার উত্তরাধিকার বহন করছে, তেমনি তিনি নিজেও। তাঁর পিতা মোহিনী মোহন কর্মকারও পেন্সিল স্কেচে ময়মনসিংহের উত্তর জনপদে একজন দক্ষ চিত্রশিল্পী ছিলেন। যদিও মোহিনী মোহনের কোনো শিল্পকর্ম বিজন সংরক্ষণ করতে পারেননি।

সময়ের দাপটে ক্ষয়ে ক্ষয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ‘চেতনা’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৭ সালে। বিজন কর্মকারের প্রযত্নে।

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ১২তম

‘জন্মের পরই নাম হয়েছে আমার

আমি গণ বাংলার মানচিত্র’

(মানচিত্র : বিজন কর্মকার)

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ১২তম

চেতনায় আরো লিখেছেন—এমেলী পারভেজ, গৌরি শংকর চক্রবর্তী, দেবেশ চন্দ্র দাস, মো. আবু তাহের প্রমুখ। বিজন কর্মকার পেশাগত কারণে স্থানান্তর হবার কারণে আর কোনো কাগজ করেননি। তবে জড়িয়ে ছিলেন ‘কৃষ্টি প্রবাহ গোষ্ঠী’র সাথে।

পরবর্তী সময়ে তবলবাদক বিজন পাতাবাহার সংগঠিত কাজে যুক্ত হয়ে পড়েন গত শতকের সাতের দশকের মাঝামাঝির দিকে। পাতাবাহারের জন্ম স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ১৪ অক্টোবর। দুলাল দে বিপ্লবের প্রযত্নে।

দুলাল গত শতব্দীর ছয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকেই সৃষ্টিশীল কাজে জড়িয়ে পড়েন। বিজন কর্মকার কথা প্রসঙ্গে বলছিলেন, ‘দুলাল জি কে পাইলটের ছাত্র। সৃষ্টিশীলতার উল্লাসে উন্মাদ। দারুণ বক্তৃতা করতে পারতেন।’ শুরুতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়লেও, ছাত্র ইউনিয়নের ভেতর খুঁজে পেলেন ব্যক্তি সমাজ রূপান্তরের মতার্দশ।

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ১২তম

‘পাখিটাকে ছেড়ে দাও।

বন্ধ খাঁচার আগল খুলে

সুনীল আকাশে জীবনের

অন্বেষা যেখানে

ওতো সেখানে ক্লান্ত নয় এতটুকু

অথচ এখানে ক্লান্তি

আহত বেদনায়

তোমার সুখের অনলে

(পাখি : বিপ্লব দে দুলাল)

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ১২তম

এটি বিপ্লব দে দুলালের মুক্তিযুদ্ধে থাকাকালীন সময় লিখিত কবিতা। তারিখ ৩০/৮/৭১। রণাঙ্গনে দুলাল ডায়েরিতে প্রতিদিন কিছু-না-কিছু লিখতেন। তাই কিছু অংশ ‘অঙ্গিকার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

‘বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেই ছেলেটিকে আমি ভুলিনি—কোনোদিন ভুলব না। দুরন্ত তরুণ। সারা চোখে-মুখে কোমল লাবণ্য। ভীষণ কোমল। প্রশান্তির হাসি ওর মুখে। ও আমার কথার উত্তর দিচ্ছিল…’১২

পাতাবাহার থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন স্মরণিকায় শহীদ দুলাল দে’র চিঠি ও ডায়েরির কিছু অংশ প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ছড়িয়ে রয়েছে দুলালের কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ। দুলাল দে’র প্রতিষ্ঠিত পাতাবাহার নিশ্চয় তাঁর সাহিত্যকৃত্য প্রকাশ করবে।

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ১২তম

ধন্য রাজা পূণ্য দেশ

সুখে আছি আমরা বেশ

খাইবা না খাই

নেইকো কোনো দ্বেষ

আমরা আছি সুখেই বেশ

ধনী গরীব। কিংবা দুখী

সবাই আমরা ভীষণ সুখী

সেই রাজাটি ভীষণ লাকী

সবার চোখে দিচ্ছে ফাঁকি

রাজার গুণে নেই কোনো কূল

ভেল্কি বাজির। সরষে ফুল।

(কোনো এক রাজার রাজ্যে : উদয় শংকর রতন)

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ১২তম

ভোরের বেলায় পাখির ডাকে

ভেঙেছে আজি ঘুম

বেরুয়ে দেখি সবাই এখন

নীরব নিঝুম।

চুপটি করে ফুল তুলিতে

যাবো আমি আজি

চাঁদরখানা জড়িয়ে ধরে

ভুতুম পেঁচা সাজি।

(ফুল তুলি : তুলশী নাগ স্বপন)

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ১২তম

এ ছাড়া লিখেছেন—সৌমিত্র শেখর, কমল চক্রবর্তী, শুকল সরকার প্রমুখ। তবে আমাদের প্রত্যাশা : দুলাল দে’র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা লেখাগুলো সংগঠিত করে মলাটবদ্ধ করা, যেন এ-সময়ের পাঠক আরেকটু বিপ্লবকে জানতে পারে। বিপ্লব প্রতিরোধযুদ্ধে নিহত হন ১৯৭৫ সালে।

(চলবে)

…………………

পড়ুন

কবিতা

রাংটিয়া সিরিজ : জ্যোতি পোদ্দার

তিলফুল : জ্যোতি পোদ্দার

জ্যোতি পোদ্দারের কবিতা

প্রবন্ধ-গবেষণা

টাউন শেরপুরে প্রথম রবীন্দ্রজয়ন্তী

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা

১ম পর্ব । ২য় পর্ব । ৩য় পর্ব । ৪র্থ পর্ব । ৫ম পর্ব । ৬ষ্ঠ পর্ব । ৭ম পর্ব । ৮ম পর্ব । ৯ম পর্ব । ১০ পর্ব । ১১তম পর্ব । ১২তম পর্ব

Spread the love