শনিবার, মার্চ ৬সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়...

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ৩৩তম পর্ব

1 0
Read Time:8 Minute, 18 Second
Little Magazine

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ৩৩তম পর্ব

জ্যোতি পোদ্দার

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ৩৩তম পর্ব

তেত্রিশ

‘ক্ষয়’ (২০১০) সম্পাদক সুরঞ্জন ঘোষ। প্রচ্ছদও তার। ‘ক্ষয়’ আমাদের ভেতরে-বাইরে; সারাঅঙ্গে’। সম্পাদক লিখেছেন, ‘জাতীয় জীবন থেকে শুরু করে ব্যক্তি জীবন পর্যন্ত মানবাত্মার ক্ষয় আজ লক্ষণীয়।’

এই ক্ষয়ের রক্ত ক্ষরণ নিয়ে সুরঞ্জন বেশিদিন মাঠে থাকেননি। কাগজের পরবর্তী সংখ্যা আর আলোর মুখ দেখেনি। যদিও পরবর্তী সময়ে সুরঞ্জন ঘোষ অপরাপর সাংস্কৃতিক কর্মতৎপরতায় নিজেকে যুক্ত রেখেছে। গড়ে ব্যান্ড দল ‘নকশাতীত’।

‘বিন্দু’ স্বজন বিবাগীর কাগজ। প্রচ্ছদ করেছেন সুরঞ্জন ঘোষ, আবার কখনো কাজী মৃনাল। পেনসিল স্কেচের প্রচ্ছদ। সম্পাদক স্বজন লিখেছেন, ‘প্রত্যেক মানুষ এবং মানুষের নিজস্ব চিন্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে ব্যক্তিগত সংগঠন।’ ব্যক্তি নিজেই একটি সংগঠিত রূপ। বিন্দুতে লিখেছেন—সুমন দাস রানা মৃধা, রত্না কর, অবনী অনিমেষ-সহ আরো অনেকেই।

.

‘উজ্জ্বল সময়ের আগে

আমরা কেউ হারিয়ে যাবো না।’

(হারিয়ে যাবো না : রনজিত নিয়োগী)

.

‘স্পন্দন’ (২০১০) সম্পাদক মেহেদী আহসান ও স্বজন বিবাগী। কবি সংসদ শেরপুর জেলা শাখার ব্যানারে প্রকাশিত। শহিদ সংখ্যা। নিয়মিত প্রকাশিত হবে এমন প্রতিশ্রুতি কাগজে উচ্চারিত হলেও, একটিতে স্থির হয়ে গেল মেহেদী আর স্বজনের ‘স্পন্দন’।

এখানে একটি কথা না-বললে চলছে না, স্থানিক তরুণেরা পূর্বজ কবি লেখকদের কাজকর্ম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী নয় যেমন, তেমনি পূর্বজদের নানা তৎপরতাও হাজির নেই। নেই ছোটকাগজের সংরক্ষণস্থল। এত এত সাহিত্য পরিষদ বা সংগঠন শেরপুরে হয়েছে যেমন, তেমনি ঝরে গেছে অল্পদিনে।

এখানকার সংগঠকেরা বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের কোনো ব্যবস্থা রাখেননি। যদি এই ব্যবস্থা থাকত, তবে মেহেদী আর স্বজনেরা ‘স্পন্দন’ নামে তাদের পত্রিকার নাম রাখত না।

গত শতাব্দীর নয়ের দশকে গঠিত শেরপুর সাহিত্য পরিষদের পত্রিকার নাম ছিল ‘স্পন্দন’। সম্পাদক ছিলেন অগ্রজ কবি আবদুর রেজ্জাক। একই স্থানিকে একই নামে পত্রিকা বের করা দৃষ্টিকটু। অগ্রজের প্রতি অসন্মান। যদিও শেরপুর সাহিত্য পরিষদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে কাগজ সম্পাদনা করেছেন। যেমন ১৪১০ সালের বৈশাখ সংখ্যার নাম ছিল ‘স্মরণিকা’।

‘আত্মসচেতন মানুষ বুঝতে পারে বাংলা শুধু একটি ভাষা নয়—একটি দেশ, একটি জাতি, কৃষ্টি, একটি সংস্কতি ও একটি ঐতিহ্য।’ সম্পাদক ওমর ফারুক তাঁর সম্পাদিত ‘দেশের কথা’ সাহিত্যপত্রের শহীদ সংখ্যার সম্পাদকীয়। ‘দেশের কথা’ যাত্রা শুরু ২০০৪। শেরপুরের বরাটিয়া থেকে প্রকাশিত। মূলত দিবসভিত্তিক চর্চা।

১৯৯৯ সালে সুমন সাজ্জাদের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘এই প্রান্তের সময় স্রোত এবং অন্যান্য’। সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে নামটি বড়। ডাকার পক্ষে কঠিন। এক ফর্মার কাগজ। ইউনুস প্রেস থেকে ছাপা। সুমন সাজ্জাদ যে সম্পাদকীয় লিখেছে তা সম্পূর্ণ তুলে দিচ্ছি। ভাব-ভাবনার জায়গা থেকে সুমনের বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা এখনো হাজির।

‘ধর্ম জানোয়ারদের লাফালাফি যখন চরমে, কবির গর্দান যখন কুড়োলের নিচে, ধর্মের মিথ্যে বুলিতে কবির কবিতা যখন ছুরিকাঘাতেমৃত, তখন এ.প্রা.স. স্রো.এ.অ.’র আত্মপ্রকাশ শুধুই দ্বিধার পাহাড় উপড়ে ফেলার জন্যে বাকদ্বন্দ্বে নয়, ভাবনাদ্বন্দ্বে নিজেকে সজাগ করতে; এর পরিপুষ্ট এবং সৌন্দর্য মণ্ডিতকারণ—ভাবনাই মানুষের সংস্কারে অগ্রগন্য; সংকুচিত আধার থেকে সরে আসার একমাত্র দেবযান এই পরিশীলিত ভাবনা।

ধূর্ত, ছলচাতুরিপূর্ণ, অনিষ্টাশঙ্কনীয় ভাবনার তলদেশে বিপর্যস্ত এক অতিশয় বদমাশ—পরীক্ষিত সত্যের কাছে পযুর্দুস্ত ত্বরাক্রান্ত চোখে আলোতে বুঁজে আসে পরিশীলিত সত্যও মার্কাবাজ, পলায়নবাজ তথাকথিতদের ব্যবচ্ছেদে অংশ নেয়; ব্যবচ্ছেদে যে মসিপাত তাতে যে লুকানে বিস্ময়, তার জন্য আমাদের উদগ্রীব দৃষ্টি এবং এই পূর্বাপর প্রয়াস।’

এই সংখ্যায় লিখেছেন—রবীন পারভেজ, বিভূতিভূষণ মিত্র, সুমন সাজ্জাদ ও সফিউল আজম। আজম কোরিয়ার কবি টেজিন পার্কের একগুচ্ছ কবিতা অনুবাদ প্রকাশ করেন।

সফিউল আজম ইংরেজিতে লিখেন। তাঁর প্রকাশিত বই : Impasse, In love with a gorgon, Safe under water. বাংলায় যে কটি কবিতা লিখেছেন—তা নিয়ে প্রকাশ করেছেন এক ফর্মার কবিতার বই ‘তবু মনে রেখো।’

সফিউল আজমের কবিতা সম্পর্কে Sebastien Doubinsky লিখেছেন, ‘In this beautiful collection (safe under water) Bangladeshi poet Sofiul Azam explores the torments of the soul in a unique blend of Asian lyricism and Western poetical tradition, A voice of his own, Sofiul Azam is truly one of the leading voices of modern Asian poetry.’

সম্পাদক সুমন সাজ্জাদ বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। আর দুই হাতে লিখে যাচ্ছেন। টাউন শেরপুরের এই মেধাবী তরুণ এখন জাতীয় পর্যায়ে আলো ছড়াচ্ছে। ‘এই প্রান্তের সময় স্রোত এবং অন্যান্য’ একটি সংখ্যাই প্রকাশিত হয়েছে।

(চলবে)

…………………

পড়ুন

কবিতা

রাংটিয়া সিরিজ : জ্যোতি পোদ্দার

তিলফুল : জ্যোতি পোদ্দার

জ্যোতি পোদ্দারের কবিতা

প্রবন্ধ-গবেষণা

টাউন শেরপুরে প্রথম রবীন্দ্রজয়ন্তী

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা

১ম পর্ব । ২য় পর্ব । ৩য় পর্ব । ৪র্থ পর্ব । ৫ম পর্ব । ৬ষ্ঠ পর্ব । ৭ম পর্ব । ৮ম পর্ব । ৯ম পর্ব । ১০ পর্ব । ১১তম পর্ব । ১২তম পর্ব । ১৩তম পর্ব । ১৪তম পর্ব । ১৫তম পর্ব । ১৬তম পর্ব । ১৭তম পর্ব । ১৮তম পর্ব । ১৯তম পর্ব । ২০তম পর্ব । ২১তম পর্ব । ২২তম পর্ব । ২৩তম পর্ব । ২৪তম পর্ব । ২৫তম পর্ব । ২৬তম পর্ব । ২৭তম পর্ব । ২৮তম পর্ব  । ২৯তম পর্ব । ৩০তম পর্ব । ৩১তম পর্ব  । ৩২তম পর্ব । ৩৩তম পর্ব

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

২ thoughts on “শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ৩৩তম পর্ব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *