shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ৮ম পর্ব

Little Magazine
Little Magazine

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ৮ম পর্ব

জ্যোতি পোদ্দার

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ৮ম পর্ব

ছয়

কথা হচ্ছিল, ‘প্রবাহ’ নিয়ে। একটু ফ্ল্যাশ ব্যাকে দেখে নিলাম দেড়শত বছর আগের শেরপুরকে। ১৯৭৮ সালে নববর্ষ সংখ্যায় সুশীল লিখেন, ‘মফস্বল শহর থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ সংকলন প্রকাশ করা যে কতটুকু কষ্টকর তা ভুক্তভোগীরা বেশ জানেন।

এখানে ভালো প্রেস, ব্লক তৈরির সুবিধা নেই। সবসময় ভালো ছাপার কাগজও পাওয়া যায় না। তার মানে একটি একশো পৃষ্ঠার সংকলন নির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশ করতে হলে অন্তত তিন মাস আগে খেকে তার প্রস্তুতি নিতে হয়।’

এটি ১৯৭৮ সালের বাস্তবতা। বর্তমানে কৃৎকৌশলের অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে। শহর টাউনে ছাপার কাজ খুব অল্প সময়ে করা যেতে পারে। তরুণদের সৃষ্টিশীল আড্ডা টাউন শেরপুরে খুব সন্তোষজনক নয়। ভার্চুয়াল বিশ্বলোকে তরুণদের অবাধ যাপন।

সংগঠন গড়ার প্রবণতা মাঝে মাঝে লক্ষণীয় হলেও, কর্ম তৎপরতা যতটুকু ফেসবুকে ততটুকু সাংগঠনিক তৎপরতায় নয়। গড়ছে আবার ক’দিন পর ঝিমিয়ে পড়ছে। সময়ের যাপনের দিশা, আমার বারবার মনে হচ্ছে, তারা খুঁজে পাচ্ছে না। সময়ের সুর ও স্বরকে সমন্বয় করতে পারছে না।

যদিও তথ্য বিপ্লবের গতিশীল সড়কে আমি-আমরা ছুটছি। দাঁড়াবার সময় নেই। যেন গতিই সব। স্থিতি সময়ের কুহক মাত্র। আর আগের মতো সংগঠিত হবার স্পেস নেই। জীবনযাপনে এনেছে গতির প্রাবাল্য। গ্লোবাল কানেকটিভিটির কারণে কেন্দ্র প্রান্ত ধারণাই পাল্টে যাচ্ছে।

সুশীল মালাকারদের প্রজন্মের সময় ও স্থানিকতা আর আজকের প্রজন্মের সময় ও স্থানিকতার ধারণা ক্রমেই পাল্টে যাচ্ছে। তবে আজকের তরুণ নিশ্চয়ই কালের ধ্বনি আয়ত্ত করে গড়বেন নতুন সময়ের সংগঠন। কঠিক করবে ন কালের দিশা।

প্রবাহে প্রকাশিত কবিতা স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নয়া অনুভবের কবিতা।

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ৮ম পর্ব

ক.

‘একদিন

মাটি ছুঁয়ে বলে ছিলে

এখানে বসত হবে।

মাটিতে কনুই রেখে

পরিপার্শ্বে আমি কোনো অবান্তর বাসনা খুঁজি না।

নতুন আঙ্গিকে খুঁজি শুদ্ধতম তোমার আঙুল

তোমার বুকের তাপে শঙ্খচূড় উষ্ণ ছায়াতাপ।

(বসত : রণজিত নিয়োগী)

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ৮ম পর্ব

খ.

‘এই রকম সমর্পিত জীবন,

এই রকম নিদির্ষ্ট সময়

লোক চক্ষুজনিত আপ্যায়ন

একজন পাখিরও আছে

একজন পাখিও

বুঝেছে ভালোবাসা আমার,

ক্ষুধার পরেও ঠোঁট ছুঁয়েছে গাঢ় গালে।’

(পুনরাবৃত্তি : শাহজাদী আঞ্জুমান আরা মুক্তি)

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ৮ম পর্ব

গ.

‘তোমার হৃদয়ে কি ছড়ানো নেই সবুজ বাতাস?

নক্ষত্রের নীল চোখে তুমি দেখো না-কি

নিটোল আকাশ?’

(সবুজ বাতাস : রেহানা পারভীন হাসি)

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ৮ম পর্ব

ঘ.

‘শৈশবে ঠাকুমা’র মুখে এমনি জ্যোৎস্না রাতে

শুনেছি তোমার দেশের গল্প।

মাঝে মাঝে দেখি চাঁদ তুমি মেঘের দেশে

লোকচুরি করে।

তখন আমার হৃদয়

এক অজানা ভয়ে কাঁপন জাগায়।

মনে হয় তুমি হারিয়ে গেলে।’

(মায়াবি : সাবিত্রী কারুয়া)

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ৮ম পর্ব

নববর্ষ সংখ্যাটি গোছালো একটি সাহিত্য পত্রিকা। লেখা নির্বাচনে সম্পাদকের মুন্সিয়ানা লক্ষণীয়। এ ছাড়া আরো লিখেছেন—মুহাম্মদ মুহসীন আলী, আবু আহম্মদ জাফর ইকবাল, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, প্রণিতা কর, কল্যাণী কর্মকার, খালেদা রায়হার রুবী, উদয় শংকর রতন ও মুহাম্মদ আবু তাহের।

গত শতকের আটের দশকের শেষ দিকে কৃষ্টি প্রবাহের কার্যক্রম খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলতে গিয়ে একেবারে থেমে যায়। সম্ভবত শেষ সংকলন (আমার হাতে প্রাপ্ত তথ্য হতে) প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালের একুশে সংকলন। সম্পাদক উদয় শংকর রতন। সভাপতি ছিলেন মো. আবদুর রশীদ।

সর্বশেষ সংখ্যায় লিখেছেন—গঙ্গেশ দে, রবি নিয়োগী, বৃতেন্দ্র মালাকার, রবিন পারভেজ, জীবন চৌধুরি ও মানিক নাগ।

(চলবে)

…………………

পড়ুন

কবিতা

রাংটিয়া সিরিজ : জ্যোতি পোদ্দার

তিলফুল : জ্যোতি পোদ্দার

জ্যোতি পোদ্দারের কবিতা

প্রবন্ধ-গবেষণা

টাউন শেরপুরে প্রথম রবীন্দ্রজয়ন্তী

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা

১ম পর্ব । ২য় পর্ব । ৩য় পর্ব । ৪র্থ পর্ব । ৫ম পর্ব । ৬ষ্ঠ পর্ব । ৭ম পর্ব৮ম পর্ব

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন...