shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

ডাই পিঁপড়ে

Ants

ডাই পিঁপড়ে

সুনীল শর্মাচার্য

ডাই পিঁপড়ে

বাঁশ বনে অ্যা করতে গিয়ে গজার চক্ষু চড়কগাছ। ‘এ রে বাবা, এ্যতো ডাই পিঁপরের মাতা পড়ে আছে ক্যান?’ তারপর সংখ্যার হিসাব গোলমাল হয়ে যায়। ‘এ্যতো পিঁপরে? হাজার হাজার!’ ভয়ে অ্যা শুকিয়ে যায়।

দৌড়ে ঠাকমার কাছে। বলে। শুনে ঠাকমা বলে, ‘ওরা দলে দলে থাকে তো। তাই এক দলের সঙ্গে আরেক দলের দেখা হলিই এমন হয়। মানে যুদ্ধ। এলাকা দখলের যুদ্ধ। তারপর সবাই মইরা যায়। যা, অ্যা করে আয়। ডর নাই—!’

ঋষি পাড়া। হাজারখানেক লোক থাকে। পেশা ধামা-কুলো-খইচালা-পলো-কাঠা—এসব তৈরি করা। বিয়ে, পূজোপাঠে ঢোল-কাশি বাজায়। কেউ কেউ দিনমজুরি করে। পাড়ার চারপাশে বাঁশবন। আম-কাঁঠাল বন। তারপর চারপাশে সবুজ শস্যক্ষেত। ধান ক্ষেত।

হাজারখানেক লোকের মধ্যে গণেশ ঋষি, বিজন ঋষি আর রাবণ ঋষির জায়গাজমি আছে। এই তিনজনই পাড়ার মাথা। পাড়ার সবাই এই তিনজনের কথা মেনে চলে। রাজনৈতিক পালা বদলে পাড়ায় এখন তিন দল। তিন দলের পাণ্ডা তিনজন। গণেশ, বিজন আর রাবণ।

দলাদলিতে এখন এমন অবস্থা যে—কাকা-ভাইপো, মামা-ভাগনে, বাবা-ছেলে—কেউ কারোর সঙ্গে কথা বলে না। পাড়ার সেই মমতা মাখানো আত্মীয়তা এখন রাজনৈতিক বিষবাষ্পে বিষাক্ত। নির্মল বাতাসও দগ্ধ। কেউ কারোর সঙ্গে কথা বললে সন্দেহের চোখে দেখে।

কেউ হয়তো বলে, ‘ও সি-দল, তুই ওর সঙ্গে কথা কস ক্যান?’ ‘ও টি-দল, তুই ওর সঙ্গে কথা কস কেন?’ ‘ও বি-দল, তুই ওর সঙ্গে কথা কস কেন?’

কেউ মারা গেলে শ্মশানে নেবার লোক নেই। সেখানেও দলাদলি। পাড়ার সন্ন্যাসী মার্কা গোবিন্দ ভাবে—‘এটা হলো কি! এভাবে চললে পাড়া শেষ হয়ে যাবে।’ গোবিন্দ নিজে সংসারে থাকলেও, কেমন বাউল বাউল। এক মাস ঘরে থাকে তো তিন মাস বাইরে বাইরে।

বিভিন্ন লোকজন, পরিবেশ দেখে। মন্দিরে শ্মশানে ঘোরে। দু’দিনের দুনিয়ায় এসব দলাদলি, রাজনীতি সে ঘৃণা করে। এসব দেখেশুনে সে দুঃখ পায়। পাড়ার এহেন অবস্থা দেখে সে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। রাজনীতির বাঁশে তারা জর্জরিত।

একদিন পূর্ণিমা রাতে সে পাড়ার কালীমন্দিরে যায়। নিঝুম রাত ভেঙে চিৎকার করে ওঠে : ‘এভাবে বাঁচা যায় না। এভাবে…’

ভোর হলে পাড়াটা পরস্পর রাজনৈতিক ক্রন্দলে উত্তাল হয়ে ওঠে। তিন দল তাদের অধিকার ফলাতে দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়ে। বোমাবাজি। খুন। আর্তনাদ। তারপর চুপ।

যারা ছা-পোষা মানুষ তারা ঘরে খিল এঁটে ছিল। দাঙ্গা থামতেই পাড়া ভরা ক্রন্দন। সেই ক্রন্দনের

শব্দে গজার ঘুম ভেঙে যায়। তারপর দরজা খুলে ছুট। দেখে ডাই পিঁপড়ের মতো কতকগুলি মানুষ

লাশ হয়ে পড়ে আছে। বাঁশ বনের ধারে। ভয়ে আঁৎকে ওঠে গজা! তারপর ছুট।…

…………………

পড়ুন

গল্প

উকিল ডাকাত : সুনীল শর্মাচার্য

এক সমাজবিরোধী ও টেলিফোনের গল্প : সুনীল শর্মাচার্য

আঁধার বদলায় : সুনীল শর্মাচার্য

মুকুন্দ

অনুগল্প

সাতটি মিনি গল্প

প্রচলিত এক শকুনির গল্প

ডাই পিঁপড়ে

Spread the love