shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

দীর্ঘ বন্যা বাড়াচ্ছে সবজির দাম

vegetables

The long flood is raising the price of vegetables

নিজস্ব প্রতিবেদক : সবজির ব্যবসা অনেকটা জুয়া খেলার মতো। বাজার ভালো হলে বিক্রি করে লাভ পাওয়া যায়, খারাপ হলে পচে লোকসান। কেননা বাজার থেকে কেনার পর ভ্যান ভাড়ার সঙ্গে রয়েছে নানা খরচ। অন্যদিকে, দীর্ঘ বন্যা বাড়াচ্ছে সবজির দাম।

দীর্ঘমেয়াদি বন্যা ও বৃষ্টির কারণে দেশজুড়ে বিপুল পরিমাণ সবজি নষ্ট হওয়ায় বাজারে সবজির দামে ঊর্ধ্বগতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। নিত্যপণ্যে অন্যতম উপকরণ সবজির এই উচ্চমূল্য ভোক্তা সাধারণকে ভীষণ বিপাকে ফেলেছে।

দুই মাস ধরে বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ৬০ টাকার ওপরে। কোনো কোনোটির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা। কিছু শীতকালীন সবজি এরই মধ্যে বাজারে আসতে শুরু করলেও, কেজিপ্রতি দাম প্রায় দেড়শ টাকা।

আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২০) রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে দেখা যায়—পটোল, ঢেঁড়সসহ প্রায় সব ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। বরবটি ও বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা; করলা, কচুর লতি, কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি।

এমন পরিস্থিতিতে সবজির পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় নতুন করে সবজি চাষ করা যাচ্ছে না। যেসব এলাকায় বন্যা হয়নি, সেখানে অতিবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সবজির।

এ ছাড়া স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর আর খুলনা, সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণবঙ্গের সবজি রাজধানীতে আনা যাচ্ছে না।

প্রকৃতির বৈরিতার পাশাপাশি খুচরা ব্যবসায়ীদের অতিমুনাফাও শাক-সবজির আকাশছোঁয়া দামের অন্যতম কারণ। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে কেজিতে বাড়ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। ভোক্তারা বলছেন, বাজারে মনিটরিং না থাকায় এ অবস্থা দাঁড়িয়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, সপ্তাহ দুই পর দেশি টমেটো বাজারে আসতে শুরু করবে। বর্তমানে আমদানি করা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের দাম আগের মতোই ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।

বাজারগুলোয় ছোট আকারের ফুলকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। লাউয়ের পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকা। দাম চড়া শাকের আঁটিরও। লাউশাকের আঁটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। লালশাক, মুলাশাক ২০ থেকে ২৫ টাকা। কলমিশাক ২০ থেকে ২৫ টাকা।

গোপীবাগ রেলগেট বাজারের সবজি বিক্রেতা রবিউল আলম বলেন, বাজার থেকে কেনার পর ভ্যানভাড়া দিতে হয় ৬০০ টাকা, সঙ্গে রয়েছে মিনতি খরচ। সব মিলিয়ে পড়তা বেশি পড়ে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি ইমরান মাস্টার বলেন, বর্ষা মৌসুমে সবজির উৎপাদন কম। ফলে পাইকাররা চাহিদামতো পণ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না। আগে একজন পাইকার একটা বাজার থেকে সবজির সব আইটেম সংগ্রহ করতে পারতেন। এখন তাঁকে পাঁচ থেকে সাতটা বাজার ঘুরতে হয়। বন্যা যদি দীর্ঘ না-হতো তবে এত দিনে অনেক নতুন সবজি বাজারে আসত। দামও কমত।

দীর্ঘ বন্যা বাড়াচ্ছে সবজির দাম

আবার বাজার ঘুরে পাইকারি ও খুচরায় সবজির দামে অস্বাভাবিক পার্থক্য দেখা গেছে। আজ যাত্রাবাড়ী আড়তে পটোল বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা পাল্লা (পাঁচ কেজি)। সে হিসাবে কেজি পড়ে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা। যাত্রাবাড়ী থেকে গোপীবাগের দূরত্ব আড়াই কিলোমিটার। এটুকু পথ পাড়ি দিয়েই কেজিতে পটোলের দাম বেড়েছে ২৫ টাকা। পাইকারিতে ঢেঁড়স বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পাল্লা। কেজিপ্রতি দাম ৪০ টাকার কম। কিন্তু খুচরায় বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি।

এভাবে প্রতিটি সবজিতে খুচরা ব্যবসায়ীরা অতিমুনাফা করায় ভোক্তারা বিপাকে পড়েছেন।

Spread the love