shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

নিলেশ ও ছোট্ট ভূত

Little Ghost
Little Ghost
শিশুতোষ উপন্যাস, ধারাবাহিক—পর্ব ১

নিলেশ ও ছোট্ট ভূত

আফরোজা অদিতি

নিলেশ ও ছোট্ট ভূত

নিলেশ বাড়ি ফিরেছে ছয়মাস। মা-বাবাসহ বাড়ির সকলেই খুব খুশি। ছেলে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মায়ের কাছে খবর পাঠিয়েছিলেন নিলেশের বাবা; খবর শোনার পর থেকেই দাদি তো মহাখুশি। তার সেই খুশি এখন পর্যন্ত এতটুকুও ম্লান হয়নি। বুকের মধ্যে ঢ্যাম কুড় কুড় আনন্দ বাজনা বাজে সবসময়! দাদির আরো একটি কারণ আছে খুশি হওয়ার। দাদির কাছ থেকেই নিরুদ্দেশ হয়েছিল নিলেশ। সেই কারণে দাদি সবসময় মনমরা হয়ে থাকতো, নিজেকেই দোষ দিতো; ভালো করে দেখে রাখলে তো হারিয়ে যেতো না তার আদরের নাতি। সারাক্ষণ অশ্রু ঝরতো চোখে; যাক নিলেশ ফিরেছে, দাদির মনে স্বস্তি।

নিলেশ স্কুলে যাচ্ছে; লেখাপড়াও করছে। এবারের ষান্মাসিক পরীক্ষার রেজাল্ট খুব ভালো; ফাস্ট হয়েছে। ক্লাস-টিচার খুব খুশি। খুশি বাবা-মা। নিলেশ ফিরেছে বাড়ি আর তার পরীক্ষা শেষ; সকলে মিলে ঠিক করেছে এই উপলক্ষে বেড়াতে যাবে। বাবা, মা ছুটি পেলেই বেড়াতে যাওয়া হবে। বাবা-মা দুজনেই ছুটির দরখাস্ত করেছে অফিসে, এখন ছুটি মঞ্জুরের অপেক্ষা।

নিলেশ আর সিথি, দুই ভাইবোনের প্ল্যান-প্রোগ্রাম চলছে। কোথায় যাওয়া যায়, কোথায়? গ্রামের বাড়ি? গ্রামে যাওয়া ইচ্ছা ওদের, কিন্তু বাবা-মা রাজি হবে বলে মনে হয় না! কারণ গতবারের কাণ্ড তো কেউ ভোলেনি। তবুও বলে দেখা যেতে পারে। বাবাকে বলতেই রাজি হয়ে যান বাবা; মায়ের সঙ্গে অনেকদিন দেখা হয়নি তার। বাবা রাজি হওয়াতে ওরা খুশি, কিন্তু খুশি নয় মা। তবুও ছেলে-মেয়ের কথা না করতে পারলেন না। ঠিক হলো গ্রামের বাড়িতেই যাওয়া হবে।

বাবা-মা ছুটি পেয়েছে; মোটে চারদিন। গোছগাছ শুরু হয়েছে। যার যার ব্যাগ তার তার গুছিয়ে নিতে হবে। মায়ের কড়া নির্দেশ।

প্রথমে বাসে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সময় কম—সে জন্য একটি মাইক্রোবাস ঠিক করেছে বাবা। বাবা-মা, বোনের সঙ্গে রওয়ানা দিলো নিলেশ। খুব খুশি দুই ভাইবোন। মা, বকুল তারেক সারা রাস্তা গম্ভীর হয়ে বসে থাকলেন, আর চিন্তা করলেন কুয়াটির কথা! গ্রামের বাড়ির ঐ কুয়াটি কিছুতেই বকুল তারেককে স্বস্তি দিচ্ছে না! ঐ কুয়াতেই তো যতো অঘটন ঘটেছিল সেবার। মায়ের কেবলই মনে হচ্ছে, আবার যদি কোনো অঘটন ঘটে। বাড়িতে ঢুকে কুয়াটি দেখতে না-পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন নিলেশের মা।

ঐ কুয়াটি অনেক আগেই বন্ধ করেছেন নিলেশের দাদিমা। ঠিক যে সময় হারিয়ে গেল নিলেশ, সে সময়। ছেলের বউ, ছেলে কেউ তাকে কিছু বলেনি; ছেলে তো বলবেই না, ছেলে বউ-ও বলেনি কিছুই; তবুও দাদিমার মনে খুঁতখুঁত থেকেই গেছে। বউ কিছু বলেনি ঠিক-ই, কিন্তু বউমার চোখে চোখ রেখে তাকাতে পারছিলেন না দাদিমা। বউমার চোখ অনেক কথা বলে দিচ্ছিল তাকে।

রোমেনা বেগমের কিছুই বলার ছিল না; বলার মতো মুখ-ও ছিল না। যদিও নিলেশের হরিয়ে যাওয়াতে তার কোনো হাত-ই ছিল না, তবুও তার বাড়িতে বেড়াতে এসে ঘটনাটি ঘটেছিল বলেই একটা অস্বস্তি কাজ করছিল দাদিমার ভেতরে; তখন তড়িঘড়ি চলে গিয়েছিল ওরা, কিছু বলতে পারেনি দাদিমা।

নাতি ফিরে এসেছে শুনে দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রবল হয়েছিল তবুও যায়নি, ওদের আসতেও বলেনি। এবার এখানে আসবে ওরা সে-কথা ভাবতে পারেননি দাদিমা। গ্রামে আসার কথা নিলেশের মা, বকুল তারেককে বলেননি তিনি; তবুও ওরা আসছে।

রোমেনা বেগম খুব খুশি হয়েছেন, কিন্তু ভয়ে ভয়ে আছেন যেন কোনো অঘটন না ঘটে! এবার যদি কোনো অঘটন ঘটে, তবে নিজেকে আর ক্ষমা করতে পারবেন না; তা ছাড়া এখানে আসতে চাইলেও না করতে চেয়েছিলেন তিনি এবং আসার কথা শুনে না করেছেন দাদিমা; তবুও এসেছে ওরা। সকালে যখন আসার কথা শুনেছেন তখন খুশি হয়েছেন; আর সারাদিন দোয়া-দরুদ পড়েছেন; যেন কোনো অঘটন না ঘটে!

ওদের গ্রামের পাশে একটি নদী আছে। বাবার কাছে ঐ নদীটির অনেক গল্প শুনেছে নিলেশ। একসময় খুব উত্তাল ছিল ঐ নদী। যখন স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়, তখন কানায় কানায় ভরা ছিল নদীটি; বাবা বলেছেন নদীর জল দেখে মনে হতো কেউ ওখানে ডুব দিলে কিংবা একটা পাথর ফেললে উপচে যাবে জল!

সেই সময় দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়েছেন যারা তাঁরা নাকি একটুও ভয় পাননি; ঐ নদী সাঁতরে পার হয়েছেন তাঁরা। ওর বাবা যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেননি, তবে খাবার-অস্ত্র সরবরাহ করে সহযোগিতা করেছেন।

যুদ্ধে অস্ত্র সরবরাহ করার জন্য ঐ নদী এপার-ওপার করেছেন তিনি। কখনো নৌকাতে কখনো সাঁতরে এপার-ওপার করেছেন! বাবার কাছে ঐ নদী আর যুদ্ধের কথা শুনতে শুনতে নদীটি দেখার খুব ইচ্ছা হয়েছে।

গতবার এসে নদীটি দেখার সুযোগ হয়নি, তবে এবারে দেখবেই দেখবে। নিলেশ যুদ্ধ দেখতে পাবে না জানে, কিন্তু নদীটি তো দেখতে পারবে; অনুভব করতে পারবে বাবার তারুণ্য, মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ!

বাবার কাছে শুনেছে নদীটি এখনো আছে। আগের মতো উত্তাল না হলেও আছে। ‘ঐ নদীটি দেখতে পাবে; নদীর পাড় ধরে হাঁটতে পারবে; পা ডুবিয়ে বসতেও পারবে; পা ডুবিয়ে বসে জলে পা দুলিয়ে ভাববে যুদ্ধের কথা, বাবার কথা, মুক্তিযোদ্ধাদের কথা।’ এইসব কথা ভাবতেই কেমন শিহরণ অনুভব করছে নিলেশ।

‘তুমি যে নদীর পাড় ধরে হাঁটার কথা ভাবছো, তুমি কি হাঁটতে হাঁটতে অতোদূর যেতে পারবে?’ কানের পাশ থেকে প্রশ্ন শুনে চমকে ওঠে নিলেশ। এমনভাবে চমকে উঠেছে যে টুল থেকে পড়েই যাচ্ছিল! নিজেকে সামলে নেয়। ভাগ্যিস বোন চলে গেছে মায়ের কাছে, ঘরে নেই তাহলে আর রক্ষে থাকতো না।

‘কে বলছো কথা? সামনে এসো।’ নিলেশ বলে। একটুক্ষণ চুপ করে থেকে আর কোনো কথা বা শব্দ শুনতে না-পেয়ে আবার বলে নিলেশ। ‘তুমি ভয় পাচ্ছ আমাকে? লুকিয়েছ কোথায়? বাচ্চা মানুষের কণ্ঠে কথা বলছো আবার লুকিয়ে থাকছো। দেখা দাও।’

‘আমি তো বাচ্চা!’ আবারো কথা শুনতে পেলো নিলেশ।

‘তোমার কথা শুনতে পাচ্ছি, অথচ তোমাকে দেখতে পাচ্ছি না কেন?’ নিলেশ বলে।

‘আমি দেখা দিবো না তাই।’

‘তুমি দেখা দিবে না কেন?’ অদৃশ্য কণ্ঠের এই কথা শুনে অবাক কণ্ঠে বলে নিলেশ।

‘আমার ইচ্ছা।’

‘কেন?’

‘ঐ যে বললাম আমার ইচ্ছা।’

‘দেখ তুমি যেই হও, দেখা দাও। তোমার নাম-ধাম পরিচয় বলো। দেখা না দিলে কী কখনো কথা বা গল্প জমে বলো। তা ছাড়া দেখা না দিয়ে যারা কথা বলে তাদের মনে নানারকম মতলব থাকে! হয় তারা ভূত! না হয় অপরাধী!’ এক নিঃশ্বাসে কথা বলে চুপ করে নিলেশ।

‘না না আমি অপরাধী না।’ আতঙ্কিত কণ্ঠ শুনতে পেলো নিলেশ।

‘বেশ তো তবে দেখা দাও।’ এবারে একটু হেসে নিলেশ বলে।

‘না না এখন না! পরে দেখা দিবো। আমি তো বাচ্চা-ভূত। দেখা দিবো পরে।’ অদৃশ্য কণ্ঠের কথা ভেসে আসে আবার। অদৃশ্য নিঃশ্বাসে ওড়ে নিলেশের মাথার চুল। নিলেশের মাথার চুল ঘন চিকন; বেশিরভাগ সময় চুল এলোমেলো থাকে; চুল আঁচড়াতে ভালো লাগে না ওর। মাথার চিকন চুলের একগুচ্ছ উড়ে এসে পড়ে কপালে।

হাত দিয়ে চুল সারিয়ে দিতে দিতে নিলেশ বলে, ‘যদি দেখা না দাও তবে তোমার সঙ্গে কথা বলবো না! তুমি দেখা দাও।’

‘তোমাকে যাচাই না-করে কী করে দেখা দেই বলতো। যদি বোতলে আটকে দাও।’

‘না, না আটকে দিবো না, কেন আটকাবো তোমাকে বলো? ভয় নাই দেখা দাও।’ নিলেশের কণ্ঠে অনুরোধ ঝরে পড়ে।

‘বন্ধু হবে তুমি।’ অনুনয় করে অদৃশ্য কণ্ঠ।

‘তুমি দেখা না দিলে বন্ধু হবো কেমন করে। তুমি দেখা দিবে না, আবার বলছো বন্ধু হতে! তাই কখনো হয় নাকি? যাও, বন্ধু হবো না তোমার।’ নিলেশ একগুঁয়ে জেদি কণ্ঠে বলে।

‘তুমি তো এমন ছিলে না নিলেশ। শান্ত ভালো একটি ছেলে তুমি। আমার ওপর রাগ হয়েছে বলেই এমন করছো?’ অদৃশ্য কণ্ঠে কান্নার ছোঁয়া।

‘না না, চলে যাও তুমি। দেখা যদি দাও তাহলে থাক, না-হলে চলে যাও। তোমার সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা নেই আমার।’ কথা বলে উত্তরের অপেক্ষা করে নিলেশ। অদৃশ্য কণ্ঠ কী করে সেটা দেখার জন্য কী বলে তা শোনার জন্য অপেক্ষা করে!

নিলেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলো, কিন্তু আর কোনো কথা শুনতে পেলো না। মন খারাপ হলো ওর। ওর মনে হলো, এভাবে কষ্ট দিয়ে কথাগুলো না বললেও হতো। ভালো কথা বলে, মিষ্টি কথা বলে বন্ধুত্ব করে নিলেই হতো। মনুষের একজন বন্ধুর খুব প্রয়োজন। সে ছোট হোক আর বড় হোক। শুধু বন্ধু নয়, ভালো বন্ধুর প্রয়োজন।

এ-কথা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে, যখন নিরুদ্দেশ হয়েছিল। যখন নিরুদ্দেশে তখন একটু কথা বলার জন্য মন আঁকুপাকু করেছে; অথচ কথা বলার জন্য কাউকে পায়নি; ধারে কাছে কেউ ছিল না তখন। তখন মা-কে মনে পড়েছে, আপুকে, দাদিমাকে, স্কুলের সবাইকে এক এক করে মনে পড়েছে, কতো ডেকেছে, কিন্তু পায়নি কাউকে! কেউ আসেনি!

নিরুদ্দেশ হয়ে যেখানে ছিল, সেখানকার কেউ কথা বলেনি ওর সঙ্গে; শুধু অদৃশ্য থেকে এক কণ্ঠ বলেছে, ‘ওখানে যাও খাবার রাখা আছে, খেয়ে নাও। সেখানে যাও বাগান আছে, ওখানে পানির কল আছে, বাথরূম আছে ঐখানে।’ ওকে যেমন যেমন বলেছে, তেমন তেমন করেছে ও।

যাক যা হবার হয়েছে! নিলেশ ভাবে। এরপর যদি অদৃশ্য কথা ভেসে আসে তাহলে বলবে দেখা দাও, বন্ধু হবো। ওর তো কোনো বন্ধু নেই। স্কুলে সকলের সঙ্গে কথা হয়, কিন্তু গল্প হয় না। মাঠে যাওয়া হয়, কিন্তু খেলা হয় না, ছোটাছুটি করা হয় না। কারো সঙ্গে খুনসুটি করতে ভালো লাগে না; ওর আম পাড়তে ইচ্ছা করে, কিন্তু আম পাড়া হয় না। ওর নদীর ধার দিয়ে হাঁটতে ইচ্ছা করে, কিন্তু হাঁটা হয় না। ফুল বাগানে যেতে ইচ্ছা করে, যাওয়া হয় না। কখনো কখনো ইচ্ছা করে সরষে ক্ষেতে ফুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে দৌড়ে বেড়াতে; একা একা কোথাও যেতে, কিন্তু দিতে চায় না মা।

একজন বন্ধু থাকলে দৌড়ানো যেতো; ওর বন্ধু নেই। নিলেশ মনে মনে বলল, অদৃশ্য তোমাকে বন্ধু করে নিবো। নিলেশের কবিতা মনে এলো। কবিতার খাতা নিয়ে লিখে রাখলো কবিতা। কবিতাটার নাম :

বন্ধু আমার তুমি

বন্ধু আমার তুমি

বন্ধু তোমার আমি

লাটাই সুতা তুমি

সুতায় উড়ি আমি

অদেখা সে তুমি

প্রান্ত খুঁজি আমি

গিঠ দিয়েছ তুমি

গিঠ খুলি না আমি

বন্ধু আমি তুমি।

বাড়ির কেউই জানে না, নিলেশ কবিতা লিখতে পারে! জানায়নি কাউকে। ‘নিলেশ, এই নিলেশ’ মা ডাকছেন। মায়ের ডাক শুনতে পেয়েছে একটু আগেই, কিন্তু কবিতা শেষ না-করে উঠতে পারছিল না।

মা ডাকছে আবার। বাইরে পায়ের শব্দ পেয়ে কবিতার-খাতা লুকিয়ে ফেলে নিলেশ। ওর বোন সিথি ঘরে ঢুকলো। ‘কিরে, ঘর থেকে বের হচ্ছিস না কেন? খাবার দিয়েছে টেবিলে; ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।’

মায়ের ডাক শুনতে পেলো আবার। ‘নিলেশ এই নিলেশ, কোথায় তুমি।’ মায়ের ডাক শুনে বলল নিলেশ, ‘যাই মা। চল আপু।’

নিলেশ মুখ-হাত ধুয়ে খাবার টেবিলে বসে। ওর মা লুচি আর মোহনভোগ বানিয়েছে। নিলেশের প্রিয় খাবার। নিলেশ লুচির টুকরাতে মোহনভোগ পেঁচিয়ে মুখে তুলতে যাবে—এমন সময় অদৃশ্য কণ্ঠ ভেসে এলো। ‘তোমার কী মজা! কতো সুন্দর খাবার খাও। আমারও খেতে ইচ্ছা করে, কিন্তু পারি না।’

‘কেন?’

‘আমাদের খাওয়া বারণ!’

‘কেন?’

‘তা তো জানি না। আমাদের কী যে সব পাতা-পুতা খেতে হয়, ভালো লাগে না। মাঝেমধ্যে নিজেকে গরু-ছাগল মনে হয়! আমি মাঝে মাঝেই না খেয়ে থাকি, খেতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু গায়ের জোর কমে গেলে—না-খেলে গায়ে জোর আসে না।’

‘তাই… তোমাদের যদি খাওয়া বারণ, তাহলে না-খেলেই ভালো হয়। অন্য কোনোরকম অসুবিধা যদি হয়! ভালো করে জেনে…’

‘এই নিলেশ একলা একলা কী বিজির বিজির করছিস!’ বোনের ডাকে কথা শেষ করতে পারে না নিলেশ। খাওয়ায় মন দেয়ার আগে অদৃশ্য কণ্ঠকে বলে ‘ঘরে যাও, কথা আছে।’

ভালো করে খেতে পারলো না নিলেশ; অদৃশ্য কণ্ঠের কথা মনে হলো। আহা, কী অসুবিধা ওদের খেতে পারে না। কোনোরকমে খাওয়া শেষ করে ঘরে এলো। অদেখা অদৃশ্য কণ্ঠের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে! কিন্তু কোথায় সে?

‘কোথায় তুমি, তুমি কোথায়?’ ডেকে ডেকে না-পেয়ে হতাশ হয়ে অপেক্ষা করছিল নিলেশ। কিন্তু না, কেউ কোথাও নেই। শুনতে পাচ্ছে না সেই কণ্ঠস্বর। হাওয়ার সঙ্গে কি উড়ে গেল সেই কণ্ঠ! হাওয়ায় ভাসা কণ্ঠস্বর কী হাওয়াতেই মিশে গেল। মন খারাপ হলো নিলেশের।

(চলবে)

…………………

পড়ুন

কবিতা

আফরোজা অদিতির পাঁচটি কবিতা

গল্প

রাত ভোর হতে আর কত দেরি

শিশুতোষ উপন্যাস

নিলেশ ও ছোট্ট ভূত : পর্ব ১

মুক্তগদ্য

অর্থ এক বিলাসী প্রেমিক

ভ্রমণ

গোকুল মেধ বা বেহুলার বাসরঘর

অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণকথা

অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণকথা – ২য় পর্ব

দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির ও রাণী রাসমণি

দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির ও রাণী রাসমণি – ২য় পর্ব

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন...