shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাস পুকুরে, শিশুসহ নিহত ৮

Phulpur road accident

Phulpur road accident

Phulpur road accident

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ফুলপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাস পুকুরে পড়ে ডুবে গেলে শিশুসহ নিহত হয়েছেন ৮ জন। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২০) সকালে এই ঘটনা ঘটে।

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমারত হোসেন সড়ক দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কাইচাঁন গ্রামের মিলন (৬০), বেগম (৩০) ও বুলবুলি (৫), এবং

গফরগাঁও উপজেলার মশাখালি গ্রামের—পারুল বেগম(৪৫), রেজিয়া (৭০), রিপা (২৫), শামছুল হক (৬০) ও নবী হোসেন (৩০)।

উল্লেখ্য, মাইক্রোবাসের যাত্রীরা তাদের এক স্বজনের জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য মাইক্রোবাস ভাড়া করে ভালুকা থেকে নালিতাবাড়ী যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে ওসি ইমারত হোসেন বলেন, আজ সকাল সাড়ে সাতটায় ভালুকা থেকে একটি মাইক্রোবাস শেরপুর যাচ্ছিল।

ওই মাইক্রোবাসে চালকসহ ১৩ জন যাত্রী ছিল।

পথে ময়মনসিংহ-শেরপুর মহাসড়কের ছনকান্দা এলাকায় মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইক্রোবাস থেকে আটজনের লাশ উদ্ধার করেন।

তাদের মধ্যে চারজন নারী এবং তিনজন পুরুষ ও একটি শিশু আছে।

এই সময় মাইক্রোবাস থেকে চারজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এই দুর্ঘটনার পর ময়মনসিংহ-শেরপুর মহাসড়কে বেশকিছু সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল।

পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসচালক পালিয়ে গেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, মাইক্রোবাস থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—রতন মিয়া (৫৪), মিজান (২৮), হাবিবুর (৫৫) এবং সোহরাব (২৮)।

তাঁদের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাস পুকুরে, শিশুসহ নিহত ৮
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে ডাব্লিউএইচওর একটি পরিসংখ্যান

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) একটি পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে সড়ক দুর্ঘটনায়। আহত হয় পাঁচ কোটি মানুষ।

তাদের বাকিটা জীবন পঙ্গুত্ব কিংবা অন্য কোনো শারীরিক বিকলাঙ্গতা নিয়ে কাটাতে হয়। বৈশ্বিকভাবে মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনার অবস্থান সপ্তম।

কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না-করা হলে, আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এটি তৃতীয় অবস্থানে চলে আসবে।

এটা কি বিশ্বাস করা যায়, বর্তমানে বিশ্বে প্রাণঘাতী রোগ এইডস কিংবা যক্ষ্মার চেয়েও সড়ক দুর্ঘটনায় বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে?

এ দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি শিকার হয় আমাদের নতুন প্রজন্ম। পাঁচ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনা অন্যতম।

বৈশ্বিকভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে আফ্রিকায় আর দ্বিতীয় অবস্থানেই রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।

Spread the love