shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

ধরি মাছ না ছুঁই পানি, ফেসবুক, কবিতা ও অন্যান্য

Retail talk all around

খুচরো কথা চারপাশে

ধরি মাছ না ছুঁই পানি, ফেসবুক, কবিতা ও অন্যান্য

সুনীল শর্মাচার্য

ধরি মাছ না ছুঁই পানি, ফেসবুক, কবিতা ও অন্যান্য

ধরি মাছ, না ছুঁই পানি

ধরি মাছ, না ছুঁই পানি—এমনই আমাদের বুদ্ধিজীবী! তাদের মানবপ্রীতি, দেশপ্রেম অতীব ভয়ঙ্কর। সম্প্রীতির বার্তা বড্ড আত্মঘাতী। নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা কল্যাণ করা তাদের স্বভাব। দেশে সমস্যা যখন প্রাণসংকটে নাভিশ্বাস, তখন তারা শীতঘুমে আচ্ছন্ন। মুখ খুলবে কি খুলবে না, তাও হাওয়া বুঝে সিদ্ধান্ত।

কতটুকু বললে, সাপ মরবে, কিন্তু লাঠি ভাঙবে না—এই নীতি অনুসারী। তারা সব জায়গায় জুজু

দেখে! মানবতন্ত্রী হতে গিয়ে বিশ্বতন্ত্রী হয়ে পড়ে।

দেশ, জাতি ঘোল্লায় গেলেও, তাদের কিছু আসে যায় না। তারা আজব চিড়িয়া! মিডিয়া তাদের নিয়ে মাতে। তাতে দেশ, সাধারণের কি-বা আসে যায়। তাদের ব্যাপক সংখ্যক জনগণ পোছে না।

দেশ, জাতি বিপন্ন হলে কি শুদ্ধাচার থাকে?

.

ফেসবুক

এখন দেখছি ফেসবুকে গোষ্ঠী, দল, গ্রুপ আছে। আপনার পোস্ট যদি রাজনৈতিক, কিংবা সাম্প্রতিক প্রবাহে দুষ্ট হয়, কিংবা দলতন্ত্রে আঘাত করে, তবে দেখছি অনেকে সরে যায়!

নিথর সময়। চুপ থাকাও এখন বিবেকের দায়! সমাজে থাকলেও আমরা নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই। একা একা থাকতে চাই!

.

ফেসবুকের কবি ও কবিতা

ফেসবুকে নানান কবির তত্ত্বকথা চোখে পড়ে। তাদের কাব্যভাবনা, কাব্যচর্চায় যা উদ্দেশ্য তা নানান রসের ব্যঞ্জনে পরিবেশিত ও প্রতিফলিত। দেখেছি।

আগে-পরে ব্যাপারটা যখন আছে, তখন পরে যারা এসেছে ও আসবে তারা কোনো-না-কোনো

দিকে নতুন রাস্তা খোলার চেষ্টা যে করবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। কালিদাস, শেক্সপিয়ার,

রবীন্দ্রনাথও তাই করেছেন, জীবনানান্দ করেছেন, সুনীল-শক্তি করেছেন, বর্তমান কবিরাও করছেন।

আজ যদি শুধু গতকালকে মকশো করে—তার চেয়ে শোচনীয় তো কিছু হতে পারে না। তবে সামনে বহে যাওয়া যে ধারাবাহিকতা, এইটা যেন না ভুলি। ভুললে নতুন পথ খোঁজার নামে নর্দমায় গড়ানো সই মনে হবে।

যারা আগের পরবর্তীদের সম্বন্ধে তাদের যেমন ঔদার্য ও অসংকীর্ণতা থাকা দরকার—পরে যারা এসেছেন বা আসবেন, পূর্ববর্তীদের সম্বন্ধে তাদেরও চাই সেই রকম শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি।

তাদের ভুললে চলবে না যে, নতুন ধরনে লেখবার চেষ্টা করছি বলেই পুরনো ধরনের লেখা বাতিল

হয়ে যায়নি। সময়ের আগুপিছু কি ভঙ্গির রদবদল দিয়ে সাহিত্য-শিল্পের বিচার হয় না।

তা হয় পৌঁছায়, নয় পৌঁছায় না। পৌঁছানোর অনেক রাস্তা। নতুন কালের ইঙ্গিতে সেই রাস্তা সবাই (বর্তমানে) খুঁজছেন। পৌঁছালে দেখা যাবে বেদের কবিও সেখানে উপস্থিত। ইদানীং (বেশকিছু কবিগণ) পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে, নিজস্ব প্রতিধ্বনি খোঁজার নামে উদ্ভট উল্লেখে কবিতা কন্টিকারি করে অকারণে মানে গুলিয়ে গভীর হওয়ার হুজুগে অনেকেই মগ্ন। রাগী কবি হওয়া অত সহজ ব্যাপার নয়।

.

সফল লেখক হতে গেলে

সফল লেখক হতে গেলে একা হতে হয়, অপ্রিয় হতে হয়, গালমন্দ খেতে হয়, এ ছাড়া নিজের কাছে নিজেকে সফল প্রমাণ করা যায় না!

.

কিছু কবিতা আছে

কিছু কবিতা আছে—যা পড়ে স্বাদ গ্রহণ করে দেখতে হয়; আরেক ধরনের কবিতা আছে যেগুলো শুধু গলাধঃকরণ করতে হয়। আবার আরেক ধরনের কবিতা আছে, যেগুলো পড়ে গলাধঃকরণ করেও হজম করতে হয়।

.

কবিতা লিখতে গিয়ে

একটা কথা কবিতা লিখতে গিয়ে মনে আসে, শব্দ নিয়ে চালাকি মারার জায়গা কবিতা নয়। মনে আসে, শব্দ আমার দাস নয় যে তাকে আমি বাগে আনতে পারি। আমি শব্দের দাস, শব্দ যেভাবে চাইবে, সেই ভাবেই আমার কাজ লিখে যাওয়া।

আমি তো আর কিছু পারি না তেমন। কথাগুলো লিখতে পারি। তাই কবিতা বানানোর চক্করে পড়ে কথাগুলো হারিয়ে ফেলতে পারি না।

কথাগুলো লিখি। যে কথাগুলি কবিতা হয়ে ওঠার আপনি উঠবে। যেগুলো হওয়ার নয়, তা শত চেষ্টা করলেও, হয় না!

.

একজন কবিতাকারের বিবৃতি

আমি কবিতা লিখি। প্রকাশও করি। ইচ্ছে, আমার লেখা জনসাধারণের গোচরে আসে। আমি এটাই

পারি। তার বেশি কি আর আশা করব? লোকজন মুখিয়ে আছে আমার কবিতা পড়ার জন্য—এটা

কখনোই ভাবি না; আমি জানি, এখনকার পাঠক মণীন্দ্র গুপ্ত, আলোক সরকার, শম্ভু রক্ষিতের কবিতা পড়ে না, তা আবার আমার কবিতা!

পাঠক যারা, তারা আজো রবীন্দ্রনাথের ‘শিশুতীর্থ’ পড়েনি, পড়ার বইয়ের বাইরে জীবনানন্দ পড়েনি, ছেলেবেলায় ‘আব্রিতি’ করার জন্য সুকুমার রায় মুখস্ত করেছিল। তারা আমার লেখা কেন পড়বে? আশা করি না। সেই আশা হতাশার যোগ্যও হবে না।

তারা সমুদ্রে বেড়াতে যায়, তাদের নিরানব্বই ভাগ মানুষ সূর্য যখন ওঠে সমুদ্রে যায় না, তখন

ঘুমিয়ে থাকে। বেলা করে উঠে সমুদ্রে যায়, স্নান করার জন্য। তার আগে বিয়ার, তার পরে লাঞ্চ। স্রোতের মাথায় রোদ্দুরের লাফালাফি তারা দেখছে কিনা, এটা ভেবে সমুদ্রের তো তরঙ্গ তোলে না।

আমি কেন ভাববো? লিখি। প্রকাশ করি। লোকের সামনে ফেলে দিই। বাকিটা তাদের সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য। আমার নয়!

.

নিজের কথা নিজে বলি

সুনীল শর্মাচার্য (সুনীল আচার্য) কেন যে লেখেন! তার লেখায় কার-বা আসে যায়। তার লেখা কে-বা পড়ে! তবু লেখেন। আর ছাপেন। অর্থের অপচয় করেন। তার বই কেউ কেনে না। এসব

বাণিজ্যিক ভাবনা-চিন্তার ধার ধারেন না তিনি।

লেখেন আত্মতৃপ্তির জন্য। নেশা, রোগও বলতে পারেন। ঘোড়ারোগ যাকে বলে!

সুনীল শর্মাচার্য-এর লেখার কোনো জায়গা নেই। তাই নিজেই কাগজ বের করেন। আর নিজের গুচ্ছ গুচ্ছ লেখা ছাপান। নিজেই পড়েন। আবার পথে পথে লোকের করুণা কুড়িয়ে বিনামূল্যে বিতরণ করেন। কেউ পড়ে না। বিনা পয়সায় উপহার পেয়ে কেউ কেউ পৃষ্ঠা উল্টে বলেন ‘বেশ’!

সুনীল শর্মাচার্য নিজের লেখা নিজেই টেপ রেকর্ড করেন, আর অবসর সময়ে তা বাজিয়ে বাজিয়ে নিজেই শোনেন। এটাই তার তৃপ্তি, এটাই তার সান্ত্বনা!

কবিতার বই কেউ কেনে না—পই পই করে শোনা সত্ত্বেও, সুনীল শর্মাচার্য কবিতার বই প্রকাশ করেন। বইমেলার মৌসুমে আনাচে-কানাচে আমন ধানের মতো মাঠভর্তি নামী-অনামী কবির

নতুন কবিতার বই বের হয়। সুনীল শর্মাচার্য-এর কবিতার বইও জন্ম নেয়।

.

আমি, একটি পোস্ট কার্ড ও সুভাষ মুখোপাধ্যায়

১৯৭৫। অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি। তখন ‘যুসাস’ নামে একটি কবিতার ফোল্ডার বের করতাম এক সিনিয়র বন্ধুর সঙ্গে। সেখানে প্রথম মিলান্ত কবিতা লিখি। আর ফোল্ডার সম্পাদনার কাজ শিখি। সেখানে একটি বিভাগ ছিল ‘পোস্টকার্ডের মুখোমুখি কবি’! কবিতা কীভাবে লেখা যায়? কবিতা লিখতে গেলে কি করতে হয়?

এই বিভাগে চিঠিপত্তর ও যোগাযোগ দায়িত্ব ছিল আমার উপর। তো, এই প্রশ্নোত্তর বিভাগের নির্বাচিত কবিদের কাছে চিঠি আমিই লিখতাম এবং উত্তরের প্রত্যাশায় Reply Card পাঠাতাম।

এমনই উদ্দেশ্যে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে একটি Reply Card-সহ চিঠি পাঠাই। ভেবেছিলাম, উত্তর পাবো না! কিন্তু না, সপ্তাহ কয়েক অপেক্ষার পর তাঁর মূল্যবান উত্তর পেলাম—মুক্তাহস্তাক্ষরে :

……… ……… না দিলে প্রাণ

……… ……… হয় না গান।

……… ……… না হলে একা

……… ……… যায় না লেখা।

আমাদের উত্তর পেয়ে গেলাম। এটা আমার কাছে, এক উজ্জ্বল প্রাপ্তি। লেখাটি লিখেছিলেন ০৫.০৮.১৯৭৫ তারিখে।

…………………

পড়ুন

কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের একগুচ্ছ কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের ক্ষুধাগুচ্ছ

লকডাউনগুচ্ছ : সুনীল শর্মাচার্য

সুনীল শর্মাচার্যের গ্রাম্য স্মৃতি

নিহিত মর্মকথা : সুনীল শর্মাচার্য

প্রয়াণগাথা : সুনীল শর্মাচার্য

সুনীল শর্মাচার্যের কবিতাগুচ্ছ

অন্যভুবনের কবিতা

ঘোড়া : সুনীল শর্মাচার্য

মুহূর্তের কবিতা

অনুভূতি বেজে ওঠে

আমার কবিতা

সনেটগুচ্ছ

সুনীল শর্মাচার্যের সনেটগুচ্ছ

মুক্তপদ্য

ভারতীয় কোলাজ

ইচিং বিচিং পদ্য : সুনীল শর্মাচার্য

ছড়া

ভারতীয় ছড়া

কালাকালের ছড়া

দেশের ছড়া, দশের ছড়া

নব্য ভারতের ছড়া

ভারতনামা

ভারতনাট্যম

মহাভারতের কড়চা

ভারতচিত্র : শায়র

ভারতীয় ছড়াকু

ভারতীয় হালচাল

ভারতীয় পাঁচালি

উইচিংড়ির ছড়া

ভারত চিত্র : ছড়ায় বিচিত্র

দেশের চিত্র : কত বিচিত্র

ভারত দৃশ্যপট

সুনীল শর্মাচার্যের ভারতীয় হালচাল

মহাভারতের পুঁথি

গল্প

উকিল ডাকাত : সুনীল শর্মাচার্য

এক সমাজবিরোধী ও টেলিফোনের গল্প : সুনীল শর্মাচার্য

আঁধার বদলায় : সুনীল শর্মাচার্য

মুকুন্দ

প্রবন্ধ

কবির ভাষা, কবিতার ভাষা : সুনীল শর্মাচার্য

ধর্ম নিয়ে : সুনীল শর্মাচার্য

মতামত

ভারতীয় বাঙালি ও ভাষাদিবস

ভারতীয় বাম ও তাদের কিচ্ছা

মুক্তগদ্য

খুচরো কথা চারপাশে : সুনীল শর্মাচার্য

কত রকম সমস্যার মধ্যে থাকি

শক্তি পূজোর চিরাচরিত

ভূতের গল্প

বেগুনে আগুন

পরকীয়া প্রেমের রোমান্স

মুসলমান বাঙালির নামকরণ নিয়ে

এখন লিটল ম্যাগাজিন

যদিও সংকট এখন

খাবারে রঙ

সংস্কার নিয়ে

খেজুর রসের রকমারি

‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ পাঠ্যান্তে

মোবাইল সমাচার

ভালো কবিতা, মন্দ কবিতা

ভারতের কৃষিবিল যেন আলাদিনের চেরাগ-এ-জিন

বাঙালিদের বাংলা চর্চা : খণ্ড ভারতে

দাড়ি-গোঁফ নামচা

নস্যি নিয়ে দু-চার কথা

শীত ভাবনা

উশ্চারণ বিভ্রাট

কাঠঠোকরার খোঁজে নাসা

ভারতীয় ঘুষের কেত্তন

পায়রার সংসার

রবীন্দ্রনাথ এখন

কামতাপুরি ভাষা নিয়ে

আত্মসংকট থেকে

মিসেস আইয়ার

ফিরবে না, সে ফিরবে না

২০২১-শের কাছে প্রার্থনা

ভারতে চীনা দ্রব্য বয়কট : বিষয়টা হাল্কা ভাবলেও, সমস্যাটা কঠিন এবং আমরা

রাজনীতি বোঝো, অর্থনীতি বোঝো! বনাম ভারতের যুবসমাজ

কবিতায় ‘আমি’

ভারতে শুধু অমর্ত্য সেন নয়, বাঙালি সংস্কৃতি আক্রান্ত

ধুতি হারালো তার কৌলীন্য

ভারতের CAA NRC নিয়ে দু’চার কথা

পৌষ পার্বণ নিয়ে

প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে

শ্রী শ্রী হক কথা

বর্তমান ভারত

ভারতের এবারের বাজেট আসলে অশ্বডিম্ব, না ঘরকা না ঘাটকা, শুধু কর্পোরেট কা

ইন্ডিয়া ইউনাইটেড বনাম সেলিব্রিটিদের শানে-নজুল

ডায়েরির ছেঁড়া পাতা

অহল্যার প্রতি

উদ্ভট মানুষের চিৎপাত চিন্তা

তাহারা অদ্ভুত লোক

পৌর্বাপর্য চিন্তা-ভাবনা

নিহিত কথামালা

অবিভাজ্য আগুন

পাথরের মতো মৌন জিজ্ঞাসা

ভাবনা যত আনমনে

বিবেক পোড়ে অশান্ত অনলে

কালাকালের ডায়েরি

উন্মাদের নীতিকথা

করোনা, ভারতীয় জনগণ ও তার সমস্যা

ধরি মাছ না ছুঁই পানি, ফেসবুক, কবিতা ও অন্যান্য

Spread the love