shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

বন্ধু-বান্ধবীর জন্য একগুচ্ছ কবিতা

A-bunch-of-poems-for-friend

বন্ধু-বান্ধবীর জন্য একগুচ্ছ কবিতা

সুনীল শর্মাচার্য

বন্ধু-বান্ধবীর জন্য একগুচ্ছ কবিতা

তোমার জন্য বন্ধু আমার

(সুরাইয়াকে)

.

শব্দ ওঠে। শব্দ মরে। শব্দ, শব্দে ভেসে যায়।

তোমার জন্য বন্ধু আমার খিদে বেড়ে যায়!

.

খিদে বাড়ে। খিদে মরে। খিদে, খিদে ভুলে যাই।

তোমার জন্য বন্ধু আমার খিদের অপচয়!

.

ঘর ভরে না পাকা ধানে! বাড়া ভাতে ছাই!

তোমার জন্য বন্ধু আমার খিদের আইডাই!

.

চাঁদ কপালে আকাশ ঘুমায় মেঘের কলিজায়

তোমার জন্য বন্ধু আমার রাতগুলো পাল্টায়!

.

তার কথা যে

(প্রীতি রায়কে)

.

রাতে যখন মুঠো মুঠো ছড়িয়ে যাবে তারা

তার কথা যে পড়বে মনে বিষাদ বুকে চেপে,

চাঁদ দাঁড়িয়ে একা একা আকাশে মেঘ হারা

চাঁদের আলোয় ও-মুখ দেখি, দূরত্ব যাই মেপে!

.

শেষ হবে না ঋণ, তবু আশায় জাগে বোধ

ফোটায় কাঁটা অহরহ, যন্ত্রণা দেয় আলো,

আগুন তাপে রক্ত বুকের ছড়ায় যে ক্ষোভ—

এসব কিছু ঘটনা ঘটে, ব্যথায় দিন কালো!

.

চাঁদ কাঁপে গাছের পাতায় ছড়িয়ে দিয়ে আলো

তার কথাটা পড়ছে মনে জাগিয়ে বুকের ক্ষত,

ঘুম নামছে দু’চোখজুড়ে মনটা ভীষণ কালো

ভাবনা কানে বাজায় বাঁশি স্মৃতির পুষ্প যতো…

.

এ সংসারে বাঁচার দায় বেঁচে থাকার মতো,

মুক্তি পেতে নদীর জলে ধুই যে হাজার ক্ষত!

.

একদা দেখা

(স্মৃতিময়ীকে)

.

একদা দেখা মুখখানি তার মায়া মাখা,

ছড়ানো চুলে মুখ ঢাকা তার দীপ্ত-রাকা!

.

পথের বাঁকে ছায়ায় ঢাকা জংলা-মাটি,

চাঁদ উঠছে আকাশ জোড়া সাঁঝ বেলাটি!

.

বৃথাই ছিল যাতনা ভরা সেই চারুতা,

ভাবতে গেলে কাঁপায় বুক লাজ ভীরুতা!

.

হরিণ চোখে দাঁড়িয়ে দূরে সে এলোকেশী,

বন ছায়ায় হারিয়ে গেছে হায়, ছদ্মবেশী!

.

এখন মনে অবাধ হয়ে বাতাস ঢোকে,

উঠোনজুড়ে স্মৃতির পালক শূন্যলোকে!

.

কাঠকুড়ুনি মেয়ে

(রাবেয়াকে)

.

গহন বনে দেখা

চমকে ওঠে বুক,

কাঠকুড়ুনি মেয়ে

লাজে রাঙা মুখ!

.

কাঠকুড়ুনি মেয়ে—

ঘর পালিয়ে এসে

পায়নি সুখের ঘর,

সোনার খোকাখুকু

মনের মতো বর!

.

বন ভাঙে তাই রাগে

ভয়ের ছুরি হাতে

শিকড়ে দেয় টান—

ছড়িয়ে রাখে চোখে

খেলা ভাঙার গান!

.

সাপ জড়ানো চুলে

আড়াল করে মুখ

তার অভিমান জানে—

চমকে ওঠা বুক!

.

গহন বনে দেখা

লাজে রাঙা মুখ!

.

সেদিন রাতে

(বাদশা ও সীবলিকে)

.

সেদিন রাতে নদীর ধারে

রহস্য কী ছিল?

দুই যুবকের রঙ্গ-খেলায়

স্বপ্ন এনে দিল!

.

হাতে তাদের তপ্ত পাথর

মাথার চুলে বন্য আতর

শালশিরীষে শব্দ কাতর

বাতাস খোলামেলা,

কামের টানে মিলিয়ে গেল

মুগ্ধ কিছু বেলা!

.

মনে গড়ায় শুদ্ধ শিশির

উল্লাসে চাঁদ ছায়া নিশির

সঙ্গে বায়ু ফিসির ফিসির

আঁধার শূন্যতা,

নগ্ন শরীর দেখে তাদের

মনেতে পূর্ণতা!

.

সেদিন রাতে নদীর বুকে

তরঙ্গ কী ছিল?

পাথর ঠুকে ঠুকে আগুন

তারা জ্বেলেছিল!

.

কুন্দ বনের কুন্দ

(নাসিরকে)

.

কুন্দ বনের কুন্দ

ফুটলো ফুটলো ক্ষণে তারা

অন্ধকারে জুটলো!

.

কুন্দ বনের কুন্দ

দু’জন দু’জন এক হয়ে

আত্ম-সুখ লুটলো!

.

ভ্রমর পাখি আনমনা

ফুলে ফুলে আঁকলো তারা

কিসের যেন আলপনা!

.

কুন্দ বনের কুন্দ

ভেবে ভেবে থৈ পায় না

তবুও মনে আনন্দ!

.

মিলন

(কমলকে)

.

নাভির নিচে

গোপন নদী

……… ……… ছলকে ওঠে;

দেখতে থাকো

অবাক হয়ে

……… ……… মায়ার ঘোরে…

.

চোখ ধাঁধানো

রেশম ঘাসে

……… ……… দু’পাড় ঢাকা,

ঋতু বদল

যখন তখন

……… ……… নদীর বুকে;

.

মাঝখানে জল

প্রেম যমুনা

……… ……… অতল গভীর,

খিদেয় কাতর

আগুন জ্বলে

……… ……… সারা দেহে;

.

চালায় নৌকো

অবুঝ মাঝি—

……… ……… কূল না জানে,

কালের টানে

এসব খেলা

……… ……… কী আনন্দে!!

.

রাত ছবি

(টোকনকে)

.

আঁধার বনে

জোনাক পোকা

জ্বলছে মৃদু

.

রাত্রি গহীন

ঝিঁঝিঁ নীরব

রহস্যময়

.

কোথাও হাওয়া

ওঠে কোথায়

শাল বনে

.

শুকনো পাতা

বাজনা বাজায়

সড় সড় সড়

.

তখন মনের

গোপন কোণে

রাত্রি জাগে

.

কেউ জানে না

নিদ্রা ঘোরে

উদাস ব্যথা

সুর না জানা

মোহন টানে

রাত নির্ঝর!

…………………

পড়ুন

কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের একগুচ্ছ কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের ক্ষুধাগুচ্ছ

লকডাউনগুচ্ছ : সুনীল শর্মাচার্য

সুনীল শর্মাচার্যের গ্রাম্য স্মৃতি

নিহিত মর্মকথা : সুনীল শর্মাচার্য

প্রয়াণগাথা : সুনীল শর্মাচার্য

সুনীল শর্মাচার্যের কবিতাগুচ্ছ

অন্যভুবনের কবিতা

ঘোড়া : সুনীল শর্মাচার্য

মুহূর্তের কবিতা

অনুভূতি বেজে ওঠে

আমার কবিতা

সনেটগুচ্ছ

সুনীল শর্মাচার্যের সনেটগুচ্ছ

ভারতীয় লিমেরিক

সনেট পঞ্চ

সুনীল শর্মাচার্যের বারোটি কবিতা

বন্ধু-বান্ধবীর জন্য একগুচ্ছ কবিতা

মুক্তপদ্য

ভারতীয় কোলাজ

ইচিং বিচিং পদ্য : সুনীল শর্মাচার্য

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন...