বুধবার, নভেম্বর ২৫সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়...

বিবিকা দেবের পাঁচটি কবিতা

1 0
Read Time:5 Minute, 21 Second
Bibika Dev

বিবিকা দেবের পাঁচটি কবিতা

ভোরের পথিক

দেবালয়ের দরজায় কড়া নাড়ে ভোরের পথিক। শুভ্র চিত্তে মনস কামনায়। টলমলে চোখের জল সিঞ্চনে জীবন পায় মনুষ্যবীজ। অঙ্কুরোদগমের উদরে ভাঁজে প্রাণের শেকড়। অন্তরে থর থর কাঁপে শঙ্খ আর কাসর ঘণ্টার প্রতিধ্বনি। ধূপ গন্ধের প্রার্থনায় গনগনে রোদের মাঝে হঠাৎ বৃষ্টির নিগূঢ়তা। উষ্ণ চোখের জল আর বৃষ্টির ফোঁটা মিশে ঘড়ির কাঁটার স্পন্দনে জঠরের চতুর্দিক। পাশে বয়ে চলা ইছামতির কলতানে দেয়ালে কান পাতি। ঝেপে আসা বৃষ্টির মাঝে একই পরিণতি। নদী তীরে বিছিয়ে থাকা কাশফুলে সুরের দোল।       

.              

আত্মজার ঘ্রাণ

প্রতিদিন আমার আত্মজার শরীরে নিজের ঘ্রাণ খুঁজি। ভালো লাগে প্রতি নিঃশ্বাসে। এভাবেই আমারও কী ঘ্রাণ নিয়ে ছিল মা? মা মানে প্রথম শেখা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বুলি। মা মানে ভরাট দিঘীর বাতাসের দোলায় ছোট ছোট ঢেউয়ের শান্ত জল। আত্মজার দুধঘুমে মৌন চোখে নিষ্পাপ মুখ। কোমল হাতের স্পর্শ নরম পায়ের ছোঁড়াছুঁড়ি। গড়িয়ে পড়া মোমের শরীর। টলটলে হাসির ভরা জোয়ার। দাঁতবিহীন ঠোঁটের মাঝে টুপটাপ শিশিরের আনাগোনা। চোখের মায়ায়… তারায় তারায়… আত্মজার লুটোপুটি।

.

আততায়ী করোনাভাইরাস

বাস্তবে যুদ্ধ দেখিনি। রাজাকারের বিষাক্ত দাঁতের হাসি দেখিনি। দেখিনি নখের আঁচড়ে রক্তাক্ত ক্ষয়ে যাওয়া শরীর। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখেছি। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক দেখেছি। স্পর্শহীন অবহেলিত মৃত্যু দেখেছি। দেখেছি বধ্যভূমিতে আপন মানুষের করুণ আকুতি। কালের স্রোতে আবারো ফিরে এসেছি মাটির ঘরে। প্রাণহীন বাক্সবন্দি হয়ে।

মহামারি বিধ্বস্ত পৃথিবীতে প্রাণের শক্তিতে লড়ছে মানুষ। কাছে থেকেও বাড়ছে দূরত্ব। হোম কোয়ারেন্টাইনে দ্বারপ্রান্তেও আছে জীবন মৃত্যু ভয়। মা জানতে পারেনি, মৃত্যুর ছোবল পড়েছে পুত্র কন্যার উপর। অবচেতনে শেষ ঘুম হলো মায়ের। অস্থির মনে স্থিরতার উৎস কোথায় ? সবাই শুধু খুঁজি… আর খুঁজি…

বিবিকা দেবের কবিতা

শারদ কাশফুলের প্রণয়

হালদার চরে জেগে ওঠে শরতে কিশোরী কাশফুল। নিমগ্ন প্রেমে গা ভাসিয়ে দেয় বাতাসে। টুকরো টুকরো মেঘের পুঞ্জে নীল সাদা আকাশের ঠিকানায়। প্রকম্পিত বর্ষণে নেমে আসে ভূ-পৃষ্ঠে। রাতে ফোটা শিউলীর গন্ধে বিভোর দশভুজা। আম্রপল্লব ও ঢাকের ধ্বনিতে মন মাতাল। ফুলে ফুলে সজ্জিত রাঙা উঠোনে অর্চনা। হে শারদ কুমারী, এসো জগতের মাতৃরূপে। শরতের শুভ্রতায় গ্লানি হোক বিলীন। বাহুবলে সংহার করো হিংস্রতা। শত পদ্মের মতো প্রস্ফুটিত হোক জগতের কল্যাণ। দিঘীর জলে আলতা রঙে আঁকি তোমার জন্য আলপনা। ধূপদীপের আলোয় রচনামৃত চন্ডীপাঠ। বেল পাতায় সকলের আত্মনিবেদন। ময়ূর পুচ্ছে মেঘের পালে গোপন প্রজ্ঞা প্রণয়ের।

.

ঐতিহ্যের গন্ধ

চৈত্রের প্রখরতায় আমের মুকুলে মাদকতা। মৌমাছির উড়াউড়িতে যাপিতজীবন। কিছু মুকুল ঝরে গেছে কালের হাওয়ায়। কড়া রোদের ঘ্রাণে ঝিমুচ্ছে সদ্য জন্মানো বাছুর। ভরা দুপুরে গ্রাম্য বধূর—স্মৃতির আয়নায় প্রিয় জনের আসা যাওয়া। কোকিলটা গাছের কোটরে বসে আছে কার অপেক্ষায় ? বিন্নি ধানের খইয়ের গন্ধে বাতাসে আলাপন। নৌকার পালে আমোদে সন্ধি। অন্বেষণের পলকেই পানকৌড়ির ডুবসাঁতার আর শালিকের ঠোঁটে রঙিন রোদের হাসি। জল ভর্তি মাটির কলস। চকচকে কচি পাতায় বোশেখের আমন্ত্রণ। কাঁচা হলুদের শুভ্রতায় মাখো মাখো বোশেখ। প্রকৃতির সম্মিলিত কন্ঠে এসো হে… এসো। নতুন বইয়ের গন্ধের মতো বোশেখেরও আছে ঐতিহ্যের গন্ধ। 

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleppy
Sleppy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
100%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

২ thoughts on “বিবিকা দেবের পাঁচটি কবিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *