shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

বিসর্জন

Abandonment

বিসর্জন

জয়িতা ভট্টাচার্য

বিসর্জন

বিকেলের রাঙা রোদ্দুর নদীতে মাখামাখি। আজ বিসর্জন আজ সিঁদুর খেলা তাই। প্রতিদিনই উৎসবহীন এই বিসর্জন একেক ঘরে। তবুও বরণডালা। তবুও ক্ষমতাহীনের নিষ্ফল গর্জন। তবুও হানাহানি চলতে থাকে। তবুও লড়াই হোক সমানে সমানে। চৈতন ঠাকুর তাকিয়ে আছেন সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসা পিতার মতো অন্ধকারের দিকে। আজ তবু বিশেষ বিসর্জন। 

কিছুদিন ধরেই ঘুষঘুষে জ্বর। আসে যায় নিয়ম করে। যখন আসে একটা ঘোর লাগে। অনেক কিছু হয়। অনেক ঘটনা ঘটে ছবির মতো নির্বাক ও নিঃশব্দ। অদ্ভুত একটা আলোর বিচ্ছুরণ। চৈতন ঠাকুর জানেন, অনেক মিথ্যা দীর্ঘদিন বলতে বলতে সত্যি ভ্রম হয়। সত্য বা মিথ্যার মিশেলে পৃথিবী এভাবেই চলে।

জ্বরের মধ্যে দেখতে পায় বিরাট সেই অবয়ব। আবার কখনো সেইসব শেয়ালের উপস্থিতি ঘটে। রোদ্দুরে কানামাছি খেলা। চৈতন ঠাকুর টের পায় সব। রাত হলে আশপাশে কারা যেন কথা বলে ফিসফিস। রাজন সবই জানেন। চৈতন ঠাকুর জানেন রাজন অপারক ও সেই হেতু কাতর তাঁর সুরক্ষার জন্য।

অচ্ছুত শূদ্র আর দলিত মানুষের কণ্ঠরোধ করে আবাল্য দেখেছেন তাঁদের ব্রাত্য করেছে এই উচ্চ কোটির সমাজ। সমাজের অপাঙ্ক্তেয় মানুষগুলোকে ভদ্রলোক মর্যাদা দিতে গেলে—এই পোড়া দেশে ধর্ম  বড় অস্ত্র। তরোয়াল বা ছুরির চেয়েও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। চৈতন ঠাকুর সেটাই করেছেন ওই কালো মানিককে সামনে রেখে। হরি নামে জগৎ উদ্ধার।

চৈতন ঠাকুর আকাশের দিকে চাইলেন। বোঝার চেষ্টা করেন চাঁদের ভাষা। এলোচুলে তাঁর দ্বিতিপ্রিয়া ছিল এমনই। চন্দ্রমুখী। তাঁর চেয়ে নাস্তিক আর কে আছে! তাঁর চেয়ে ভক্তি আর কার!

মৌচাকে ঢিল পড়েছে। পুরোহিতদের শলা চলছে, কিন্তু তাঁর কাজ সমাপ্ত। অজস্র সহস্র অক্ষৌহিনী সৈনিকের মতো ওরা জেগেছে কৃষ্ণ নামে। জাত ভেঙে উঠে আসছে সমস্ত ব্রাহ্মণ্যবাদকে দলিত করে।

খেয়া নৌকা। শেষবার তরী পার। দিগন্তে নক্ষত্র জ্বলজ্বল। উষ্ণ লাগছে। নারী শরীর, উপসম। ব্যাধির, ক্লান্তির। আহহ দ্বিতিপ্রিয়া… জ্বর গায়ে স্নান করে পট্ট বস্ত্র পড়লেন।

অপরাহ্নে রাজনের পত্র পড়ে ঠোঁটে স্মিত হাসি, এখনো মুখ উজ্জ্বল সেই হাসিতে।

চৈতন ঠাকুর ঢুকলেন মন্দিরে। গর্ভগৃহের দরজা আলগা রেখেছেন। পাপ না-হলে পুণ্য চিনবে কী করে মানুষ।

একদৃষ্টে তাকিয়ে ওই গভীর চোখ দুটির দিকে। রাধা। আলিঙ্গন করে আছেন… অল্প কেঁপে ওঠে শরীর। নিঃশব্দ সঞ্চারে আততায়ী দুইজন কাজ সমাপ্ত করে বিনা বাধায়। দরজা রুদ্ধ করে ভেতর থেকে মাটির নিচে সমাহিত করে দেয়। গুপ্ত দরজা খোলে বন্ধ হয়।

চৈতন ঠাকুর শুয়ে থাকেন মাটিতে মিশে। শান্ত। রাধার পায়ের নিচে… বিরহী কৃষ্ণ।

…………………

পড়ুন

সুনীল শর্মাচার্যের একগুচ্ছ কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের ক্ষুধাগুচ্ছ

লকডাউনগুচ্ছ : সুনীল শর্মাচার্য

সুনীল শর্মাচার্যের গ্রাম্য স্মৃতি

নিহিত মর্মকথা : সুনীল শর্মাচার্য

প্রয়াণগাথা : সুনীল শর্মাচার্য

সুনীল শর্মাচার্যের কবিতাগুচ্ছ

অন্যভুবনের কবিতা

ঘোড়া : সুনীল শর্মাচার্য

মুহূর্তের কবিতা

অনুভূতি বেজে ওঠে

আমার কবিতা

সনেটগুচ্ছ

সুনীল শর্মাচার্যের সনেটগুচ্ছ

ভারতীয় লিমেরিক

সনেট পঞ্চ

Spread the love