shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

মানব পাচারে জড়িত অভিযোগে আটক তিন

manab-pacer-Human-trafficki
manab-pacer-Human-trafficki

নিজস্ব প্রতিবেদক : মানব পাচারে জড়িত অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে র‍্যাব। র‍্যাব বলছে এই তিনজন একই চক্রের সদস্য।

আটককৃতদের মধ্যে একজন ওই চক্রের প্রধান। গত বুধবার (৮ জুলাই ২০২০) রাতে পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

এরা অবৈধভাবে ৩৮ জন বাংলাদেশিকে ভিয়েতনামে পাঠিয়েছিলেন। সেখান থেকে ১১ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—চক্রের প্রধান জামাল উদ্দিন ওরফে সোহাগ (৩৪), জামাল হোসেন (৩৭) ও কামাল হোসেন (৩৯)।

তাদের কাছ থেকে ২৫৪টি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২০) কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রকিবুল হাসান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ৩ জুলাই বিশেষ ফ্লাইটে ভিয়েতনাম থেকে ১১ বাংলাদেশি অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

এ ছাড়া সেখানে আরো ২৭ জন অভিবাসী ভিয়েতনামে আটক অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

র‌্যাব প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ ঘটনায় ঢাকার মাশ ক্যারিয়ার সার্ভিস, দি জেকে ওভারসিস লিমিটেড, এ্যাডভেন্ট ওভারসিস লিমিটেড, মেসার্স সন্ধানী ওভারসিস লিমিটেড এবং আল নোমান হিউম্যান রিসোর্স লিমিটেডসহ স্থানীয় দালালদের সম্পৃক্ততা পায়।

ভিয়েতনামে বাংলাদেশি দালাল আব্দুল জব্বার, মোস্তফা, গোলাম আজম সুমন, কল্পনা, আজমির, মিলন, শোভন এবং আতিকদের মানব পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সত্যতা পায়।

গত বুধবার বিকেলে র‌্যাব পুরানা পল্টনের মাশ ক্যারিয়ার সার্ভিস, দি জেকে ওভারসিস লিমিটেড থেকে সাগর, জামাল ও কামালকে গ্রেপ্তার করে।

তাদের কাছ থেকে ২৫৪টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের পরিচালক রকিবুল হাসান জানান, আটককৃতরা একাধিকবার ভিয়েতনামে গিয়ে সে দেশের দালালদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে ভিয়েতনামের দালালেরা বলেন বাংলাদেশ থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তাদের ভিয়েতনামে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের এজেন্সিগুলো বাংলাদেশের সাধারণ লোকজনকে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা বেতনে ভিয়েতনামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের প্রলোভন দেখায়।

ভিয়েতনামগামী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা করে নেয় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা।

তাদের পাসপোর্ট বানিয়ে এর তথ্য ভিয়েতনামের দালালদের কাছে পাঠানো হয়।

অফার লেটার

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ভিয়েতনামের দালালরা ওই পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী ভিয়েতনাম থেকে অফার লেটার (ভিয়েতনামের ভাষায়) বাংলাদেশের এজেন্সিগুলোতে পাঠায়।

অফার লেটারের মাধ্যমে ভিয়েতনাম দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করা হয়।

সাধারণত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ভিয়েতনাম সরকার স্বল্প মেয়াদে (সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য) বিনিয়োগকারীকে ডিএন ভিসা দিয়ে থাকে।

ডিএন ভিসায় ভিয়েতনামে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে নগদ অর্থ নিয়ে যেতে হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রত্যেক অভিবাসীকে ২ হাজার মার্কিন ডলার নিয়ে যেতে বাধ্য করে।

ভিয়েতনামে যাওয়ার পর সাধারণ লোকজনকে ভিয়েতনামের দালালরা সেখানের বিমান বন্দরে গ্রহণ করেন।

তাদের পাসপোর্ট কুক্ষিগত করে একটি ঘরে আটক করে। এর পর বাংলাদেশে থাকা তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে।

দালালেরা পরে তাদের কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না-করে বিভিন্ন সময়ে তাদের দিয়ে ছোট ছোট কাজ করাতেন।

র‌্যাবের আরো তথ্য

র‌্যাবের পরিচালক রকিবুল বলেন, গত মার্চে কুমিল্লরা নাজমুল হাসান ভিয়েতনামে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

গত ৩ এপ্রিল সেখানে বিনা চিকিৎসায় মারা যান।

নাজমুলের স্বজনেরা স্থানীয় দালাল ও দি জেকে ওভারসিস লিমিটেডের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো ধরনের সহযোগিতা পায়নি।

গত ২৭ জুন ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটির মুসলিম কলোনিতে নাজমুল হাসানের লাশ দাফন করা হয়।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন...