shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

মুঠোফোনে পরিচয়-প্রেম-বিয়ে, অতঃপর অস্বীকার

Love-marriage on mobile phone, then denial

Love-marriage on mobile phone, then denial

Love-marriage on mobile phone, then denial

জয়পুরহাট প্রতিনিধি : মুঠোফোনে পরিচয়, প্রেম-বিয়ে, অতঃপর অস্বীকার—আজকাল হরহামেশা এ-জাতীয় প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। জয়পুরহাটের ঘটনাটি একইরকম প্রতারণা ও নারী নির্যাতন পর্যায়েয়।

ঘটনার সূত্রপাত : মুঠোফোনে এক তরুণের সঙ্গে পরিচয় হয় তরুণীর। তিন বছরের এ পরিচয় থেকে প্রেম। আর প্রেমের এক বছর পর তরুণী দেখা করেন তরুণের সঙ্গে। এর পর তারা বসে পড়েন বিয়ের পিঁড়িতে। ঘর ভাড়া করে সংসারও শুরু করেন এই প্রেমিক-প্রেমিকা দম্পতি।

এমনকি শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে জামাই হিসেবে বেড়িয়েও আসেন তরুণ। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই তরুণ লাপাত্তা। চাঞ্চল্যকর এমন ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায়।

তরুণীর অভিযোগ, মাস দুয়েক আগে স্বামীর খোঁজ পান তিনি। জমিতে ঘর তোলার জন্য তাকে বাবার বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা এনে দিতে বলেন স্বামী। সেই টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন তাকে স্ত্রী বলে মানতে রাজি নন স্বামী। স্বামীর যে আরেক স্ত্রী ও সন্তান আছে, সেটাও জানতেন না তরুণী।

তরুণের নাম সুরুজ মিয়া (২৫)। বাড়ি জয়পুরহাটের দুপচাঁচিয়া উপজেলার জোয়ালমাঠা গ্রামে। তবে তিনি বড় হয়েছেন নানার বাড়ি আক্কেলপুর উপজেলার চাপাগাছি হরিপুর গ্রামে। আর তরুণী (২০) কিশোরগঞ্জ জেলার। বাবা মোরব্বা ব্যবসায়ী। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তরুণীই বড়।

প্রতারণার ঘটনাটি উল্লেখ করে গত শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২০) পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী। স্বামীর খোঁজে কিশোরগঞ্জ থেকে আক্কেলপুরে এসে তিনি বিপাকে পড়েন। তার এখন আশ্রয় হয় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নারী সদস্যের কাছে।

পুলিশ তরুণীকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেছেন। কিন্তু টাকা ছাড়া ফেরত গেলে তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তরুণীটি।

মুঠোফোনে পরিচয়-প্রেম-বিয়ে, অতঃপর অস্বীকার

মেয়েটির ভাষ্য মতে, কিশোরগঞ্জের বাড়িতে থাকার সময় তিন বছর আগে তার মুঠোফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। নম্বরটি ছিল সুরুজ মিয়ার। মুঠোফোনে তাদের পরিচয় হয়। তাদের নিয়মিত কথা হতো। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। তিনি তার প্রেমিকের নাম-ঠিকানা নেন।

ঠিকানা অনুযায়ী তিনি দুই বছর আগে ঢাকার সাভারে গ্যারেজ এলাকায় সুরুজ মিয়ার কাছে চলে আসেন। সেখানে সুরুজ মিয়া একটি রিকশার গ্যারেজে কাজ করতেন। তারা দুজন বিয়ে করে গ্যারেজ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

তরুণী জানান, তাকে কখনো সুরুজ মিয়া নিজের গ্রামে নিয়ে যাননি বা পরিবারের কারো সঙ্গে পরিচয় করাননি। একবার আক্কেলপুরে নিয়ে গেলেও, স্ত্রীকে তোলেন এক বন্ধুর বাসায়। স্বামীর বাড়ি কোন গ্রামে, সেটিও তিনি জানতেন না।

তবে মেয়েটি এবার ঈদুল ফিতরে তার গ্রামের বাড়িতে স্বামীকে নিয়ে বেড়াতে যান। পরিবারের সবাই বিয়েটা মেনে নেন। তবে ঈদের পর তাকে বাবার বাড়িতে রেখে সুরুজ মিয়া হঠাৎ করেই গা-ঢাকা দেন।

এর পর থেকে সুরুজকে আর মুঠোফোনে পাচ্ছিলেন না তিনি। পরে গত জুলাই মাসে সুরুজকে মুঠোফোনে পান তিনি। সুরুজ তাকে জানান, বাড়িতে কেউ তাকে মেনে নেবেন না। এ কারণে বাড়ি করার জন্য জায়গা কিনতে হবে। বাড়ির জায়গা কেনার জন্য এক লাখ টাকা দাবি করেন।

তরুণী এই প্রতিবেদককে কাঁদতে কাঁদতে জানান, শনিবার থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। পরদিন রোববার (৩০ আগস্ট ২০২০) থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) এসে তার সঙ্গে কথা বলে চলে যান।

তিনি বলেন, তিনি (সুরুজ) আমাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করছেন না। তাকে দেওয়া টাকা ফেরত না-পেলে বাবার বাড়িও যেতে পারছি না। আমার জন্য ইউপি সদস্য হেলেনা বেওয়া অপদস্ত হচ্ছেন। থানা–পুলিশও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমি এখন কী করব?

ইউপি সদস্য হেলেনা বেওয়া বলেন, সুরুজের স্ত্রী-সন্তান রয়েছে, এটাও মেয়েটি জানতেন না। সুরুজ মেয়েটিকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকারও করছেন না। যেন চেনেনই না। রাতে মেয়েটি কোথাও যেতে পারছিলেন না বলে টহল পুলিশ তার জিম্মায় দিয়ে গেছে। তিন দিন ধরে তার বাড়িতে আছেন। অভিযোগের ব্যাপারে সুরুজ মিয়ার খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে।

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ খান বলেন, মেয়েটির অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। যেহেতু এখানে তার কেউ নেই, তাই তাকে বাবার বাড়িতে চলে যেতে বলেছি।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন...