shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

নিত্য নতুন বাঁশ, লিটল ম্যাগাজিন ও অন্যান্য

Free prose

খুচরো কথা চারপাশে

নিত্য নতুন বাঁশ, লিটল ম্যাগাজিন ও অন্যান্য

সুনীল শর্মাচার্য

নিত্য নতুন বাঁশ, লিটল ম্যাগাজিন ও অন্যান্য

নিত্য নতুন বাঁশ আমাদের যাচ্ছে

নিত্য নতুন বাঁশ আমাদের যাচ্ছে। মুখ মূক। কান বধির। অদৃশ্য যন্ত্রণা। অহরহ সহ্য হচ্ছে। স্বাধীনতার এত বছর পরেও, আমরা ‘সাম্প্রদায়িক, সাম্প্রদায়িক’ বলে চিল্লায়ে গলা ব্যথা করছি! দেশের কর্ণধারগণ এই বাঁশ এখনো মন থেকে সরাতে পারেনি। উল্টো, বুমেরাং হয়ে সেই বাঁশ এখন বিষ বাঁশে দৃশ্যমান!

সম্প্রীতি, সংহতি আর ঐক্য—এই ধুয়ো তুলে রাজনীতি দলতন্ত্রের জ্যান্ত বাঁশে পরিণত! তাই শহরে-গঞ্জে, ঘরে ঘরে দলাদলি। মারামারি। দাঙ্গা খুনে আমরা বৃহস্পতি!

এই বাঁশ থেকে আমাদের নিস্তার নেই। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অধঃপতন আইন, বুদ্ধিজীবী, নেতা, দূষণে দূষণে বাঁশের ছড়াছড়ি! সবাই বাঁশ দিতে ওস্তাদ! সুযোগ সন্ধানী!

মুক্তবুদ্ধি, মুক্তচিন্তা উধাও—তবু বাঁশ বন্দনায় আমাদের হাঁটাচলা। সুখ্যাতি!!

.

কিছু লেখা

কিছু লেখা হয় নিজের ভালো লাগা থেকে, নিজের আনন্দের জন্য। পাঠক পছন্দ করলে ভালো, না-করলেও, লেখকের তাতে কি-বা আসে যায়! কোন লেখা কালোত্তীর্ণ হবে বলা যায় কি?

কাফকার লেখাগুলো বন্ধু ব্রড রক্ষা না-করলে চুলোয় যেত। গোগলের ক্ষেত্রেও একই কথা!

হাজার হাজার টন বালু ঘেঁটে সামান্য সোনাই তো মেলে, নাকি?

.

লিটল ম্যাগাজিন কই? সংকলন!

লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই। প্রতিষ্ঠানবিরোধী। রাগী লেখকদের কাগজ। ইত্যাদি। ইত্যাদি!

কিন্তু সেই লিটল ম্যাগাজিন আর আগের মতো নেই। তারুণ্যের ক্ষোভ, দ্রোহ, উৎসাহ কোথায়? কোথায় লিটল ম্যাগাজিনের আবশ্যিক শর্ত পালন! বেশিরভাগ লিটল ম্যাগাজিনের সংহত বিন্যাস হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে ভাবনা-চিন্তার লক্ষ্য আর নির্মাণের কাজ।

লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক/প্রকাশক এখন সাহিত্য সেবার পরিবর্তে তাদের স্বার্থ সেবায় বেশি আগ্রহী। বাণিজ্যিক হয়ে গেছে। তাই লিটল ম্যাগাজিন নামধারী সংকলন প্রকাশ করেন—যা ছোটকাগজ পদবাচ্য নয়।

নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে বিশেষ বিশেষ সংখ্যা করেন। তার প্রচার যাই হোক, অর্থনৈতিক দিকটা প্রবল। স্বতঃস্ফূর্ত সাহিত্যের ধারা মার খাচ্ছে। লিটল ম্যাগাজিনের চরিত্রে এটা একটা বাঁশ। লিটল ম্যাগাজিনের লেখক/কবি নিয়ে ক্রোড়পত্র কিংবা সংখ্যা হোক, কিন্ত তা কখনোই বাণিজ্যের বাজারে নোটবই না হয়!

তা ছাড়া গাঁটের পয়সা খরচ করে এখন আর কেউ পরের লেখা প্রচার করতে (ছাপতে) চান না।

ছাপলে সেই সংখ্যাটি লেখক কিনবেন—এই আশাটা প্রায় সম্পাদক পোষণ করেন। লেখক কপি উঠে গেছে। অনেক লিটল ম্যাগাজিনই বাণিজ্যিক হয়ে গেছে। দলতান্ত্রিক হয়ে গেছে। আর বিনিময় প্রথায় বিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।

ফলে যেসব লেখকরা লেখেন—নতুন চিন্তা-চেতনার ঘামঝরা ফসল এইসব কাগজে পাঠিয়ে ভাবেন তার রচনাটির সঠিক মূল্যায়ন হবে। মানে ছাপা হবে। অথবা, না-হলেও সম্পাদক মহাশয়ের মতামতসহ চিঠি পাবেন। এটা এখন দুরাশা!

অন্তত যা আগে ছিল। মনোনীত হলে বা না-হলে পত্রপাঠ জানানো, নিদেনপক্ষে একটা পোস্ট কার্ড পাঠিয়ে। পক্ষান্তরে, এখন লেখকের রচনাটি মনোনীত হলেও, জানতে পারেন না। আবার ছাপা হলেও, লেখককপি পান না। ক্রেতা হয়ে যে কিনবেন (ভদ্রতায়) বা সংগ্রহ করবেন, তাও হয়ে ওঠে না!

কোনো ক্ষুদ্র পত্রিকার সম্পাদক তার ক্ষীণ পত্রিকা কোনো লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদককে

পাঠালে—পরিবর্তে সে তার পত্রিকা এক কপি পাঠিয়ে সৌজন্যতা দেখান না। পত্রিকা আদান-প্রদান, মত বিনিময় প্রথা এখন উঠে গেছে। লিটল ম্যাগাজিন জগতে এটা কখনো কাম্য নয়! যদিও এখন ডিজিটাল সবকিছু। আদান-প্রদান, যাপন-চলাফেরা। তবু এর কারণ খুঁজতে দিশেহারা।

অর্থই অনর্থের মূল। সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা সবই পুঁজির দৌরাত্ম্য গ্রাস করছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। হয়তো এর থেকে বেরিয়ে লিটল ম্যাগাজিনের অন্যভাবে বাঁচার উপায় নেই!

.

মানুষ আসলে শিল্পী

আমি তখন গ্রামে থাকতাম। কুমার নদের পাড়ে। সকাল-বিকাল সাদা বক, সারস ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে যেত নদের উপর দিয়ে ভাটির দিকে। নদের পাড়ের ধার দিয়ে পায়ে চলা সরু রাস্তা। সেই রাস্তা দিয়ে একদিন এক বাউল একতারা বাজিয়ে গুনগুন করতে করতে ভাটির দিকে চলে যেতে দেখি।

সে চলে গেলেও, কিন্তু গুনগুনটা কানে বাজতে থাকে। তারপর ঘরে ফিরে একটা বাউল গান লিখেছিলেম। তারপর গানটি কখন হারিয়ে ফেলেছি। খুঁজে পাইনি। আসলে কি আমি কোনো গান লিখেছিলেম?

সেদিন মাইকেল এঞ্জেলোর একখানা বায়োপিক দেখছিলেম। তার জন্য পাহাড় কেটে বিশাল একটি আয়তাকার পাথরখণ্ড আনা হয়েছে। সেটা দেখিয়ে তিনি বলছেন, এই পাথরখণ্ডের মধ্যে কেউ লুকিয়ে আছেন। একজন শিল্পীর কাজ তাকে খুঁজে বের করা। অর্থাৎ মাইকেল যে ভাস্কর্যগুলো গড়েছেন, সেগুলো পাথরের মধ্যেই ছিল। তিনি শুধু খুঁড়ে খুঁজে বের করেছেন।

এটা শুনে মনে হলো, যে গানটি লিখেছিলেম—সেইটা আমি নিজে লিখিনি। তা প্রকৃতিতেই ছিল। আমি সেইটাকে খুঁজে বের করেছিলেম মাত্র। সবকিছুই আজ নিত্য শাশ্বত পুরনো। ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে। হারানোর কিছু নেই।

ভাবি, গানটি আবার ফিরে পাওয়া যাবে। আবার খুঁজে তাকে বের করব।

মিলান কুণ্ডেলা বলেছেন, আমরা প্রকৃতির অংশ। সবকিছু প্রকৃতিতেই আছে। প্রকৃতিতেই থাকে। প্রকৃতি থেকে কিছুই হারায় না। কেউ কেউ এই সত্যিকে ভুলিয়ে দিতে চেষ্টা করে। কিন্তু মানুষের লড়াইটা হলো সেই ভুলিয়ে দেওয়া সত্যিটাকেই ফিরিয়ে আনা। এইখানে মানুষ আসলে শিল্পী!

.

গাণ্ডুরামের ভাবনা

দেশের অর্থনীতির যে নয়ছয় হলো—তা নিয়ে তো অর্থনীতিবিদরা কিছু বলছেন না? যাবতীয় বক্তিমে কি জোচ্চোর নেতাদের??

দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত হলো রাজনৈতিক নেতাগণ। তার জন্য পড়াশোনার প্রয়োজন নেই, পড়ব তো আমরা, আর ওদের আমরা নেতা বানাবো শুধু তার জন্য। পড়াশোনা করা লোক কি রাজনীতি করে? ছিঃ!!

কলকাতায় আস্তে আস্তে বাঙালির সংখ্যা কমছে, এটা একটা চিন্তা-ভাবনার বিষয়! বুদ্ধিজীবী, নেতারা কি বলেন?

আশ্চর্যের কথা হলো, সংখ্যাগরিষ্ঠের যেসব ধর্মীয় আবর্জনা পরিত্যাগ করতে চায় বা করা উচিত বলে মনে করে—সংখ্যালঘুদের মধ্যে সেগুলোর প্রচলনকে আমরা সম্প্রীতির পরাকাষ্ঠা বলে মনে করি! এ এক অদ্ভূত প্যারাডক্স!

আমরা এখন এতবেশি ভার্চুয়াল আর ইন্টেলেকচুয়াল হয়ে পড়ছি যে, দু’দিন বাদে মরবো, এ-কথাটা ভুলেই গেছি!

ভালো বন্ধু কখনোই আপনার ভালো চাইবে না। কারণ সে জানে আপনার উন্নতি তার বন্ধুত্বকে কেড়ে নিতে পারে!

বিরোধীরা তো ধোয়া তুলসী পাতা

ক্ষমতায় যারা তারা অসুর ছা!

গণতন্ত্র আজ দলতন্ত্রে গাথা

রাজতন্ত্রের স্বৈরতন্ত্রে তা কাঁথা—

দেশজুড়ে তার ছবি, ঘোরে মাথা!

দেশের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার মান ততদিন উন্নত হবে না, যতদিন না সরকারি আমলা-মন্ত্রীদের চিকিৎসা সরকারি হাসপাতালে বাধ্যতামূলক করা হবে!

অন্যরা যা করে, তা সবই বোকা বোকা—আমিই শুধু চালাক!

১০

সামগ্রিকভাবে ভাবলে দেখা যায়, সমস্ত ধর্মেরই ধর্মাচারণ নামক বস্তুটি মূলত অবোধ, অবাস্তব, অলৌকিক উৎসজাত—তার যেটুকু মানবিক ও গ্রহণযোগ্য বলে আমরা মনে করি, তা আদতে ধর্ম অর্জন করেছে মানুষের অনন্য প্রবহমান জীবনযাপনের উৎসারিত আলো থেকে। বিনিময়ে ধর্ম মানুষকে দিয়েছে অসামান্য বিভেদ ও বিদ্বেষবুদ্ধি—যা প্রাচীন কাল থেকে ইতিহাসকে কেবলই রক্তাক্ত করে চলেছে!

…………………

পড়ুন

মুক্তগদ্য

খুচরো কথা চারপাশে : সুনীল শর্মাচার্য

কত রকম সমস্যার মধ্যে থাকি

শক্তি পূজোর চিরাচরিত

ভূতের গল্প

বেগুনে আগুন

পরকীয়া প্রেমের রোমান্স

মুসলমান বাঙালির নামকরণ নিয়ে

এখন লিটল ম্যাগাজিন

যদিও সংকট এখন

খাবারে রঙ

সংস্কার নিয়ে

খেজুর রসের রকমারি

‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ পাঠ্যান্তে

মোবাইল সমাচার

ভালো কবিতা, মন্দ কবিতা

ভারতের কৃষিবিল যেন আলাদিনের চেরাগ-এ-জিন

বাঙালিদের বাংলা চর্চা : খণ্ড ভারতে

দাড়ি-গোঁফ নামচা

নস্যি নিয়ে দু-চার কথা

শীত ভাবনা

উশ্চারণ বিভ্রাট

কাঠঠোকরার খোঁজে নাসা

ভারতীয় ঘুষের কেত্তন

পায়রার সংসার

রবীন্দ্রনাথ এখন

কামতাপুরি ভাষা নিয়ে

আত্মসংকট থেকে

মিসেস আইয়ার

ফিরবে না, সে ফিরবে না

২০২১-শের কাছে প্রার্থনা

ভারতে চীনা দ্রব্য বয়কট : বিষয়টা হাল্কা ভাবলেও, সমস্যাটা কঠিন এবং আমরা

রাজনীতি বোঝো, অর্থনীতি বোঝো! বনাম ভারতের যুবসমাজ

কবিতায় ‘আমি’

ভারতে শুধু অমর্ত্য সেন নয়, বাঙালি সংস্কৃতি আক্রান্ত

ধুতি হারালো তার কৌলীন্য

ভারতের CAA NRC নিয়ে দু’চার কথা

পৌষ পার্বণ নিয়ে

প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে

শ্রী শ্রী হক কথা

বর্তমান ভারত

ভারতের এবারের বাজেট আসলে অশ্বডিম্ব, না ঘরকা না ঘাটকা, শুধু কর্পোরেট কা

ইন্ডিয়া ইউনাইটেড বনাম সেলিব্রিটিদের শানে-নজুল

ডায়েরির ছেঁড়া পাতা

অহল্যার প্রতি

উদ্ভট মানুষের চিৎপাত চিন্তা

তাহারা অদ্ভুত লোক

পৌর্বাপর্য চিন্তা-ভাবনা

নিহিত কথামালা

অবিভাজ্য আগুন

পাথরের মতো মৌন জিজ্ঞাসা

ভাবনা যত আনমনে

বিবেক পোড়ে অশান্ত অনলে

কালাকালের ডায়েরি

উন্মাদের নীতিকথা

করোনা, ভারতীয় জনগণ ও তার সমস্যা

ধরি মাছ না ছুঁই পানি, ফেসবুক, কবিতা ও অন্যান্য

আমরা প্রত্যেকেই আজ ফ্যাসিস্ট এবং প.বঙ্গের বাঙালিরা

ফেসবুক, কবি, বুনো ফুল এবং আমিও পলিটিক্যাল

নিত্য নতুন বাঁশ, লিটল ম্যাগাজিন ও অন্যান্য

কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের একগুচ্ছ কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের ক্ষুধাগুচ্ছ

লকডাউনগুচ্ছ : সুনীল শর্মাচার্য

সুনীল শর্মাচার্যের গ্রাম্য স্মৃতি

নিহিত মর্মকথা : সুনীল শর্মাচার্য

প্রয়াণগাথা : সুনীল শর্মাচার্য

সুনীল শর্মাচার্যের কবিতাগুচ্ছ

অন্যভুবনের কবিতা

ঘোড়া : সুনীল শর্মাচার্য

মুহূর্তের কবিতা

অনুভূতি বেজে ওঠে

আমার কবিতা

সনেটগুচ্ছ

সুনীল শর্মাচার্যের সনেটগুচ্ছ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন...