মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়...

কবিতা

করোনাকাল
কবিতা, সাহিত্য

করোনাকাল

সুনীল শর্মাচার্যের কবিতা করোনাকাল করোনা কাল কোথাও শান্তি নেই— গহীন ভয় থেকে ছিটকে যায় মুখ . খোলা জানালার পাশে উড়ুখুড়ু হাওয়া, রাত অসহায় দর্শক . ভীরুরা অনন্ত মেখে ঘুমিয়ে পড়েছে . আর বিবর্ণ চাঁদ রাতকে চুমুতে বুক খুলে দেয় করোনা কাল দুই এই যে নিজেকে ঘরবন্দী করেছি : এখন একা,ভয় মুখ,প্রসন্ন না... নীল আকাশ ভালো লাগে না . এই যে নদী, জল, সবুজ গাছপালা জানালার দৃশ‍্যে ছড়িয়ে আলো... ভেতরে একা, বাইরেও একা, আহা, আলো, তুমিও একা না— . এই যে আলো, দৃষ্টির আলো— বাতাসে ছড়িয়ে সূর্যের আলো করোনা কাল তিন পেছনে ফিরলে পিঠে ছুরি বসাবে নিয়তি। আগুনের পাশে বসো, ওই ছায়াটির পাশে বসো— যেখানে তোমার পিতৃ-রক্ত লেগে আছে। . এভাবে বাঁচে না কেউ, ভুলে শিকড়ের টান! . বাতাসে বাতাসে বাজে গাছেদের পাতার বিষাদ....
জাহাঙ্গীর জয়েসের একগুচ্ছ কবিতা
কবিতা, বিশেষ প্রথম, সাহিত্য

জাহাঙ্গীর জয়েসের একগুচ্ছ কবিতা

জাহাঙ্গীর জয়েসের একগুচ্ছ কবিতা জাহাঙ্গীর জয়েসের একগুচ্ছ কবিতা শ্রীমুখ আমাদের অনেক বাড়ি আছে শ্রীমুখের মতো— যা বর্ষায় ফুটে ওঠে।  জাহাঙ্গীর জয়েসের একগুচ্ছ কবিতা নেকাব নেকাব নিয়ে খুনসুটি শুরু করেছে ওরা রাণী পুলকে আত্মহারা! জাহাঙ্গীর জয়েসের একগুচ্ছ কবিতা সমর্পণ মাথা দিয়েছি পেতে শরীরবিহীন পোশাকের মতো! জাহাঙ্গীর জয়েসের একগুচ্ছ কবিতা আফিম মেরে ফেলার আয়োজন করে গোরস্থানে গিয়ে কান্নাকাটি করো, বিষ ছড়িয়ে ছড়িয়ে অন্ধ করে দেও সবার চোখ; আফিমের নেশা এখন আরো চড়া! . ভাবনা ভাবিয়া দেখলাম—সাধারণ মানুষ আমরা : ক্যান্টনমেন্টে কীভাবে ভালুক ঢুকে তা বুঝা আমাদের কাজ না; কুর্তার রঙ কালো কেন বা জাদুকরের ইশারায় কেমন করে গায়েব হয়ে যায় আস্তো মানুষ—এসব নিয়ে গবেষণা আমাদের কম্ম না; কই, কোথায় কোন পাহাড় বা নগর পুড়লো— তা দি...
মশিউর নিশানের ছয়টি কবিতা
কবিতা, সাহিত্য

মশিউর নিশানের ছয়টি কবিতা

মশিউর নিশান ছয়টি কবিতা মশিউর নিশানের কবিতা নিত্য জীবন স্তম্ভিত হয়ে গেছে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, মন। পিছু পিছু ধাওয়া করে, ফুরিয়ে যাওয়া একটি ভুল! জীবনের মানে তুচ্ছ করে দিতে চায়, হতে চায় স্বৈরাচারী! কি অদ্ভুত আবেদন, বিনীত তবু অগ্রহণীয়! যন্ত্রণা শেষ সীমা ছাড়িয়ে আজ আছড়ে ফেলেছে আমাকে, তীব্র হতাশার বাহুডোরে। অতি আদিম মুক্তির দাবিতে— বিক্ষোভ করে মস্তিষ্কের অতিসূক্ষ্ম কোষগুলো একজোট হয়ে! স্মৃতি কাতর আত্না, মাঝে মাঝে সস্তা আবেগের চারপাশে পরিক্রমণ করে। বস্তুত, বয়স ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করে আর শুরু হয় নতুন যাত্রা! মশিউর নিশানের কবিতা বিন্দু বিদঘুটে সময় মাঝে মাঝে আরো দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। বুঝে ওঠার আগেই দৌড়াতে থাকে ক্ষিপ্ত ভঙ্গিমায়! ভেসে আসে বাতাসে খরস্রোতা নদীর অচেনা গর্জন, নেই কোনো উন্মত্ততা, দীর্ঘশ্বাসের অবতারণা ঘটে নির্দ্বিধ...
লকডাউনগুচ্ছ
কবিতা, সাহিত্য

লকডাউনগুচ্ছ

লকডাউনগুচ্ছ সুনীল শর্মাচার্য . করোনা এলো আমাদের দেশে... কীভাবে তিনি আমদানি করলেন? তা নিয়ে তর্কবিতর্ক থাক; প্রতিবাদ নেই . আমরা সবাই জানি : লকডাউনে মানুষের ’পর অত্যাচার নিপীড়ন খুব সহজেই চলে, শাসকের ইচ্ছা পূরণ . করোনায় যারা প্রয়াত-জীবিত লোকজন সকলেই ভূভারতে তরলংজলবৎ... . সমস্ত কথার শিল্প নিয়ে কবি লেখক, বুদ্ধিজীবী  গহ্বরে লুকিয়ে, শব্দ নেই . সমূহ লজ্জা নিয়ে, অপমানে                 অন্ধকার ঘরে বন্দী... ছাতুখোর, বিড়িখোর, গাঁজাখোর মদখোর, সুদখোর, ঘুষখোরে                  ভরে আছে দেশ গোপনে তাদের আঁতাত চলে... . এই নরনিধনের যজ্ঞ মেনে                 মেরুদণ্ডহীন ...
রাংটিয়া সিরিজ
কবিতা, সাহিত্য

রাংটিয়া সিরিজ

রাংটিয়া সিরিজ জ্যোতি পোদ্দার . এই অরণ্য আর যুগলকিশোর কোচদের নয়। এই অরণ্য এখন আমীন করাত কলের লিজের চাতাল। ট্রাকভর্তি উডলগ ট্রাকভর্তি উডলগ ট্রাকভর্তি উডলগ করাতের করালে স্লিম ফর্সা ইউক্লিপটাস ইলেক্ট্রিক পুল হচ্ছে। ছোট ছোট লাকড়ির আঁটি হচ্ছে                     বস্ত বস্তা কুড়া হচ্ছে ঝিমঝিম মাথা ধরা করাতের ঘড়ঘড় উপচে পড়ছে চারদিক। ইলেক্ট্রিক পুলে পুলে বাত্তি আর বাত্তি                        আর বাত্তিতে বাত্তিতে বাত্তিঅলা লোকের এবার হাট বসবে পঞ্চবটির আন্ধার করা ঝোপে ভোর হবার আগে বনমোরগ গলায় তুলবে ভোরের কীর্তন ঝোপের আড়ালে আর কালো কালো ঝো...
বিবিকা দেবের পাঁচটি কবিতা
কবিতা, সাহিত্য

বিবিকা দেবের পাঁচটি কবিতা

বিবিকা দেবের পাঁচটি কবিতা ভোরের পথিক দেবালয়ের দরজায় কড়া নাড়ে ভোরের পথিক। শুভ্র চিত্তে মনস কামনায়। টলমলে চোখের জল সিঞ্চনে জীবন পায় মনুষ্যবীজ। অঙ্কুরোদগমের উদরে ভাঁজে প্রাণের শেকড়। অন্তরে থর থর কাঁপে শঙ্খ আর কাসর ঘণ্টার প্রতিধ্বনি। ধূপ গন্ধের প্রার্থনায় গনগনে রোদের মাঝে হঠাৎ বৃষ্টির নিগূঢ়তা। উষ্ণ চোখের জল আর বৃষ্টির ফোঁটা মিশে ঘড়ির কাঁটার স্পন্দনে জঠরের চতুর্দিক। পাশে বয়ে চলা ইছামতির কলতানে দেয়ালে কান পাতি। ঝেপে আসা বৃষ্টির মাঝে একই পরিণতি। নদী তীরে বিছিয়ে থাকা কাশফুলে সুরের দোল।        .               আত্মজার ঘ্রাণ প্রতিদিন আমার আত্মজার শরীরে নিজের ঘ্রাণ খুঁজি। ভালো লাগে প্রতি নিঃশ্বাসে। এভাবেই আমারও কী ঘ্রাণ নিয়ে ছিল মা? মা মানে প্রথম শেখা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বুলি। মা মানে ভরাট দিঘীর বাতাসের দোলায় ছোট ছোট ঢেউয়ের শান্ত জল। আ...
জাহাঙ্গীর জয়েসের চৌদ্দটি কবিতা
কবিতা, সাহিত্য

জাহাঙ্গীর জয়েসের চৌদ্দটি কবিতা

জাহাঙ্গীর জয়েসের কবিতা . কবর কবর থেকে আমাদের দূরত্ব বেশি হলে দুইশো গজ; কখনো কখনো দুই তিন হাত কোনো সময় কোনো দূরত্বই নেই; এটা কোনো রূপকথা নয়— বিশ্বাস না-হলে যে বা যারা কবরের দায়িত্বে আছে, তাদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারো। . সাইনবোর্ড দাঁড়াও একটা সাইনবোর্ড নিয়ে আসি; পূর্বপুরুষের কিছু রক্ত ঢেলে দেই অথবা আফিম। . প্রাসাদ ভেড়ার পালের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে  প্রাসাদকে চুরমার করে দেয় পাগলের দল! . রোবট চতুর্পাশে যুদ্ধ যুদ্ধ মানুষ কাঁদে ত্রাসে; রোবটের তাতে কিছু যায় আসে! . বাগিচা বাজার আমরা আর যাই না বাগিচা বাজার বাপ-চাচারা কথায় কথায় বলতেন বাগিচা বাজার; আমাদের পরে আর কেউ চিনবে না বাগিচা বাজার; তবুও থাকবে বাগিচা বাজার! . রাজকাহন মানুষ এবং মুদ্রায় যে বাজারের কেরামতি— তা বুঝে না র...
আফরোজা অদিতির পাঁচটি কবিতা
কবিতা, সাহিত্য

আফরোজা অদিতির পাঁচটি কবিতা

আফরোজা অদিতির পাঁচটি কবিতা . তোমার আকাশ নীল আকাশটা চিরে দিয়েছে কারো ধারাল ঠোঁট। নীলের টুকরো ছড়িয়ে পড়ছে দুঃখের আকরে প্রকৃতির বুকে। . সাগর মাতাল। ডুবিয়ে দিয়েছে জেলে নৌকা। মাঝি ছেঁকে তুলতে পারছে না সুখের শুভ্রমুক্তো। লন্ডভন্ড জাল। . ফুলগুলো মলিন। মুমূর্ষ। কাছে নেই ভ্রমর। থেমে আছে দিকভ্রান্ত কালের জয়রথ। . পথ হারিয়েছ কী মেঘ নিষ্ঠুর কঙ্করে? . মেঘ ঘুরে দাঁড়াও। জোটবদ্ধ হও। গর্জে ওঠ সঘন বিদ্যুতে। নীলাভ আঁচলে নীলিম করো তোমার আকাশ। আফরোজা অদিতির কবিতা ভালোবাসার দ্বারে দুপুর যে তাঁর গোপন ব্যথায় ভরা চোখ দুটোতে শুধুই জলের খেলা শালুকদুপুর আর কখনো হয় না যে তাঁর দেখা! . লালচে বিকেল দিনের খেয়া বেয়ে থমকে দাঁড়ায় তাঁর পাশটি ঘেঁষে লক্ষ্মীপেঁচার পলকবিহীন চোখ বুকের কোলে দুঃখ বয়ে আনে . রাতের বেলা হৃৎকম...
তিলফুল
কবিতা, সাহিত্য

তিলফুল

তিলফুল জ্যোতি পোদ্দার . গতকাল টব এঁকে রুয়ে দিয়েছি মাধবীলতা। মাধবী তোমার নিত্য সহচরী। তোমার মতো জড়ানো ছড়ানো মেলবন্ধন স্বভাব। . আমি একাকী পথিক হাঁটতে হাঁটতে দেখি তোমার নিজস্ব স্বর। . কাল পেন্সিলে এঁকেছি ছোট ছোট কলি আজ দেখি ছেয়ে গেছে টব উজ্জ্বল মুখশ্রী সাদা আর নীলে কাজ করা বাতাসের সাথে খেলছে মাধবীলতা। . তখন আমি আর হাঁটি না। টবের একটু দূরে দাঁড়িয়ে হাতের ভাঁজে একে একে কুড়িয়ে তুলব তোমার সৌরভ আর তোমার অধর থেকে খসে পড়া তিলফুল। . একাকী পথিক আমি হাঁটতে হাঁটতে দেখি তোমার নিজস্ব স্বর                                           তোমার যাপনকলা। তিলফুল : জ্যোতি পোদ্দার ২ আমার নোটেশনের সুর বা স্বর একমাত্রার কারণে আমি মূলত ঘাড়ত্যাড়া ব্যক্তি। সঙ্গ ও সঙ্গিকে কয়েক কিলোমিটার দূরে কোনো লোকাল বাস স্টপেজে ফেলে এসেছি। বলে ...
নাসির আহমেদের দশটি কবিতা
কবিতা, সাহিত্য

নাসির আহমেদের দশটি কবিতা

নাসির আহমেদ-এর দশটি কবিতা . করোনার ছুটিশেষে করোনাতে ইসকুল বন্ধ ছুটি পেয়ে আহ কী আনন্দ! দিন যায় মাস যায় ছুটিতে ঘরে বসে ভাই-বোন দুটিতে খুনসুটি কতো খেলা খেলেছে চার দেয়ালেই ডানা মেলেছে। হঠাৎ খবর এলো  গতকাল ইসকুলে ছুটি আর কতকাল! এ মাসেই খুলে দেবে সরকার ইসকুল- লেখাপড়া দরকার। এই শুনে ভাই-বোন চিন্তায় দিন তো যাবে না তাক ধিনতায়! থেমে গেল আনন্দ- বাঁশিটি ফুরোলো ঠোঁটের সেই হাসিটি। মা বলেন, ওরে তোরা  বোকা কি! বিদ্যা ধরবে গাছে থোকা কি? সুন্দর জীবনটা গড়তে ইসকুলে  যেতে হয় পড়তে। পড়া আর খেলা দুই-ই চাই রে না-পড়া লোকের  দাম নাই রে। নাসির আহমেদের কবিতা এমন বিচ্ছিন্নতা কখনো দেখিনি খাঁ খাঁ শূন্যতাই বুঝি আরাধ্য পৃথ্বির! সব যোগাযোগ ছুঁয়ে ভীষণ আতঙ্ক বসে আছে, তাই সম্পর্কের রাশ টেনে যত দূরে থ...