shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

সুমিত মণ্ডলের পাঁচটি কবিতা

Five poems by Sumit Mondal

Five poems by Sumit Mondal

Five poems by Sumit Mondal

সুমিত মণ্ডলের পাঁচটি কবিতা

ঘুমের মধ্যে একদিন

একটা ঘুমের মধ্যে ধরো আমি নেই

আমার দেহ পড়ে আছি একটা মসজিদের পাশে।

শ্মশান যাত্রীরা কোনো একজনের পিতার মুখাগ্নি করে

বাড়ি ফিরছিল এই পথে…

ওদের হরিনামের আওয়াজে 

আমার দেহটা কবর দেবার অনুরোধ

কেউ শুনতে পেল না। চলে গেল ওরা।

একটা রাত চুপ করে বসে আছি কবরের পাশে

মুখ আর চেহারাটা ক্রমে হলুদ হয়ে আসছে

ভোরের নামাজ শুনে টলতে টলতে

শ্মশান থেকে এই পথে ফিরছিল একটা ডোম

ওর হাত থেকে পড়ে যাওয়া কলসি ভাঙার শব্দে

ঘুম থেকে উঠে দেখি আমি নেই।

কবরের মাটি ভিজে…

.-.

একটা গাছের কাছে

একটা গাছের প্রেমে পড়েছি

মাথা ভর্তি পাতা, যেমনটা—

একুশের মেয়ে। চুল এলিয়েছে রোদে।

সদর দরজা পাড় হয়ে বামদিকে

উঠোনজুড়ে

তার ফুল ঝরে পড়ে,

যেমনটা তুমি স্নান সেরে এসে—

পায়ের চিহ্ন রেখে যাও

আয়নার মুখে দাঁড়িয়ে থাকা মেঝেতে।

বসন্তের কাছে ধরা পড়ে যায়

সবুজ পাতায় আর বাতাসের আর্দ্রতায়

সেভাবেই কবে ধরা পড়ে গেছি

গাছটার কাছে…

.-.

দেশ

বাবা আর হাঁটতে পারি না একটু দাঁড়াও।

বাবা গলা শুকিয়ে আসা কণ্ঠে বলল—

আর একটু বাবা, এই তো পৌঁছে গেছি আর একটু।

সময় পেরিয়ে যাচ্ছে সেকেন্ড মিনিট ঘণ্টা

ঘণ্টা পেরিয়ে দিন। দিন শেষ হলে রাত।

রাত শেষ হয়ে আবার নতুন একটা সকাল।

বারো বছরের ছেলেটি হঠাৎ জানতে চাইল—

বাবা কোথায় আমাদের বাড়ি?

কোথায় আমাদের দেশ?

গরম পিচ ঢালা রাস্তার পাশ দিয়ে

ওরা হেঁটে যেতে যেতে থমকে গেল।

অথচ ওর পিতা বা পথিকেরা

এখনো কেউ বলে উঠতে পারল না

আমাদের একটাই দেশ।

এক মাটি এক মানুষ এক ঈশ্বর।

.-.

একটা দ্বীপের দেশ

নিজের দেশটা বিক্রি করে

বেঁচে আছে এই মহাসাগর।

আমাদের দেশে বৃষ্টি পড়ে

অথচ পাতা খসে পড়ে না গাছের।

গভীর খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে

একটা কিশোর নাবিক দিক নির্ণয় করে 

আলোর বিপরীতে কম্পাসে চোখ রেখে ।

সব রঙের আলোকিত মুখ

যেন এক মনে হয়

প্রতিদিন নামহীন কত ঢেউ

আসে আর যায়

তুমি প্রেমিক নাবিক

আজন্মকাল ঢেউ গুনতে গুনতে

একদিন ঘুমিয়ে পড়বে

দ্বীপের আঁধারে…

এই দেশ মাটির সন্ধানে

হেঁটে যাবে

জীবনের আয়ু রেখা ধরে।

.-.

তোমাকে জড়িয়ে থাকি

অদ্ভুত একটা অনুভুতি আছে

গাছের শরীর জড়িয়ে থাকার,

চোখের পলকে ধরে রাখা যায়

বাতাসের সুর।

পাখির গানের স্বরলিপির খাতা

নিরালায় ছাদে জল খেয়ে খেয়ে

ক্রমশ হলদে হয়ে থেকে যায়

বইয়ের মলাট।

মাঝিদের সুরে ভাঙা ভাঙা গানে

জলের স্রোত বুঝে যায়

মাছেদের খেলা…

এইভাবেই যেন বারবার ডুবে যায়

তোমাকে জড়িয়ে থাকলে।

সুমিত মণ্ডলের পাঁচটি কবিতা

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন...