রবিবার, মে ৯সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়...

সে এক বিদগ্ধ বেকুব

2 0
Read Time:33 Minute, 30 Second
He is a witty idiot

সে এক বিদগ্ধ বেকুব

লাবণ্য প্রভা

সে এক বিদগ্ধ বেকুব

গভীর সুখোচ্ছ্বাস নিয়েই ঘুম ভাঙল নাতাশার।

সারারাত এক অত্যুজ্জ্বল গমক্ষেতের মধ্য দিয়ে সে দৌঁড়ে গেছে। বাতাসে বারবার তার খড়ের হ্যাট উড়ে যায়। কে এক অনিন্দ্য সুন্দর তরুণ হ্যাটটি তুলে ধরে তার দিকে এগিয়ে আসে। সে মুখখানা এতো মায়াময়, এতো প্রেমময়! এমন মুখ সে কোথাও দেখেনি কখনো!

বাড়িয়ে দেয়া হ্যাটটি মাথায় দিয়ে আবার সে দৌড়ে যায় পাকা গমক্ষেতের মধ্য দিয়ে। বাতাস তার স্কার্ট ছুঁয়ে যায়। সে আনন্দিত হয়ে উঠে। এতো আনন্দ! জীবনের কাছে কৃতজ্ঞ হয় সে। পৃথিবী তার সমস্ত উপাচার সাজিয়ে তাকে আহ্বান করে নতুন একটি কর্মমুখর দিন শুরু করবার জন্য।

অথচ তার শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে আরো অনেকক্ষণ। কিছুতেই সে তার স্বপ্নের রেশ কাটাতে চায় না। জীবনের সমান চুমুক দিয়ে সে স্বপ্নটাকে উপভোগ করতে থাকে। ওই ওম ছেড়ে এতো দ্রুত উঠতে চায় না। সে পাশ ফিরে শোয়, আড়মোড়া ভাঙে।

আজ কী বার? হঠাৎই তার মনে পড়ে, আজ তো লেখকের সঙ্গে শহরের বাইরে যাওয়ার কথা! মানুষের ভিড়-ভাট্টায় বড্ড হাঁপিয়ে উঠেছে তারা। আসলে কোথায় যাবে সেটা বড় কথা নয়, তারা দুজনে একসঙ্গে বের হবে, সময় কাটাবে—এটাই বড় কথা।

তারা তো প্রায় বলতে গেলে জনসমক্ষে বেরই হতে পারেন না। নিজেদের মতো করে সময় কাটানো দূরে থাক। সবসময় ভিড় লেগে থাকে। অনেকদিন আজ তারা দুজনে বের হবেন। মনের মধ্যে একটা গান বেজে ওঠে। ‘কী সুর বাজে আমার প্রাণে প্রাণে…’ ফোন করবে তাঁকে?

ঘুম ভাঙিয়ে সুপ্রভাত বলবে? কিন্তু লেখক চান, সে তার ফ্লাটে যেয়ে ঘুম ভাঙাক। চাবি দিয়ে দরজা খুলে তার বেডরুমে প্রবেশ করুক। তার কপালে চুমু খেয়ে বলুক, সুপ্রভাত। যেমন করে, বুভোয়ার ডেকে তুলত সার্ত্রেকে। জ্য পল সার্ত্রের মতো জীবনযাপন করতে চায় সে।

তাই নাতাশাকে সে ‘বিভার’ বলে ডাকেন লেখক। সার্ত্রে যেমন বুভোয়ার কে ডাকতেন! বলেন, বিভার, সার্ত্রে আর বুভোয়ারের মতোই আমরা পরস্পরের বন্ধু থাকব আমৃত্যু। লেখকের কথায় তারও নিজেকে বুভোয়ার মনে হতে থাকে। নিজেকে তৈরি করতে থাকে। সেভাবেই।

পড়া-লেখা, লেখকের সঙ্গে সভা-সমিতিতে যাওয়া। লেখককে সবাই ঘিরে ধরে, সেও তখন সবার একজন হয়ে যায়। সে দেখে লেখক কিভাবে তার জনপ্রিয়তা উপভোগ করেন।

আহা!

বেড়াতে যাওয়ার কথা মনে হতেই তার ভেতরে চনমনে ভাব চলে আসে। ঘুমের জাড্য ভেঙে এখনই সে লেখকের ফ্লাটে যাবে, তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলবে। কপালে চুমু খেয়ে বলবে, ক্যাস্টর, সুপ্রভাত। লেখক উঠে যাবেন। তাকে পাল্টা বলবেন, সুপ্রভাত।

কিন্তু তার তখন ইচ্ছে করবে, লেখক তাকে জড়িয়ে ধরুক। চুমু খাক। বুকের ওমের ভেতর লুকিয়ে রাখুক। কিন্তু লেখক এগুলো করবেন না। খুব পরিমিত ব্যবহার করবেন তার সঙ্গে। সেও মেনে নেয়, হয়তো সার্ত্রেও এমন আচরণই করতেন!

খুব দ্রুতই তৈরি হয়ে সে লেখকের ফ্ল্যাটে আসে। কিন্তু কোথায় তিনি? শূন্য ফ্ল্যাট কেমন খাঁ খাঁ করছে! ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে সকালের প্রাতরাশের জন্য নির্ধারিত ক্যাফেতে ছুটলেন। না, সেখানেও তিনি নেই!

ব্ল্যাক কফি চাইলেন নিজের জন্য। লেখককে ছাড়া সকালের সময়টাই যেন মুখ থুবড়ে পড়তে চাইছে। বিস্বাদ হয়ে যায় তার মুখ। সকালের মিষ্টি সৌরভ এখন ফিকে হয়ে গেছে। পচা ইঁদুরের গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে বাতাসে। সব মিথ্যে হয়ে গেল।

কফি পান করতে করতে তবু, মনে মনে তাঁকে সুপ্রভাত জানায়। ‘ক্যাস্টর জীবনের সবকটি বাতিঘরের আলো যদি নিভে যায়, সেদিনও তোমাকে ‘সুপ্রভাত’ জানাতে আমি ভুলব না।’

কী জীবন ছিল আমার! অফিস-বাসা-অফিস। নিঃসঙ্গ। প্রেমহীন। কামহীন। তোমার সঙ্গে পরিচয় না-হলে বাইরে যেতাম না। বাইরের আলো-হাওয়া আমাতে স্পর্শ করতো না। অফিসের ঠাণ্ডা কক্ষের ভেতর কাজ করতে করতে আমার জীবনটাও ঠাণ্ডা শীতল হয়ে যেতো! উষ্ণতা অনুভব করতাম না।

সে এক বিদগ্ধ বেকুব

কিন্তু কোথায় লেখক!

পরিচিত সব বন্ধুদের কাছে তার খোঁজ করে নাতাশা। না, তাদের কাছে তিনি যাননি। কোনো সভা-সমিতিতে গিয়েছেন কি? তারও তো কোনো খবর নেই।

আসলে তার এতো উৎকণ্ঠা থাকতো না। তারা যে সময়ে বাস করেন, তা খুবই জটিল সময়। লেখককে নানা সভা-সমিতিতে যেতে হয়। রাজনীতি, পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে হয়। মৌলবাদবিরোধী বক্তৃতা দিতে হয়। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কথা বলতে হয়। সেই সময়কার সার্ত্রের মতোই। যখন পৃথিবীময় একটি বিরাট পরিবর্তনের হাওয়া বয়ে গেছে। দেশ আমূল সাংবিধানিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে লাগল, কিন্তু তখন সার্ত্রের কাছে মনে হলো দেশে স্বৈরাচারের উদ্ভব হতে চলেছে।

তিনি আলজেরিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে প্রচার চালান। তার সঙ্গে ১২১ বুদ্ধিজীবী আছে, আছে বুভোয়ারও। ফলে অনেকে তাঁকে দেশদ্রোহী আখ্যা দেন এবং প্যারিসের রাস্তায় শ্লোগানও ওঠে— ‘সার্ত্রকে গুলি কর’।

সার্ত্র এবং বুভোয়ার দুজনই হুমকির মুখোমুখি হন এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পালিয়ে বেড়ান। হত্যার হুমকির জন্য ঘরের বাইরে যেতে পারতেন না তারা। অবশেষে যখন তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করা হয়, তখন প্রেসিডেন্ট দ্য গলকে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, সার্ত্রের বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেছিলেন : ‘ভলতেয়ারকে বন্দি করা যায় না।’

লেখকের ওপর এখন যদিও অমন খড়গ ঝুলে নেই, কিন্তু সাবধান হওয়া তো বেঠিক নয়, এই রকম অবস্থায় লেখকের এই আকস্মিক উধাও হয়ে যাওয়া মোটেই সাহসের পরিচায়ক নয়! লেখক বলেন, যে কোনো সময় তিনিও গুলির মুখে পড়তে পারেন। জেলে যেতে পারেন!

কিন্তু, তাকে না-বলে তো কোথাও যান না তিনি।

আজ পর্যন্ত তারা যা করেছেন, তা তো দুজনেরই জ্ঞাতসারে। এমনকি প্রেমিক-প্রেমিকাদের যে বিষয়গুলো নিয়ে সাধারণত ঝামেলা হয়, সে কারণগুলোও তো তাদের মধ্যে নেই। গোপনতম বিষয়ও তার সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন। আজ তবে কী এমন হলো, তাকে না-বলে লেখক কোথাও চলে গেলেন!

মন খারাপ করা অনুভূতি নিয়ে নাতাশা সারাশহর ঘুরে বেড়ায়। ‘হে আমার মন তুমি ভালো হয়ে যাও। হয়তো তার কোনো জরুরি কাজ আছে, হয়তো সে ঘুমিয়ে ছিল বলে তাকে জাগাননি।’

কিন্তু মন কেন যে মানতে চাইছে না! পুরো সকালটাই বিবর্ণ বিস্বাদে ভরে যায়। কী করবে সে এখন? মনের চাপ বের করে দিতে ও কি লেখককে কি চিঠি লিখতে বসবে! কিন্তু কি বলে সম্বোধন করবে তাকে! প্রিয়! প্রিয়তম! প্রাণ! এ শব্দগুলো দিয়ে কি তাকে সম্ভাষণ করা যায়! তার জন্য চাই নতুন কোনো শব্দ। কোনো গভীরতর শব্দ আবিষ্কার করতে হবে তার জন্য। যে শব্দে প্রেমের সঙ্গে মিশে আছে শ্রদ্ধা, অনেকটা পিতার মতো। পিতাকে কি কখনো ‘প্রিয় পিতা’ বলে সম্বেধন করা যায়! যথোপযুক্ত শব্দ না-পেয়ে তার অস্থির লাগে।

‘আপনি খুব অল্পেই অস্থির হয়ে যান বিভার।’ লেখক তাকে বারবার এ-কথাটি বলেন। ‘কী করবো বলুন, আপনার চিন্তায়ই তো আমি অস্থির হয়ে গেছি। আপনি খেয়েছেন কিনা, কোন জামাকাপড় পরেছেন—এসব ভাবতে হচ্ছে।

আপনি তো জানেন, আপনি না-থাকলে আমি যে নিজের অস্তিত্বকেই নিজের বলে চিনতে পারি না। কই অন্য কারো বেলায় তো এমন হয় না। আপনার বেলাই হয়। ভালোবাসলে এমন হবেই।

ভালোবাসা আসলে কি? তা আপনিও জানেন, আমিও জানি। ভালোবাসা এক ধরনের বন্ধনও। এই যে আমি চাইছি আপনি সবসময় আমাকে বলে যাবেন, কোথায় যাচ্ছেন, কী করছেন? তাহলে বোধহয় আমি আপনাকে বন্ধনে জড়িয়ে ফেলেছি!

আবারও বিষন্নতা ঘিরে ধরলো তাকে। কাল পর্যন্ত যা ছিল আবেগের চূড়ান্ত শিখর, আজ তার ব্যারোমিটার নামতে নামতে নামতে একেবারে শূন্যের দিকে যাচ্ছে। ঘুরে ফিরে নিজেকে পরিত্যক্ত মনে হচ্ছে কেন? নিজেকে এতো উপেক্ষিত মনে হচ্ছে কেন?

‘বন্ধুদের অগ্রযাত্রায় কি তবে আমি ঈর্ষান্বিত? কিন্তু ঈর্ষা বলে তো আমার ভেতর কিছু অবশিষ্ট থাকতে পারে না। তবে আমার সমস্যা কোথায়?’ নির্নিমেষ শূন্যতার দিকে তাকিয়ে থাকে সে। যেন দূরের কোনো গ্রহ থেকে পৃথিবীকে দেখছে।

কেমন অবিশ্বাস্য মনে হয় সবকিছু। যে ছোট ছোট জিনিস তাকে মুগ্ধ করতো, তা আর মুগ্ধ করতে পারছে না। কেবলই মনে হচ্ছে পৃথিবীর কোথাও কোনো স্থানে তার অস্তিত্ব নেই।

‘একদিন এই পৃথিবীতে আমি থাকবো না, আমার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সবকিছু সমাপ্ত হয়ে যাবে। কবির বিষয়ে তো ওকে আমি বলেছি। এ নিয়ে কি ওর ভেতরে কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি হলো?’

‘কী যে আজেবাজে কথা ভাবছি আমি? লেখক আমাকে বলেছিল, আমার একটা জিনিস ওঁকে খুব আকর্ষণ করে, তা হলো গভীরতা, যাকে সে বলে জীবন সম্পর্কে আমার সচেতনতা।’

আর তার পিতা তাকে বলতেন, নাতাশা অন্যরকম। সে কোনো নারীর মতো নয়। পিতার এই কথা তাকে পড়াশোনার উদ্বুদ্ধ করেছে। তার পিতার যৌতুক দিয়ে মেয়ের বিয়ে দেয়ার সামর্থ ছিল না। তাই তার মন থেকে বিয়ে বিষয়টি সরিয়ে দেন। প্রয়োজনীয় শিক্ষা দিয়ে মেয়েকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কথা বলেন।

পিতার অনটন নাতাশার জন্য শাপেবর হয়েছে। পিতার যথেষ্ট সম্পদ থাকলে হয়তো সে কোনোদিনই নাতাশা হয়ে উঠতে পারত না। সেই অল্প বয়স থেকে একটি বিষয়ে সে স্থির ছিল, কখনো সন্তানের জননী হবে না এবং বিয়ে করে সংসার করবেন না।

সেই বয়সেই তিনি বুঝে গিয়েছিল, এই দুটি দায়িত্বই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিপন্থী ও ব্যক্তির নিজের স্ফূরণের বেলায় বাধা সৃষ্টিকারী। সে লেখক হবে বলে মনস্থির করে।

লেখকের সঙ্গে যেদিন তার দেখা হয়েছিল, সেদিন কী বার ছিল? শনিবার না-কি বৃহস্পতিবার! বারটি মনে না-এলেও তার বেশ মনে আছে, সেই দিনের কথা—

কবির সঙ্গে সদ্য সম্পর্ক ভাঙা বেদনায় মুষড়ে পড়েছিল সে। যদিও কাউকে বুঝতে দেয়নি। কারো সঙ্গে নিরন্তর কথা বলার জন্য, একটু ঊষ্ণতার জন্য উন্মুখ হয়ে উঠেছিল। একসময় লেখক তাকে ফোন করতেন। সে, ব্যস্ত বলে রেখে দিতো। তার ফ্ল্যাটে আহ্বান জানাতেন। দেখা করতে চাইতেন। তার পর একসময় তাকে ফোন করা বন্ধ করে দিলেন।

দীর্ঘ পাঁচ বছর লেখকের কথা একবারও মনে পড়েনি তার। নিঃসঙ্গ অবস্থায় সে তন্ন তন্ন করে ফোনবুকে একটা নাম খুঁজতে থাকে কথা বলার জন্য। অমুক, না। অমুক, না। কাউকে ভালো লাগে না। তখন তার মনে লেখকের কথা। লেখকের নম্বরে ফোন করে। ফোন বন্ধ। সকাল বিকাল রাতে ফোন করে। ফোন বন্ধ। অবশেষে ২ জুন গভীর রাতে বসে লেখককে মেইল করে।

‘কেমন আছেন আপনি? কোনো ফোন নম্বর পাচ্ছি না, আপনার সঙ্গে কথা বলবো। দেশে আছেন, নাকি বাইরে? জানাবেন প্লিজ।’

৬ জুন মেইলের উত্তর আসে।

‘ভালো না।

আমি কোনো ধরনের ফোন ব্যবহার করছি না। আমি আসলে অজ্ঞাতবাসে আছি। প্রত্যন্ত একটা গ্রামে আছি, এক সপ্তাহ ধরে। ঠিকানা কাউকে জানাইনি। সংসার এবং সমাজ থেকে দূরে আছি। কবে আত্মপ্রকাশ করবো জানি না। হৃদয় থেকে অনেক বেশি রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম আপাতত মেইল। আপনার কণ্ঠ শুনলে ভালো লাগবে। কিন্তু আপাতত সম্ভব না। ভালো থাকুন।’

সে এক বিদগ্ধ বেকুব

সে প্রত্যুত্তরে লেখে,

‘আপনার অজ্ঞাতবাসের কারণ আমি জানি না, জানতেও চাই না। আপনাকে খুব প্রয়োজন ছিল। আমার ব্যক্তিগত প্রয়োজন। যাই হোক, একজন শিল্পী যেমন জীবনযাপন করবেন তাই আমার কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণীয়। যদি এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধু ভেবে থাকুন, ভাববেন পাশে আছি।’

তার পর থেকে নিরন্তর মেইল করা পরস্পরকে। পরস্পরের লেখা পাঠ করা। তার কাছ থেকে একটা লেখা পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে উত্তর দেন লেখক, ভালোবাসার প্রকাশ এতো সুন্দর হতে পারে আমার জানা ছিল না!

পরের চিঠিতে লেখেন, এটা তো আপনি আমাকে নিয়ে লেখেননি। সে স্বীকার করে জানায়, তার গভীরতর বেদনার কথা। কবির সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার কথা।

তিনি বেদনাহত হন। বলেন, এখন থেকে আর কারো কথা ভাববেন না আপনি। কেবল আমার কথা ভাববেন। অন্য কারো কথা ভাবলে আমি কথা বলা বন্ধ করে দেবো।

অক্টোররের কোনো এক সন্ধ্যায় তারা চা-পান করেছিলেন একসঙ্গে। তারা দু’জন ছাড়া সেখানে আর কেউ ছিল না। সেই সন্ধ্যায় লেখক হঠাৎ বলে উঠেন, তুমি নিশ্চয়ই জানো এবং বুঝতে পারছো এমন অস্থায়ীভাবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন আমাদের ফুরিয়েছে। আমার বিশ্বাস আমরা এখন থেকে সবসময়ই একত্রে থাকবো—আমাদের থাকতেই হবে—কারণ আমরা দু’জন দু’জনকে যেভাবে বুঝতে পারি, আর কেউ আমাদের বুঝতে পারে না।

তাঁর এমন কথায় সে অবাক হলেও বলেছিল, হ্যাঁ তাই হবে। আর আনন্দে একেবারে বিভোর হয়ে গিয়েছিল সে। সেই থেকে তাদের দু’জনের জীবন এমনভাবে জড়িয়ে গেছে, যেন চিরদিনের জন্য নিয়ন্ত্রিত হয়ে গেছে। তাদের সম্পর্ক স্থির হয়ে গেছে। আর নতুন করে ভাববার কিছু নেই। কী আছে তাদের সম্পর্কে! নির্ভরতা, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা।

.

পরশু একটা বই এসেছে। তার আধখানা সে উল্টেপাল্টে দেখেছে। বইটা হাতে নেয় সে। কী একঘেয়ে বই! মানুষে মানুষে সম্পর্কের পুরনো বস্তাপঁচা কাহিনী। এটা কোনো বিষয়ই নয়, যদি ইচ্ছে থাকে তাহলে যে কোনোভাবেই ভাবের আদান-প্রদান করা যায়। সবার সঙ্গে না-হলেও, কারো কারো সঙ্গে তো বটেই।

কখনো কখনো লেখককে তার ছোটখাটো মানসিক অবস্থা, দুঃখকষ্ট বা ছোটখাটো উৎকণ্ঠা জানানো হয় না। হয়তো তিনিও তাঁর কিছু কিছু কথা গোপন রাখেন। কিন্তু মোটের ওপরে এমন কিছু নেই—যা তাদের দু’জনের অজানা। সে তো লেখকের কপালের ভাঁজও পড়তে পারে।

ধোঁয়া ওঠা কড়া চা ঢেলে চুমুক দিতে দিতে তারা বই পড়ছিল। সমস্ত ঘর সূর্যালোকে ভরে যাচ্ছিল। গুণে শেষ করা যাবে না কতদিন এভাবে বসেছে তারা! বহুদিন এবং হয়তো আরো বহুদিন বসবেন।

জানালাটা খুলে দিলো নাতাশা। এতো তীব্র গরম। সমস্ত শহর যেন গলে যাচ্ছে। হাওয়ায় গলন্ত পিচের গন্ধ। নাতাশার দৃষ্টি লেখকের দিকে, ওঁর চলে যাওয়াটা দেখতে পাচ্ছে সে। ধীরে ধীরে তাঁর শরীরটা ছোট হতে হতে মিলিয়ে যায়।

এই পথকে তার ভালো লাগে, কেননা এই পথটাই তাঁকে কাছে টেনে আনে। এই পথ দিয়েই লেখক তাঁর কাছে ফিরে আসবেন। দীর্ঘক্ষণ বারন্দায় দাঁড়িয়ে রইলো সে। ছাদের উপর পায়রা উড়ছে। আশ্চর্য! নিজের বাড়ির চারপাশকে আজ নতুন করে আবিষ্কারের মতো মনে হচ্ছে।

সে বারান্দা থেকে ঘরে প্রবেশ করে। ডেস্কের ওপর সাদা সাদা কার্ড দেখে মনে হয়, অনেক কাজ বাকি আছে। কাজ শুরু করা প্রয়োজন।

অথচ আজকের দিনটা গতকালের মতো নয়। না আবহাওয়া, না সময়। গতকাল তিনি বলেছিলেন ফিরতে দেরি হবে। লাইব্রেরি থেকে ফিরে তিনি পরিবেশ-বিষয়ক এক সেমিনারে গিয়েছিলেন।

.

সবকিছু ঠিকমতো হচ্ছে তো?

হুম, নতুন ঘোষণাপত্রের বয়ান তৈরি হয়েছে। এবার তাদের সবকিছু মানতেই হবে।

হয়েছে, অনেক কাজ করেছেন এখন একটু কমিয়ে দেন। নিজের শরীরের উপর এতো জোর দেবেন না।

ঠিক আছে এখন থেকে বেছে বেছে কাজ করবো।

কালকের এই কথোপকথন কেবলই অতীতকাল, কেবলই স্মৃতি হয়ে যাচ্ছে। ক্যাস্টর কোথায় তুমি! তোমার খবর না-পেয়ে যে দমবন্ধ হয়ে আসছে আমার!

সারাদিন পার হয়ে যায়, লেখক ফেরেন না। তার ভেতরে রক্ত রাগে টগবগ করে ফুটতে থাকে। আজ কোথাও যাওয়া হলো না, পড়া হলো না, লেখা হলো না। কারো সঙ্গে দেখা করতেও ইচ্ছে হয়নি। মনের ভেতর তাঁর জন্য যে ভাবমূর্তি ছিল, তা ভেঙে খান খান হতে থাকে। তার প্রতি এতোটাই নিরাসক্তি!

তাদের দুজনের বড় যে বিষয়, তা হলো : পরস্পরের কাছে সৎ থাকা। অনুভবে, চিন্তায়, বিশ্বাসে, বাক্যে, আচরণে। তারা দুজনেই ব্যক্তি-স্বাধীনতা, ন্যায় ও সাম্যের পক্ষে। তাহলে আজ তার এই উৎকণ্ঠা কি অমূলক নয়!

.

‘কোথায় তুমি ক্যাস্টর! তোমাকে ছাড়া আমার যে একটুও ভালো লাগছে না।’ তবে কি আসলেই সে ওই ইমম্যাচিউরড মেয়েটার সঙ্গে আছে। যাকে নিয়ে মাঝে মাঝে বন্ধুর ফ্ল্যাটে যায়! ওই ন্যাকামোপূর্ণ মেয়েদের সঙ্গে সে কিভাবে থাকে!

কয়দিন আগে তার এক বন্ধু লেখকের সঙ্গে ওই মেয়ের ছবি পাঠায়। সে হেসে উড়িয়ে দেয়। ‘ফিরে এসো সোনা আমার।’ এ-কথাগুলো সে কখনোই উচ্চারণ করতে পারবে না। কেননা তার মধ্যে দার্শনিকতা দেখতে চাইবেন লেখক। কোনো ছেলেমানুষী নয়।

তারা দেশ পরির্তনের কথা বলবে। বিপ্লবের কথা বলবে। নতুন যে বিষয়টি নিয়ে সে লিখছে, তার আলোচনা-সমালোচনা করবে। কিন্তু সেও যে রক্তমাংসের মানুষ। তারও তো আবেগ মাঝে মাঝে খুব তাড়িয়ে ওঠে।

কটা বাজে এখন! ঘড়িটা কি বন্ধ হয়ে গেল নাকি! নাহ! এর কাঁটা যেন নড়তেই চাইছে না।

আকাশ-পাতাল ভাবতে ভাবতে নাতাশা ঘুমিয়ে যায়। স্নানের ঘরে জলপড়ার শব্দ হচ্ছে। কোলনের মিষ্টি ঘ্রাণ ভেসে আসছে। সে হাত বাড়ায়, ওর শরীরটা চাদরের ভেতর ঢুকে যায়। আবেশে চোখ বন্ধ হয়ে আসে তার। ফিসফিস করে বলে, ক্যাস্টর!

এই প্রথম লেখকের অবর্তমানে ওর ফ্লাটেই ঘুমিয়ে ছিল সে। সকালে ক্লান্ত-শ্রান্ত অবস্থায় লেখক ফেরেন। ভোরের আলোয় তাকে বিমর্ষ দেখায়। নিজের ফ্লাটে নাতাশাকে দেখে সে হতবিহ্বল হয়ে যায়। তুমি! সারারাত আমার অপেক্ষায় বসেছিলে!

আর বলো না, মা হঠাৎ করে জ্বর বাঁধিয়েছে। সেখানেই চলে গেলাম। তোমাকে বলার সুযোগ পাইনি। চলো নাস্তা করে আসি।

তার সমস্ত রাগ জল হয়ে যায়। শিশুর মতো কাঁদতে ইচ্ছে করে। মেলায় মধ্যে হারিয়ে গিয়ে বাবাকে ফিরে পেলে যেমন লাগে, তার ঠিক সেই রকম বোধ হচ্ছে। ওঁকে সে কিছুই বলতে পারে না। নিজের ঘরে এসে খুব ভালো করে স্নান করে। পারলে ওডিকোলনের শিশি পুরোটাই সারাশরীরে উপুর করে ঢেলে দেয়। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে গলায় তিন ভাঁজের মুক্তোর মালাটা পড়ে। কানে বড় পাথরের টপ। নিজেকে কি আকর্ষণীয় লাগছে না!

‘যথেষ্ট আকর্ষণীয় লাগছে।’

পেছনে কখন যে লেখক এসে দাঁড়িয়েছে, টের পায়নি সে। তাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে। আলোর মতো সে স্পর্শে তার ভেতরে ভাঙচুর হয়ে যায়। সে ফিসফিস করে বলে, আরেকটু ধরে রাখুন আমায়…

না, গোটাটাই স্বপ্ন। অবশেষে, সে কফির মগটা হাতে নিয়ে লেখককে ফোন করে।

.

রিং বাজছে। কেউ ফোন ধরছে না।

আবার ফোন করে।

কেউ ধরে না।

সে বসে থাকে চুপচাপ।

হঠাৎ রিংটোন বেজে ওঠে।

হ্যালো।

আপনিই নাতাশা? কেমন আছেন?

সে এক বিদগ্ধ বেকুব

যাঁর ফোন তাকে দিন।

আমার সঙ্গেই কথা বলুন।

মেয়েটির ঔদ্ধত্যে তার রক্তে আগুন ধরে যায়।

আপনি কে?

আমি তার গার্ল ফেন্ড।

বেকুবের মতো সে উচ্চারণ করে, তাহলে আমি কে?

আপনি তার ফ্রেন্ড।

ভালো লাগলো শুনে।

মেয়েটি এক ঝটকায় তাকে যেন উঁচু চূড়া থেকে ফেলে দিলো। তবু, সে মরিয়া হয়ে বলে, লেখকদের এরকম হাজারো গার্লফ্রেন্ড থাকে। যেন নিজেকে বাঁচাবার শেষ অস্ত্রটুকু ছেড়ে দেয় বাতাসে। মেয়েটির উপর তার কোনো রাগ হয় না।

সমস্ত ঘৃণা যেন ওই পুরুষটির ওপর পড়ল। যাকে ঘিরে মেয়েটির এই খেলা। ‘এসব বিষয়ে কথা বলতে ভালো লাগছে না আমার।’ বলে, ফোন কেটে দিলো সে।

আশ্চর্য লেখকের ফোন ওই মেয়েটির হাতে কেন? কেন লেখক তার সঙ্গে ওই মেয়েটিকে কথা বলতে দিলো!

সে আর ভাবতে পারে না। ভেতরে ভেতরে কেমন স্তব্ধ, নীরব হয়ে যায় সে। ‘ও বোধহয় পাল্টে যাচ্ছে। কিন্তু এমন তো নয়, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তিকর বিবাহিত জীবনযাপন করছি! আমাকে কি সে আর আবিষ্কার করতে পারছে না! আমার মধ্যে নতুন কিছু খুঁজে পাচ্ছে না? তবে কি আমাদের এখন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া উচিত!’

নাতাশার রাগ হয়। রাগ তাকে সবকিছু থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। ওকি আমাকে বলবে না, ‘সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। ধৈর্য্য ধরো, কয়েকটা ঝড়-ঝঞ্ঝার পর সবকিছু শান্ত হয়ে যাবে। ওকি জানে না, আমার ভালো লাগছে না। আমি গান শুনতে পারছি না। ভেতরে ভেতরে কেমন যেন ভয় লাগতে থাকে আমার।’ ও অপেক্ষা করবে, কথা বলবে। কিন্ত লেখক যদি বলে তাকে আর ভালো লাগছে না, তখন সে কি করবে!

সে অপেক্ষা করে লেখকের ফিরতি ফোন আসার। আসে না। সারাদিন অতিক্রান্ত হয়ে রাত এলেও ফোন আসে না তাঁর। সে বুঝতে পারে, লেখক তাকে ভয় পাচ্ছে। কী বলবে তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেমন করে মেয়েটিকে প্রবোধ দিয়েছে।

নাতাশার মা অসুস্থ, এ-জন্য তাঁর কাছে বন্ধু হিসেবে পরামর্শ চেয়েছে। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নাকি তাদের মধ্যে! মেয়েটি নাতাশা সম্পর্কে এটাই জেনে এসেছে লেখকের কাছ থেকে।

হায়! তাই তো লেখক তার প্রতি শারীরিক আকর্ষণ দেখায় না। সে উত্তেজিত করার চেষ্টা করলেও, নিজেকে গুটিয়ে নেয়। বলে, শরীর কিছু না। ক্লান্ত লাগছে। সে মনে করত আসলেই তাই। মনটাই সব।

সে এক বিদগ্ধ বেকুব

গলায় ছুরি চালিয়ে ঘাতকরা আজ আয়নামহলের সব পুরুষদের মেরে ফেলেছে। আয়নামহলের নারীদের মতো আজ তার হৃদয়ও চূর্ণিত হয়ে গেল। নাতাশার মনের আয়নাটা ভেঙে হৃদপিণ্ড রক্তাক্ত হয়। হৃদপিণ্ডের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আহত কণাগুলোকেও সে দেখতে পায়।

নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে করতে শেষ পর্যন্ত রাত দশটায় নাতাশাই ফোন করে। সারাদিন যেন কিছুই হয়নি এমন ভাব করে। লেখকই কথা পাড়েন। তখন সে বলে, আমি আপনার কাছ থেকে ফোন আশা করেছিলাম। বলে গেলেই হতো, ব্যস্ত আছি। উৎকণ্ঠ হয়ো না।

লেখক বলেন, তিনি ফোন করতেন, তার আগেই সে ফোন করেছে। মেয়েটি নাকি অনেকদিন আগের ভালোবাসার দাবি নিয়ে তার কাছে এসেছে। লোকজন জানে তার সঙ্গে লেখকের সম্পর্ক আছে, তাই তার বিয়ে হচ্ছে না। এসবের ফয়সালা করতে এসেছিল।

নাতাশা কিছুই বলে না। সে নাকি জোর করে তার হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়েছে। অথচ নাতাশা নিজে ফোনটিতে পাসওয়ার্ড দিয়ে দিয়েছিল, যাতে কেউ ফোন খুলতে না পারে। নাতাশা প্রযুক্তিতে এতো কাঁচা নয়, এটা বুঝবে না, নিজের ফোন খুলে না-দিলে অন্য কেউ কথা বলতে পারে!

তা ছাড়া মেয়েটিকে মোটেও রাগান্বিত মনে হয়নি। বরং আত্মবিশ্বাসী, প্রশান্ত মনে হচ্ছিল। কারো বুকের ভেতর লেপ্টে থাকলে যেমন বেড়াল বেড়াল কণ্ঠস্বর হয়, সেরকম হয়েছিল মেয়েটির কণ্ঠও। নাতাশার বড় দোষ সে মানুষের কণ্ঠের কম্পন ধরতে পারে। কেননা, কবির সঙ্গে তাকে কণ্ঠস্বরের মধ্যদিয়েই দীর্ঘ দশ বছর যাপন করতে হয়েছিল।

লেখকের কথায় নাতাশার ভেতর আয়নামহলের বাকি অংশটুকুও ভেঙে যায়। মিথ্যাচার! এমন প্রকটভাবে! সে খুশি হতো, লেখক যদি তাকে বলতেন, বিভার এই মেয়েটিকে আমি পছন্দ করি। তার সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য আমি তাকে ডেকেছি। এতটুকু সততা তার কাছ থেকে আশা করেছিল সে। তাকে এতোটাই বেকুব ভাবে লোকে! যে অনায়াসে তাকে বোকা বানানো যায়! মিথ্যে বলা যায়! নাতাশা ফোন রেখে দেয়।

সে এক বিদগ্ধ বেকুব

এক সমুদ্র দুরত্ব হয়ে যায় তার আর লেখকের মধ্যে। সে ওই সমুদ্র আর পার হতে চায় না। এতোদিনের সমস্ত কিছু তার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। ভালোবাসা বা প্রেম এলে তা কোনোভাবেই ঠেকানো যায় না। সে লেখকের মধ্যে কোনো উতলাভাব দেখেনি।

সে ভেবেছে লেখক অনেক ধী শক্তিসম্পন্ন। তাই প্রেমের বহিঃপ্রকাশ নেই। মিথ্যে। প্রেমের বহিঃপ্রকাশ থাকবেই। তা ক্ষণকালেরই হোক, দীর্ঘকালেরই হোক। প্রেমে পড়লে প্রেমিকাকে সম্রাজ্ঞীর মতো মনে হবে। না, এর কিছুই পায়নি সে। নিজেকে টিস্যু পেপারের চেয়েও তুচ্ছ মনে হচ্ছে ।

কেটে দিলাম, তোমার নাম আমার প্রেমিকের স্থান থেকে কেটে দিলাম আজ থেকে।

স্নান করে সাজতে বসে সে। রাতের রাজধানী অনেক সুন্দর। আলো ঝলমলে। আলোকসজ্জা দেখতে দেখতে সে রাজধানীর রাস্তাগুলো পেরিয়ে যায়। একধরনের শান্তি অনুভব করে। ভেতরে ভেতরে যে ক্ষোভ জমেছিল, তাও অনেকটা লাঘব হতে থাকে। নিজেকে ফিরে পায় নাতাশা। অনেক লেখা জমে আছে, শেষ করতে হবে…

…………………

পড়ুন

কবিতা

অকবিতাসমূহ : লাবণ্য প্রভা

ছোটগল্প

সে এক বিদগ্ধ বেকুব : লাবণ্য প্রভা

প্রবন্ধ-গবেষণা

নয়নতারা ফোঁটা-না-ফোঁটা : লাবণ্য প্রভা

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
100 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *