উৎপাদন বৃদ্ধিতে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ

1 0
Read Time:6 Minute, 56 Second
hilsa in Bangladesh

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে।। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত, চলতি বছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মোট ২২ দিন ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্রে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সময় দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, পরিবহন, কেনাবেচা, বিনিময় ও মজুদ নিষিদ্ধ থাকবে।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ইলিশ উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থান আরো মজবুত করেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬ শতাংশই উৎপাদিত হচ্ছে দেশে। ইলিশ উৎপাদনকারী অন্যান্য দেশও বর্তমানে বাংলাদেশকে ইলিশ উৎপাদনের রোল মডেল হিসেবে বিবেচনা করছে। গত ২০১৬ সালে ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ইলিশের স্বত্ব এখন শুধুই বাংলাদেশেরই।

সরকারের নানা কার্যকর পদক্ষেপের ফলে ধারাবাহিকভাবে আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মৎস্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশের চলতি মাসের হিসাবে এ-তথ্য উঠে এসেছে। মা ইলিশ রক্ষার অংশ হিসেবে প্রতিবছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে এই মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এ কর্মসূচিও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

সে লক্ষ্যে ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে ২২ দিন (১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর, ২০২০) সারা দেশের নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে মিলিয়ে মোট ১৫ থেকে ১৭ দিন হচ্ছে ইলিশের ডিম ছাড়ার আসল সময়। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নদ-নদীতে ছুটে আসে।

এ সময়কে বিবেচনায় নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারো মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করল সরকার। এ সময় ইলিশকে স্বচ্ছন্দে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতেই সরকার দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

ইলিশ ধরা বন্ধ থাকাকালে সারা দেশের তালিকাভুক্ত জেলেদের ভিজিএফ সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের নির্দেশ অমান্য করে কেউ যেন এ সময় মাছ ধরতে নামতে না পারে, সে-জন্য নদ-নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হবে।

ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মোট ইলিশের ৭০ শতাংশের বেশির উৎস বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ক্রমাগত বাড়ছে ইলিশের উৎপাদন।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশে পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে। এবার তার চেয়ে আরো বেশি ইলিশ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মৎস্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশের চলতি মাসের হিসাবে বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬ শতাংশ এখন বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে। অথচ চার বছর আগেও বিশ্বের মোট ইলিশের উৎপাদনের ৬৫ শতাংশ আসত বাংলাদেশ থেকে। এই সময়ের মধ্যে এখানে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে ইলিশের উৎপাদন।

সম্প্রতি ভারতে (৯-১০ সেপ্টেম্বর) দুই দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে অন্যতম আলোচনার বিষয় ছিল বাংলাদেশে কীভাবে ইলিশের উৎপাদন বাড়ল।

ওয়ার্ল্ডফিশের তথ্যমতে, বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানে ইলিশের উৎপাদন কমেছে। বাংলাদেশের পরই ইলিশের উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে ভারত। পাঁচ বছর আগে দেশটিতে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ ইলিশ উৎপাদিত হতো। তবে চলতি বছর তাদের উৎপাদন প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশে নেমেছে।

এ ছাড়া তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মিয়ানমার। দেশটিতে ৩ শতাংশের মতো উৎপাদন হয়েছে। আর ইরান, ইরাক, কুয়েত ও পাকিস্তানে বাকি ইলিশ উৎপাদন হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের অংশ হিসেবে প্রতি বছর ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে এই মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এ কর্মসূচিও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষণা তথ্যমতে, ১০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেত। বর্তমানে ১২৫টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে ওয়ার্ল্ডফিশ, মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবার শুধু পরিমাণের দিক থেকেই নয়, আকৃতির দিকে থেকেও কোনো দেশ বাংলাদেশের ইলিশের ধারে-কাছে নেই।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের মৎস্য অধিদপ্তর, মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট ও ওয়ার্ল্ডফিশ ২০১৮-১৯ সালে বাংলাদেশ যৌথভাবে ইলিশের জিনগত বৈশিষ্ট্য ও গতিবিধি নিয়ে প্রথম একটি গবেষণা করে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleppy
Sleppy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *