Budget

৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট, আগের ৪৯টি বাজেটের ইতিহাস

অর্থনীতি বাংলাদেশ বিশেষ প্রথম
1 0
Read Time:7 Minute, 57 Second
Budget

আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুন ২০২১) দুপুর ৩টায় জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের, ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা—যা জিডিপির ১৭.৫ শতাংশ।

এর আগে দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ বৈঠকে মন্ত্রিসভা নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেন; এ-সময় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি দেশের ৫০তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ২১তম ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর তৃতীয় বাজেট।

এই বাজেটে করোনাভাইরাস পরবর্তী অর্থনীতি মোকাবিলায় বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এবারের বাজেটের শিরোনাম : ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ।’

৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট, আগের ৪৯টি বাজেটের ইতিহাস

একনজরে বাজেট
  • পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে—৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা।
  • বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে—২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।
  • ঘাটতি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা—যা জিডিপি’র ৬.২ শতাংশ। এই হার গতবার ছিল ৬.১ শতাংশ।
  • বাজেটের ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক উৎস হতে ১ লাখ ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস হতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
  • এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস ব্যাংক ব্যবস্থা হতে সংগৃহীত হবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক-বহির্ভূত খাত হতে আসবে ৩৭ হাজার ১ কোটি টাকা।

.

৪৯টি বাজেটের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

বাংলাদেশের ৫০তম বাজেট আজ উপস্থাপিত হয়েছে। আ হ ম মুস্তফা কামালের অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তৃতীয় বাজেট। স্বাধীনতার পর গত ৪৯টি বাজেটের আকার ও বাজেট পেশকারীর নাম নিচে সংক্ষিত আকারে তুলে ধরা হলো :

১. ১৯৭২-৭৩ : তাজউদ্দীন আহমদ : ৭৮৬ কোটি টাকা।

২. ১৯৭৩-৭৪ : তাজউদ্দীন আহমদ : ৯৯৫ কোটি টাকা।

৩. ১৯৭৪-৭৫ : তাজউদ্দীন আহমদ : ১০৮৪.৩৭ কোটি টাকা।

৪. ১৯৭৫-৭৬ : আজিজুর রহমান : ১৫৪৯.১৯ কোটি টাকা।

৫. ১৯৭৬-৭৭ : জিয়াউর রহমান (সামরিক সরকার): ১৯৮৯.৮৭ কোটি টাকা।

৬. ১৯৭৭-৭৮ : লে. জিয়াউর রহমান (সামরিক সরকার) : ২১৮৪ কোটি টাকা।

৭. ১৯৭৮-৭৯ : রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (সামরিক সরকার) : ২৪৯৯ কোটি টাকা।

৮. ১৯৭৯-৮০ : এম এন হুদা : ৩৩১৭ কোটি টাকা।

৯. ১৯৮০-৮১ : এম সাইফুর রহমান : ৪১০৮ কোটি টাকা।

১০. ১৯৮১-৮২ : এম সাইফুর রহমান : ৪৬৭৭ কোটি টাকা।

১১. ১৯৮২-৮৩ : আবুল মাল আবদুল মুহিত : ৪৭৩৮ কোটি টাকা।

১২. ১৯৮৩-৮৪ : আবুল মাল আবদুল মুহিত : ৫৮৯৬ কোটি টাকা।

১৩. ১৯৮৪-৮৫ : এম সাইদুজ্জামান : ৬৬৯৯ কোটি টাকা।

১৪. ১৯৮৫-৮৬ : এম সাইদুজ্জামান : ৭১৩৮ কোটি টাকা।

১৫. ১৯৮৬-৮৭ : এম সাইদুজ্জামান : ৮৫০৪ কোটি টাকা।

১৬. ১৯৮৭-৮৮ : এম সাইদুজ্জামান : ৮৫২৭ কোটি টাকা।

১৭. ১৯৮৮-৮৯ : মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম : ১০৫৬৫ কোটি টাকা।

১৮. ১৯৮৯-৯০ : ওয়াহিদুল হক : ১২৭০৩ কোটি টাকা।

১৯. ১৯৯০-৯১ : মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম : ১২৯৬০ কোটি টাকা।

২০. ১৯৯১-৯২ : এম সাইফুর রহমান : ১৫৫৮৪ কোটি টাকা।

২১. ১৯৯২-৯৩ : এম সাইফুর রহমান : ১৭৬০৭ কোটি টাকা।

২২. ১৯৯৩-৯৪ : এম সাইফুর রহমান : ১৯০৫০ কোটি টাকা।

২৩. ১৯৯৪-৯৫ : এম সাইফুর রহমান : ২০৯৪৮ কোটি টাকা।

২৪. ১৯৯৫-৯৬ : এম সাইফুর রহমান : ২৩১৭০ কোটি টাকা।

২৫. ১৯৯৬-৯৭ : শাহ এ এম এস কিবরিয়া : ২৪৬০৩ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, এই অর্থবছরে দুবার বাজেট উপস্থাপন হয়। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ প্রথমে বাজেট উপস্থাপন করেন। এর পরে নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব নিয়ে মূল আর্থিক কাঠামো ঠিক রেখে নতুন করে বাজেট উপস্থাপন করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া।

২৬. ১৯৯৭-৯৮ : শাহ এ এম এস কিবরিয়া : ২৭৭৮৬ কোটি টাকা।

২৭. ১৯৯৮-৯৯ : শাহ এ এম এস কিবরিয়া : ২৯৫৩৭ কোটি টাকা।

২৮. ১৯৯৯-০০ : শাহ এ এম এস কিবরিয়া : ৩৪২৫২ কোটি টাকা।

২৯. ২০০০-০১ : শাহ এ এম এস কিবরিয়া : ৩৮৫২৪ কোটি টাকা।

৩০. ২০০১-০২ : শাহ এ এম এস কিবরিয়া : ৪২৩০৬ কোটি টাকা।

৩১. ২০০২-০৩ : এম সাইফুর রহমান : ৪৪৮৫৪ কোটি টাকা।

৩২. ২০০৩-০৪ : এম সাইফুর রহমান : ৫১৯৮০ কোটি টাকা।

৩৩. ২০০৪-০৫ : এম সাইফুর রহমান : ৫৭২৪৮ কোটি টাকা।

৩৪. ২০০৫-০৬ : এম সাইফুর রহমান : ৬১০৫৮ কোটি টাকা।

৩৫. ২০০৬-০৭ : এম সাইফুর রহমান : ৬৯৭৪০ কোটি টাকা।

৩৬. ২০০৭-০৮ : এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা) : ৯৯৯৬২ কোটি টাকা।

৩৭. ২০০৮-০৯ : এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা) : ৯৯৯৬২ কোটি টাকা।

৩৮. ২০০৯-১০ : আবুল মাল আবদুল মুহিত : ১১৩,৮১৫ কোটি টাকা।

৩৯. ২০১০-১১ : আবুল মাল আবদুল মুহিত : ১৩২,১৭০ কোটি টাকা।

৪০. ২০১১-১২ : আবুল মাল আবদুল মুহিত : ১৬৫,০০০ কোটি টাকা।

৪১. ২০১২-১৩ : আবুল মাল আবদুল মুহিত : ১৯১,৭৩৮ কোটি টাকা।

৪২. ২০১৩-১৪ : আবুল মাল আবদুল মুহিত : ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা।

৪৩. ২০১৪-১৫ : আবুল মাল আবদুল মুহিত : ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।

৪৪. ২০১৫-১৬ : আবুল মাল আবদুল মুহিত : ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

৪৫. ২০১৬-১৭ : আবুল মাল আবদুল মুহিত : ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।

৪৬. ২০১৭-১৮ : আবুল মাল আবদুল মুহিত : ৪ লাখ ২৭০ কোটি টাকা।

৪৭. ২০১৮-১৯ : আবুল মাল আবদুল মুহিত : ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।

৪৮. ২০১৯-২০ : আ হ ম মুস্তফা কামাল : ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, অসুস্থতার কারণে অর্থমন্ত্রী পুরো বাজেট সংসদে উপস্থাপন করতে না-পারায় উত্থাপন করেন জাতীয় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৪৯. ২০২০-২১ : আ হ ম মুস্তফা কামাল : ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা।

—নিজস্ব প্রতিবেদক, শুভ বাংলাদেশ

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
৪৯টি বাজেটের ইতিহাস ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন সংসদে Budget Economy অর্থনীতি একনজরে বাজেট বাজেট বাজেট ২০২১-২২

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

One thought on “৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট, আগের ৪৯টি বাজেটের ইতিহাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts

Six point day
ইতিহাস-ঐতিহ্য দিবস বিশেষ প্রথম রাজনীতি

ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস

বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস আজ ৭ জুন সোমবার। স্বাধীনতার পথে বাঙালির হাজার বছরের সংগ্রামী ইতিহাসের মাইলফলক এই ৬ দফা। এই দিনটি

Budget
অর্থনীতি বাংলাদেশ বিশেষ প্রথম

যেসব পণ্যের দাম বাড়বে-কমবে

আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুন ২০২১) দুপুর ৩টায় জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের, ২০২১-২২ অর্থবছরের

Bangladesh - Sri Lanka
ক্রিকেট খেলা বিশেষ প্রথম

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ে নতুন ইতিহাস বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এর আগে কখনোই ওয়ানডে সিরিজ জেতা হয়নি। দীর্ঘদিনের সেই আক্ষেপ ঘুচে লঙ্কানদের বিপক্ষে নতুন

উৎসব বাংলাদেশ বিশেষ প্রথম সারাদেশ

আজ ঈদ

আজ ঈদ, পবিত্র ঈদুল ফিতর। ত্রিশ দিন রোজা রাখার পর আসে এই কাঙ্ক্ষিত ঈদ। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব—ঈদ। ঈদ আনন্দ যেন করোনা সংক্রমণের উপলক্ষ