shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

সুন্দরবনে ফের মাছ শিকার শুরু

Fishing started again in the Sundarbans

Fishing started again in the Sundarbans

Fishing started again in the Sundarbans

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : দুই মাস পর সুন্দরবন এলাকায় ফের মাছ ধরায় নেমে পড়েছেন জেলেরা। গত জুলাইয়ে ‘দুর্যোগে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরবন রক্ষায়’ বনে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২০) থেকে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এর আগে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এম এ হাসান বলেন, বুধবার থেকে জেলেরা আবারো মাছ ধরতে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবে।

গত জুলাই মাসের শুরু থেকে ‘বন রক্ষার প্রয়োজনীয়তায়’ সুন্দরবনে জেলেদের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। বনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য জেলেরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিও পালন করেন।

বন কর্মকর্তা এসিএফ এম এ হাসান বলেন, সুন্দরবন হলো বাংলাদেশের সম্পদ, এ সম্পদ বিভিন্ন দুর্যোগে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। ফলে বন বিভাগকে সুন্দরবন রক্ষায় সবসময় চিন্তা-ভাবনা করেই সব সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২০) জেলেদের মধ্যে মাছ ধরার অনুমতির ‘পাসপারমিট’ বিতরণ করলে আনন্দ প্রকাশ করেন জেলেরা। জেলে শাহাজালাল গাজী বলেন, জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালীরা সুন্দরবনের ব্যাপারে অনেক-বেশি আন্তরিক।

প্রজনন মৌসুম ও সুন্দরবন

উল্লেখ্য, প্রজনন মৌসুমকে ঘিরে সরকারের নির্দেশে গত ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বনের অভ্যন্তরে জেলেদের নদী-খাল ও জলভূমিতে প্রবেশ ও সব প্রকার মৎস্য আহরণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুই মাস পর মাছ ধরার অনুমতি পেয়ে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল ৩০ হাজার জেলে পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে।

বাংলাদেশ অংশের প্রায় ৬ হাজার ১১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনে ছোট বড় মিলিয়ে ৪৫০টি নদী-খাল রয়েছে। সেখানে অভয়ারণ্য ঘোষিত ৩০টি খাল এবং ২৫ ফুটের কম প্রশস্ত খালে সারা বছরই মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। আর বাকি অংশের নদী-খাল ও জলাভূমিতে বন বিভাগ থেকে পারমিটধারী জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।

সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্লানের (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সুন্দরবন বন বিভাগ একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। যার অংশ হিসেবে প্রতিবছর মৎস্যসম্পদের প্রজনন মৌসুমের কথা চিন্তা করে ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ আহরণ বা শিকার করা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Spread the love