মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়...

সাহিত্য

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ২য় পর্ব
প্রবন্ধ-গবেষণা, সাহিত্য

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ২য় পর্ব

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা - ২য় পর্ব জ্যোতি পোদ্দার শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা - ২য় পর্ব স্থানিকে পাঠক বলয় যথেষ্ট প্রসারিত নয়। আর্থ-সামাজিক কাঠামো এমন যে, নিজে ও পরিবারের আহার সংস্থানে সকাল-সন্ধ্যা গতরে পরিশ্রমের পর আর ফুসরত কই? পঠন-পাঠনের যে সংস্কৃতি যে আলোড়ন যে ঝোঁক সমাজে দেখা দেবার কথা—সেটি টাউন শেরপুর কেন বাংলাদেশের কোনো মফস্বলের ভাগ্যে জুটে নাই। সবকিছু সর্বসুখ ঐ রাজধানী ঢাকাতে—এমন মনোভঙ্গির কারণেও, স্থানিক ন্যাতিয়ে আছে ম্যাড় ম্যাড়া হয়ে আছে। সজীবতা নেই। সনদধারী বেড়েছে বটে। স্কুল কলেজ কিণ্ডার গার্ডেন কোচিংয়ের রমারমা; বাজার আছে ক্ষুদ্র ঋণের নামে নানা কিসিমের টাকার দোকান। তাই বলছিলাম, পঠন পাঠনের সংস্কৃতি গড়ে দেবার যে সামাজিক সাংস্কৃতিক আত্মিক আন্দোলন সেটি মফস্বলে বিস্তার ঘটেনি। রাজনৈতিক টেন্ডার বাজির সাথে পাল্লা দিয়ে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সুচক উর্ধ্বমুখী। জ্ঞান ও...
পৌষ পার্বণ নিয়ে
মতামত, মুক্তগদ্য

পৌষ পার্বণ নিয়ে

খুচরো কথা চারপাশে পৌষ পার্বণ নিয়ে সুনীল শর্মাচার্য পৌষ পার্বণ নিয়ে পৌষ পার্বণ দেশে দেশে বাঙালিদের কাছে মূলত নতুন ফসল তোলার উৎসব পৌষ পার্বণ। মোগল আমল থেকেই এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। পুরনো ঢাকায় মকর সংক্রান্তি ‘সাকরাইন’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই দিনটিতে নানান উৎসব পালিত হয়। নেপালে মকর সংক্রান্তি ‘মাঘি’, থাইল্যান্ডে ‘সংক্রান’, মায়ানমারে ‘থিং ইয়ান’, কম্বোডিয়ায় ‘মহাসংক্রান’ নামে পালিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে মেলা বসে। বীরভূমের কেন্দুলি গ্রামের জয়দেব মেলা ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার সাগরদ্বীপের গঙ্গাসাগর মেলা বিখ্যাত। পৌষ পার্বণ নিয়ে আইলা মকর কড়কড়ি পৌষ সংক্রান্তি বাঙালি তথা ভারতের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আদি উৎসব। সকালে উঠেই সূর্য স্নানের পর পূজার্চনা চলে এবং এসবের পর আর সমস্ত কিছু ছাপিয়ে পেটপূজো। চালের পিঠে পেট...
ভারতের CAA, NRC নিয়ে দু’চার কথা
মতামত, মুক্তগদ্য

ভারতের CAA, NRC নিয়ে দু’চার কথা

খুচরো কথা চারপাশে ভারতের CAA, NRC নিয়ে দু’চার কথা সুনীল শর্মাচার্য ভারতের CAA, NRC নিয়ে দু’চার কথা ভারতের CAA, NRC নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তোলপাড় হয়েছে, এখনো হচ্ছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার ভারতের সংবিধান, গণতন্ত্র, সামাজিক সম্প্রীতি, ধর্মনিরপেক্ষতা—সবই ভেঙেচুরে ধনতান্ত্রিক কায়দায় ভারতকে হিটলারের জার্মানি বানাতে চায়! CAA, NRC হচ্ছে তারই ক্ষতিকারক পদক্ষেপ। CAA, NRC জিনিসটি কি? খায় না মাথায় মাখে? বিষয়টি পরিষ্কার করি আলোচনায় : ১. CA-১৯৫৫ হচ্ছে ভারতের অরিজিনাল নাগরিকত্ব আইন। এই আইনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিঃশর্তভাবে স্বীকৃত। একটি বাচ্চা ভারতে জন্মালে সে ভারতের নাগরিক। পিরিয়ড। ভারতের আকাশে উড়ন্ত এরোপ্লেনে বা ভারতের সাগরে ভাসমান জাহাজ বা স্টিমারে জন্ম নিলেও নাগরিক। এ ছাড়া নাগরিকত্ব পাওয়ার অন্যান্য উপায়ও স্বীকৃত। যথা আদি বসবাস সূত্রে। যথা উত্তরাধিকার সূত্রে। ...
শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা
প্রবন্ধ-গবেষণা, বিশেষ প্রথম, সাহিত্য

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা জ্যোতি পোদ্দার শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা এই উত্তর জনপদের টাউন শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চার ইতিহাস খুব বেশি দিনের না। দেশভাগের আগে এখানকার সামন্ত জমিদারদের নিজস্ব পত্রিকা ছিল, ছিল প্রেসও। যত না বাণিজ্যের কারণে মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন—তার চেয়ে অধিকতর দৃষ্টি ছিল শিল্প-সাহিত্য চর্চার পরিসর নির্মাণ করা। যে সময়ে শেরপুরে মূদ্রণ যন্ত্র স্থাপিত হয়, তখন টাউন শেরপুর নিতান্তই প্রান্তিকের প্রান্তিক—এক পাণ্ডববর্জিত অঞ্চল। তবু এখানে ‘বিদ্যোন্নতি সাহিত্য চক্র’ গঠিত হয়ে গেছে, বেরুচ্ছে মাসিক ‘বিদ্যোন্নতি সাধিনী’ (১৮৬৫)—সামন্ত জমিদার হরচন্দ্র চৌধুরীর প্রযত্নে বিখ্যাত পণ্ডিত চন্দ্রমোহন তর্কালঙ্কারের সম্পাদনায়। অন্যদিকে, জগন্নাথ অগ্নিহোত্রির সম্পাদনায় ‘বিজ্ঞাপনী’ (১৮৬৬)। প্রান্তিকের প্রান্তিক টাউন শেরপুর হতে দুই দুটি পত্রিকা বের হচ্ছে। চাট্টিখানি কথা নয়। পত্রিকা থাকবে আর গ্রা...
করোনাকাল
কবিতা, সাহিত্য

করোনাকাল

সুনীল শর্মাচার্যের কবিতা করোনাকাল করোনা কাল কোথাও শান্তি নেই— গহীন ভয় থেকে ছিটকে যায় মুখ . খোলা জানালার পাশে উড়ুখুড়ু হাওয়া, রাত অসহায় দর্শক . ভীরুরা অনন্ত মেখে ঘুমিয়ে পড়েছে . আর বিবর্ণ চাঁদ রাতকে চুমুতে বুক খুলে দেয় করোনা কাল দুই এই যে নিজেকে ঘরবন্দী করেছি : এখন একা,ভয় মুখ,প্রসন্ন না... নীল আকাশ ভালো লাগে না . এই যে নদী, জল, সবুজ গাছপালা জানালার দৃশ‍্যে ছড়িয়ে আলো... ভেতরে একা, বাইরেও একা, আহা, আলো, তুমিও একা না— . এই যে আলো, দৃষ্টির আলো— বাতাসে ছড়িয়ে সূর্যের আলো করোনা কাল তিন পেছনে ফিরলে পিঠে ছুরি বসাবে নিয়তি। আগুনের পাশে বসো, ওই ছায়াটির পাশে বসো— যেখানে তোমার পিতৃ-রক্ত লেগে আছে। . এভাবে বাঁচে না কেউ, ভুলে শিকড়ের টান! . বাতাসে বাতাসে বাজে গাছেদের পাতার বিষাদ....
ধুতি হারালো তার কৌলীন্য
মতামত, মুক্তগদ্য

ধুতি হারালো তার কৌলীন্য

খুচরো কথা চারপাশে ধুতি হারালো তার কৌলীন্য সুনীল শর্মাচার্য ধুতি হারালো তার কৌলীন্য কথায় বলে অশন, বসন, ব্যসন। এই জেটযুগে বাঙালির অশন-কালচারে পরিবর্তন হয়েছে সহজবোধ্য কারণেই। কিন্তু বসনে যে পরিবর্তনের ছোঁয়া, তার কারণ নিয়েই বিতর্ক। যুগটা ফ্যাশনের। প্যান্টের নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখে সত্যি অবাক হতে হয়। শহরাঞ্চলে ধুতি পরিহিত ভদ্রলোক এখন প্রায় আঙুল দিয়ে গোনা যায়। ক’দিন আগে এক সাংবাদিক বন্ধুর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। ওঁর কথায়, শার্টপ্যান্টের স্বাচ্ছন্দ্য ধুতি-শাড়িকে ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছে। সত্যি কি তাই? ধুতির ব্যাপারে না-হলেও পরিসংখ্যান বলছে—যতই সালোয়ার-কামিজ জনপ্রিয়তা অর্জন করুক, এখনো আশি শতাংশ নারী শাড়ি-পরিহিতা। দমফাটা গরমে চিঁড়েচ্যাপটা ভিড়ে যদি শাড়ি পরিধান করা যায় এবং শালীনতা বজায় রাখা যায়, তবে এ যুক্তি খাটবে কি? ধুতি পরার নিয়ম জানলে নিশ্চয় এ-কথা বলা...
ভারতে শুধু অমর্ত্য সেন নয়, বাঙালি সংস্কৃতি আক্রান্ত
মতামত, মুক্তগদ্য

ভারতে শুধু অমর্ত্য সেন নয়, বাঙালি সংস্কৃতি আক্রান্ত

খুচরো কথা চারপাশে ভারতে শুধু অমর্ত্য সেন নয়, বাঙালি সংস্কৃতি আক্রান্ত সুনীল শর্মাচার্য ভারতে শুধু অমর্ত্য সেন নয়, বাঙালি সংস্কৃতি আক্রান্ত অমর্ত্য সেন। এই নামটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা অনেক বাঙালিই জানেন না। ভারতেরও অনেকেই জানেন না যে—বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থনীতির সেরা গবেষকরা শুধুমাত্র অমর্ত্য সেনের ভাবনা ও তাঁর অবদান নিয়ে অন্তত পঞ্চাশটি বই লিখেছেন। বইগুলোতে তাঁরা আলোচনা করেছেন কেন অমর্ত্য সেনের অর্থনীতি ভাবনা—এই বিশ্বের সব মানুষের সুস্থ জীবন গড়ে তোলার একটা হাতিয়ার। সাম্প্রতিক কালে আর কোনো ভারতীয়ের সমাজচিন্তা নিয়ে গোটা পৃথিবীতে এতবেশি তোলপাড় হয়েছে কিনা সন্দেহ। অমর্ত্য সেন কখনো নিজেকে বামপন্থী বলে দাবি করেননি। তবে বিশ্বে যতদিন ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও হিংসা থাকবে, ততদিন তার মোকাবিলায় কী করা উচিত—সে-বিষয়ে তাঁর ভাবনাচিন্তা আলোচিত হবে। দুর্ভাগ্যে...
কবিতায় ‘আমি’
মতামত, মুক্তগদ্য

কবিতায় ‘আমি’

খুচরো কথা চারপাশে কবিতায় ‘আমি’ সুনীল শর্মাচার্য কবিতায় ‘আমি’ কবিতা যারা পড়েন, তারা লক্ষ্য করবেন কবিতায় ‘আমি’ শব্দটি প্রচুর ব্যবহার হয়। ভেবে দেখুন, ‘আমি’র মতন সহজ এবং জটিল ধারণা সত্যিই কম আছে। এই ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহার না-করে দুটো সাধারণ কথাও আমরা বলতে অক্ষম : তার সঠিক ব্যাখ্যা করতে হলে আমরা নানা ঐতিহ্যের জটিলতম চিন্তাধারায় ডুবে যাই এবং সেই অথৈ সমুদ্র থেকে ফিরে এসে যদি দেখি যে, এই সহজ, ব্যবহারিক ‘আমি’ কবিদের কাছে কত রূপে, কত ভাবার্থে প্রয়োগে জটিল। প্রাচীন সাংখ্য দর্শনের ক’টি মৌলিক তত্ত্বের মধ্যে একটা হলো ‘অহংকার’, অর্থাৎ একটি লোকায়ত সংজ্ঞার অনুসারে ‘যা আমি-র সৃষ্টি করে’। এর তাৎপর্য এই যে, ‘আমি’টি মানুষ নামক জীবের একটি জরুরি অবদান, কিন্তু তত্ত্বগুলির ক্রমান্বয়ে সেটা পুরুষ বা নারী প্রকৃতির মধ্যে ‘অহম’ ধারণা ‘আমিত্বে’ মৌলিক হয়ে ওঠে। মানুষ মাত্রের এক-একটি ‘আমি’...
রাজনীতি বোঝো, অর্থনীতি বোঝো! বনাম ভারতের যুবসমাজ
মতামত, মুক্তগদ্য

রাজনীতি বোঝো, অর্থনীতি বোঝো! বনাম ভারতের যুবসমাজ

খুচরো কথা চারপাশে রাজনীতি বোঝো, অর্থনীতি বোঝো! বনাম ভারতের যুবসমাজ সুনীল শর্মাচার্য রাজনীতি বোঝো, অর্থনীতি বোঝো! বনাম ভারতের যুবসমাজ হে জাতির ভবিষ্যত তরুণ-তরুণীরা! তোমাদের মধ্যে এখন বিরাট অংশ ভাবো ‘I hate politics’, ভাবো ‘No interest!’ এখন দেখছি তারাই Facebook social media-তে বলছে, তাদের বাবা-মা অক্সিজেন পাচ্ছেন না, ভেন্টিলেটর পাচ্ছেন না, হাসপাতালে বেড পাচ্ছে না—এইসব লিখে গলা চিল্লায়ে ফাল্লা ফাল্লা করছেন। ন... পুত! পলিটিক্স বোঝো নাই? নিজেকে নিউট্রাল প্রমাণ করার চেষ্টা করেছো আজীবন, শালা সুশীলের বাচ্চা সুশীল! পাগল ছাড়া আর কেউ এই যুগে নিউট্রাল থাকতে পারে না রে বোকাচোদা! ফেসবুকে লাইক কমে যেতে পারে, কেউ কেউ বিপক্ষে চলে যেতে পারে—এই ভয়ে কোনোদিন হক কথা কও নাই। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে কবিতা লিখেছো—ওই ফুল-পাখি-লতা-পাতা নিয়ে। মদনের বাচ্চা মদন। নিজের পোদ ঘুরিয়ে, বুক উঁচিয...
ভারতে চীনা দ্রব্য বয়কট
মতামত, মুক্তগদ্য

ভারতে চীনা দ্রব্য বয়কট

খুচরো কথা চারপাশে ভারতে চীনা দ্রব্য বয়কট : বিষয়টা হালকা ভাবলেও, সমস্যাটা কঠিন এবং আমরা সুনীল শর্মাচার্য ভারতে চীনা দ্রব্য বয়কট ভক্তরা যেভাবে লম্ফঝম্ফ করে চীনা দ্রব্য বয়কট, সাথে সাথে এমন ভাব করলেন : এখন চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাবেন! আমি বিশ্বাসী : ভারত সৈনিক নিধনের প্রতিশোধ নিক। সত্যি সত্যি ভারত আত্মনির্ভর হয়ে উঠুক; সমস্ত বিদেশিপণ্য ব্যবহারে বয়কট হোক। বিষয়টা এতো হালকা ভাবলেও, সমস্যাটা কঠিন। চীন নিয়ে ভেবে, রাগ দেখিয়ে লাভ নেই। কারণ পরিস্থিতি, বাস্তবতা এই করোনাকালে সত্যিই কঠিন। যুদ্ধও। কোনো দেশই সত্যিকারের যুদ্ধ চাইবে না। অর্থনীতি, বৈদেশিক অবস্থান জটিল। তাই ভক্তদের বলি, ভারত-চীন যুদ্ধও হবে না। চীনা Product বয়কটও হবে না। এই সহজ সত্যিটা মাথায় ঢুকিয়ে নিন। কারণটা সহজ। অর্থনীতি। ওষুধ থেকে মুখে মাস্ক, পিপিই, মোবাইল থেকে ল্যাপটপ, মেট্রোর রেক থেকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, হ...