বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়...

সাহিত্য

নাসির আহমেদের দশটি কবিতা
কবিতা, সাহিত্য

নাসির আহমেদের দশটি কবিতা

নাসির আহমেদ-এর দশটি কবিতা করোনার ছুটিশেষে করোনাতে ইসকুল বন্ধ ছুটি পেয়ে আহ কী আনন্দ! দিন যায় মাস যায় ছুটিতে ঘরে বসে ভাই-বোন দুটিতে খুনসুটি কতো খেলা খেলেছে চার দেয়ালেই ডানা মেলেছে। হঠাৎ খবর এলো  গতকাল ইসকুলে ছুটি আর কতকাল! এ মাসেই খুলে দেবে সরকার ইসকুল- লেখাপড়া দরকার। এই শুনে ভাই-বোন চিন্তায় দিন তো যাবে না তাক ধিনতায়! থেমে গেল আনন্দ- বাঁশিটি ফুরোলো ঠোঁটের সেই হাসিটি। মা বলেন, ওরে তোরা  বোকা কি! বিদ্যা ধরবে গাছে থোকা কি? সুন্দর জীবনটা গড়তে ইসকুলে  যেতে হয় পড়তে। পড়া আর খেলা দুই-ই চাই রে না-পড়া লোকের  দাম নাই রে। নাসির আহমেদের কবিতা এমন বিচ্ছিন্নতা কখনো দেখিনি খাঁ খাঁ শূন্যতাই বুঝি আরাধ্য পৃথ্বির! সব যোগাযোগ ছুঁয়ে ভীষণ আতঙ্ক বসে আছে, তাই সম্পর্কের রাশ টেনে যত দূরে থাকা যা...
সুমন সরদারের ছয়টি গীতিকবিতা
গীতিকবিতা, সাহিত্য

সুমন সরদারের ছয়টি গীতিকবিতা

সুমন সরদার-এর ছয়টি গীতিকবিতা বদলাশিল্প তোমার রক্তের বদলা নেবো, বঙ্গবন্ধু শোনোতোমার নামই আমার সাহস ভয় করি না কোনো।। মুজিব বর্ষে বাঙালিদের রুখবে নেই তো কেউ,বইছে এখন দেশটা জুড়ে উন্নয়নের ঢেউ।এইভাবে হোক বদলার পথ, বদলা নেবে কেমন,দীক্ষা যেমন দিয়েছিলে বদলা হবে তেমন।     দিন নেই কোনো পেছন ফেরার স্বপ্ন সবাই বোনো।। উন্নত এক জাতি গড়তে আমরা সবাই চাই,তাইতো তোমার লক্ষ্যে এমন প্রাণের পরশ পাই।প্রতিশোধ হোক বাঙালির আজ হোক না ওদের কাঁপনহত্যাকারীর ফসিলে আজ সত্য ন্যায়ের যাপন।     বিশ্বের বুকে উন্নত হবো দিনক্ষণ শুধু গোনো।। সুমন সরদারের গীতিকবিতা আমার ঘরে আমার ঘরে আঁধার রাতে কোন পরীদের মেলাইচ্ছেপায়ে নূপুর পরে জলে করে খেলা;     হৃদয়-নদীর ঘাটের ওপর পিছলে পড়ে যেই     জোছনা এলে হারাই তখন, গহীন মনের খেই     জোছনা এলে হারাই আমি, গহীন মনের খেই।। সকাল হলে বুকের ভেতর ঘর বাঁধে...
সুমিত মণ্ডলের পাঁচটি কবিতা
কবিতা, সাহিত্য

সুমিত মণ্ডলের পাঁচটি কবিতা

সুমিত মণ্ডলের পাঁচটি কবিতা ঘুমের মধ্যে একদিন একটা ঘুমের মধ্যে ধরো আমি নেই আমার দেহ পড়ে আছি একটা মসজিদের পাশে। শ্মশান যাত্রীরা কোনো একজনের পিতার মুখাগ্নি করে বাড়ি ফিরছিল এই পথে… ওদের হরিনামের আওয়াজে  আমার দেহটা কবর দেবার অনুরোধ কেউ শুনতে পেল না। চলে গেল ওরা। একটা রাত চুপ করে বসে আছি কবরের পাশে মুখ আর চেহারাটা ক্রমে হলুদ হয়ে আসছে ভোরের নামাজ শুনে টলতে টলতে শ্মশান থেকে এই পথে ফিরছিল একটা ডোম ওর হাত থেকে পড়ে যাওয়া কলসি ভাঙার শব্দে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমি নেই। কবরের মাটি ভিজে… .-. একটা গাছের কাছে একটা গাছের প্রেমে পড়েছি মাথা ভর্তি পাতা, যেমনটা— একুশের মেয়ে। চুল এলিয়েছে রোদে। সদর দরজা পাড় হয়ে বামদিকে উঠোনজুড়ে তার ফুল ঝরে পড়ে, যেমনটা তুমি স্নান সেরে এসে— পায়ের চিহ্ন রেখে যাও আয়নার মুখে দাঁ...
সুনীল শর্মাচার্যের একগুচ্ছ কবিতা
কবিতা, সাহিত্য

সুনীল শর্মাচার্যের একগুচ্ছ কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের একগুচ্ছ কবিতা ছয়টি ঋতু একদা ছয়টি ঋতু একদা বানিয়েছে প্রকৃতি কেবল                       আমাদের খুশি করার জন্য ঋতু চুপে শুয়ে আছে আমাদের সত্তার মধ্যে... অবশ্য এখন কিছু ঋতু নিজে                          আমাদের পাহারা দেয়                       তাতে আমরা বর্তমানে ভালো আছি— কেননা ঋতুদোষ হলে আমাদের স্বভাবপাখি পাখির স্বভাব পেলে আমরা আরো, আরো উড়নচণ্ডী হয়ে ঘর ছাড়া হয়ে যাবো! .-. এই সোজা সত্য পূর্ণিমা...
মোহাম্মদ হোসাইনের তিনটি কবিতা
কবিতা, সাহিত্য

মোহাম্মদ হোসাইনের তিনটি কবিতা

মোহাম্মদ হোসাইনের তিনটি কবিতা রেনেসাঁ ও পঙক্তিগুচ্ছের ভোজ কাদামাটির গন্ধ নিয়ে এসেছিহাতে চালতার রস, আমলকি বনগুলগুলির ভেতর থেকে এনেছি বাবুইয়ের বাসা, রেনেসাঁ মাকু ফেলে চলে গিয়েছে যে মুখ, যে কাঁকনতাকে ফিরিয়ে এনেছিসর্ষে ক্ষেত থেকে নিয়ে এসেছি সলাজ হাসি, সরল অভিমান স্কুলব্যাগে নীল প্রজাপতি, নীলাদ্রি সব ফিরিয়ে এনেছি মৃত্তিকার সাথে আমার একটা ডিল ছিলসে যখন কবিতা চটকাবে, আমি তখন মেহগনি রাতআমি যখন ধাতব শলাকা, সে তখন চৌরাশিয়াসুতুপা তখন রাত্রি নামাবে, আমি নিটোল নীরবতা রোদের চিঠি যদি নিয়ে আসে মেঘদীপাআমি সেতারবাদক, জাফরান রঙ নদীকেও আমন্ত্রণ জানাব জলপাইগুড়ি, শিলং পাহাড় থেকে অমৃতানিয়ে আসবে সবুজ সবুজ বরফদানা শেষের কবিতার হবে শুভ মহরতপাঁচু গোপাল, রবীন্দ্রনাথ আর শাহ করিমের মাঝে চলবে রাতব্যাপী কবিয়াল গানউস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ বাজাবেন সরোদরবিশংকর তানপুরাসুলতান তখন...
বানকিনার রক্তপঞ্জি : রাশেদ রহমান
গল্প, বিশেষ প্রথম, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, সাহিত্য

বানকিনার রক্তপঞ্জি : রাশেদ রহমান

বানকিনার রক্তপঞ্জি রাশেদ রহমান গ্রামের নাম বানকিনা...। হাশড়া, কালোহা, পাইকড়া, রোয়াইল, মৌরি—এই পাঁচটি গ্রাম বানকিনাকে ঘিরে রেখেছে। মাঝখানে বানকিনা। ছ’টি গ্রামই দ্বীপসদৃশ। বছরের অন্তত সাত-আটমাস গ্রামগুলো কচুরিপানার মতো জলে ভাসে। সব বাড়ির ঘাটে ডিঙ্গি নৌকা বাঁধা। নৌকাই এই দ্বীপ-গ্রামগুলোর মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। অঘ্রান-পৌষ মাসে এইসব গ্রামের কাঁচা রাস্তা কি হালট জেগে ওঠে। চার কি পাঁচমাস এই পথে ক্যাঁচর ক্যাঁচর শব্দ তুলে গরুরগাড়ি চলে...। থানা-সদর থেকে বহুদূরের গ্রাম বানকিনা, হাশড়া, কালোহা, পাইকড়া, রোয়াইল ও মৌরি। নামা ভূমি। কিন্তু গ্রামগুলো উঁচু টিলার মতো। নামা-অঞ্চলের গ্রাম এরকমই হয়। না-হলে বর্ষার জল উঠে যাবে যে বাড়িতে! বর্ষার জল যতোই বাড়ুক—বানকিনা, হাশড়া, কালোহা, পাইকড়া, রোয়াইল, মৌরির কোনো বাড়িতে জল ওঠে না...। কিছুটা দূরে দূরে সব বাড়ি। একেবারে গা ঘেঁষ...
ও ভাই : প্রদীপ মিত্র
কবিতা, সাহিত্য

ও ভাই : প্রদীপ মিত্র

ও ভাই প্রদীপ মিত্র করো না বায়ুদূষণ                 করো না সীমা লঙ্ঘন করো না নদীবন্ধন                করো না পাহাড় কর্তন করো না বৃথা আক্রমণ            করো না  সংক্রমণ পথের মাঝে পথ হারালে আড়াল থেকে কেমনে করব জগত সংসারে চলন ফেরন আমার উত্তরণ নাই-বা হলো        তাই বলে       তোমার চলন, তোমার বলন                    করো না করো না তোমার ও রাঙাচরণ অমন করে সঞ্চালন... ও ভাই : প্রদীপ মিত্র করো না কূটিল কীর্তন              করো না আকাশ ধর্ষণ করো না মন্দবর্ধন        ...
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী
প্রয়াণ দিবস, বিশেষ প্রথম, সাহিত্য

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ বৃহস্পতিবার ১২ ভাদ্র, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের এই দিনে (১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র) তিনি ঢাকায় পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। এখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। মানবতার জয়গানে নজরুল ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। তিনি লিখেছেন, ‘গাহি সাম্যের গান/ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান...।’ তিনি দ্রোহে ও প্রেমে, কোমলে-কঠোরে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে দিয়েছেন নতুন মাত্রা। আজ গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মানুষ স্মরণ করবে তাদের প্রিয় কবিকে। কর্মসূচি জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ব...
বন্ধুত্ব : বিশ্বজিৎ দাস
গল্প, সাহিত্য

বন্ধুত্ব : বিশ্বজিৎ দাস

‘তুই কে? ঠিক করে বল।’হিসহিস করে বলল উত্তম। তার সামনে বসে থাকা তরুণটি হাসল। ‘আমি সৌমিক। তোর ক্লাসমেট।’ ‘ক্লাসমেট! উড়ে এসে জুড়ে বসে এখন বলছিস তুই আমার ক্লাসমেট!’ ‘আহা! চটছিস কেন। উড়েই আসি আর জুড়েই বসি, আসলে আমি তোর আর সাথীর ক্লাসমেট। বন্ধু।’ ‘আর বাকিরা? ওরা তোর ক্লাসমেট নয়?’ ‘আমরা সবাই ক্লাসমেট। তবে তুই আর সাথী হচ্ছিস আমার ঘনিষ্ঠ ক্লাসমেট।’ ‘মোটেও না। আমি তোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু না। সাথীও না।’ দাঁতে দাঁত চেপে বলল উত্তম। ‘তুই এত ক্ষেপে যাচ্ছিস কেন? অবশ্যই তুই আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।’ হেসে হেসে বলল সৌমিক। ‘তুই যদি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুই হোস, তাহলে আমি অন্তত জানতাম—তুই কে, কোথায় তোর বাড়ি, আর কোথায় থাকিস তুই।’ ‘জানবি। অত তাড়া কীসের!’ শান্ত ভঙ্গিতেই বলল সৌমিক। মাত্র দিন পনেরো আগের কথা। উত্তমের মনে পড়ল, ক্যান্টিনে বসে গল্প করছিল ও আর সাথী। তখনো নাস্তার অর্ডার দেয...
ডাকপিয়ন ও অশ্বত্থ বৃক্ষ : ফকরুল চৌধুরী
গল্প, সাহিত্য

ডাকপিয়ন ও অশ্বত্থ বৃক্ষ : ফকরুল চৌধুরী

ন্যাড়া মাথা এক মান্দার গাছের নিচে লোকটা নিজেকে সমর্পণ করে, ধরফরায়। দেহে তপ্তকুচি চিনচিন হুল কাটে। ভূমিতে ডালপালার ছায়াজালিকার ছাপ, শরীরেও ছায়ানকশা। মনের আহ্লাদ বাড়ে। সিসাগলা গরমে এই যেন স্বর্গসুখ। চারদিকে গরমকুণ্ডের সুবিশাল প্রান্তর। মরীচিকার ফাঁদ, এদিক সেদিক। ডাকপিয়ন পিঠে রাখা চটের ঝোলাটি অভ্যাশবশত আঁকড়ে আছে। ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাস ফেলে। শরীর ফুঁড়ে ঘাম ঝরছে। ফোটা ফোটা শিশির গড়িয়ে পড়ছে। সেদিকে তার খেয়াল নেই। শরীরে বাতাসের আরাম পরশ। একটু কেঁপে ওঠে। নিজের অবস্থান বিষয়ে সচেতন হয়ে বুঝতে পারে ছোট্ট এক বৃত্তে আটকে পড়েছে। বৃত্তভাঙা মানে নরকের স্পর্শজ্বালা। তখন দূরের অশ্বত্থ নজরে আসে, যেন ঝাকড়া চুলের বিদ্রোহী কবি নজরুল। পাতার ঢেউ খেলা এখান থেকেও চোখে পড়ে। মরিচিকার ধাঁ ধাঁ বৃক্ষের মাথায় চিক চিক করছে। কখনো মনে হয়, গলানো সিলভার পাতায় লেপ্টে আছে, গড়িয়ে গড়ি...