shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ১৭তম পর্ব

Little Magazine
Little Magazine

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ১৭তম পর্ব

জ্যোতি পোদ্দার

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা – ১৭তম পর্ব

পনেরো

মামুন রাশেদের সম্পাদনায় ‘প্রয়াস’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে। এটি উত্তরায়ণের দ্বিতীয় প্রকাশনা। দি নিউ প্রেস থেকে মুদ্রণ। ব্লক করেছেন আব্দুল কুদ্দুস। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত শেরপুরের শিক্ষার্থীদের নিয়ে উত্তরায়ণ গঠিত হয় গত শতাব্দীর আটের দশকে। সেই সংগঠনেরই মুখপাত্র ‘প্রয়াস’।

সেই সময়ে আরেকটি সংগঠনের আর্বিভাব ঘটে ‘আবাহন’ নামে। তাদের একটি ছোটকাগজ ছিল ‘বৈশাখী’ (১৯৮৩)। সেটি হাতে পাইনি। এ ছাড়া খুঁজে পাইনি সৌমিত্র শেখরের ‘রবি রশ্মি’ (১৯৮৩)।

এই দশকেই প্রকাশিত হয় মামুন রাশেদ ও মুজাহিদুল ইসলাম মন্টুর যৌথ সম্পাদিত ত্রৈমাসিক কাগজ ‘কবিতাপত্র’ (১৯৮৩) এবং মন্টুর একক সম্পাদনায় ‘বিজ্ঞাপনপত্র’।

এই দশকেই প্রকাশিত হয় আবদুর রহিম বাদলের সাপ্তাহিক শেরপুর বার্তা (১৯৮৭), এখলাস উদ্দীনের শেরপুর তরঙ্গ (১৯৮৭), আবদুর রেজ্জাকের সাপ্তাহিক শেরপুর (১৯৮৬), জাকির হোসেনের সাপ্তাহিক চলতি খবর, আবু বকরের সাপ্তাহিক দশকাহনীয়া (১৯৯১)।

‘বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা যখন শেরপুরে ছুটিতে বাড়ি আসে তখন তারা বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। যেমন—সঙ্গীতানুষ্ঠান, নাটক, সিনেমা প্রর্দশনী, স্বেচ্ছায় রক্তদান, খেলাধুলা, রচনা প্রতিযোগিতা আর বিশেষ করে গুণিজন সংবর্ধনা’

নৃত্যশিল্পী কমল পাল লিখেছেন, ‘একবার ‘আবাহন’ বিশিষ্ট আইন গ্রন্থপ্রণেতা আইনজ্ঞ গাজী শামসুর রহমানকে এবং সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদকে ‘উত্তরায়ন’ গোষ্ঠী সন্মান জ্ঞাপন করেন।’

Little-Magazine

আটের দশকে যারা ছোটকাগজ করেছেন প্রত্যেকে কাগজের বিন্যাস লেখা নির্বাচনে যথেষ্ট সর্তক ছিলেন। আটের দশক শেরপুরে ছোটকাগজচর্চার অভিমুখ ও তার কর্মতৎপরতা পূর্ববর্তী দশকের তুলনায় অনেক বেশি শৈল্পিক ও সংগঠিত। তার মধ্যে ‘মানুষ থেকে মানুষে’ অন্যতম।

‘প্রয়াস’-এর সূচিপত্র : প্রবন্ধ-সাহিত্যে শেরপুরের অবদান/ মোস্তফা কামাল, বিবেকের সংকট/ মুশতাক হাবীব। গল্প লিখেছেন মামুন রাশেদ। কবিতা লিখেছেন—বাবলী জাহান, রোমান জাহান, শামীম ফারুক, মাসুদ প্রমুখ।

শেরপুরে প্রকাশিত সব কাগজ ছাপাখানার ভুতে পেলেও, মামুনের কাগজটি কোনো ভূতের আছড় পড়েনি। তাই বানান বিভ্রাটও ঘটেনি। প্রচ্ছদও আকর্ষণীয়।

মামুনের আরেকটি চমৎকার কাজ ‘বিষণ্ণ সৈকতে ভোরের নোঙর’ (১৯৮৪)। শেরপুর ছাত্রলীগ জেলা শাখার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে প্রকাশিত।

মামুন রাশেদ লিখেছেন, ‘…এ যুদ্ধ মৃত্যু থেকে জীবনের যুদ্ধ। এ যুদ্ধ রক্ত দিয়ে সূর্য গড়ার যুদ্ধ; সে সূর্য ছুঁয়ে যাবে ক্লান্ত কেরানীর ছেঁড়াশার্ট, পরিশ্রান্ত শ্রমিকের বিন্দু বিন্দু ঘাম, মোড়ের উলঙ্গ ছেলেটার জীবন। শোষণ যেখানে তীব্র, প্রতিরোধ সেখানে প্রখর;… তবু স্বপ্ন বেঁচে থাকে। শোষিতের মুক্তির স্বপ্ন—স্বপ্ন সমাজতন্ত্রের। বিকল্প যেখানে নেই, প্রতিরোধই সেখানে উত্তর।’

এ সংখ্যায় আরো লিখেছেন—নির্মলেন্দু গুণ, তাপস কুমার, সৌমিত্র শেখর দে, শামীম আহাম্মেদ ও আবদুল খালেক।

(চলবে)

…………………

পড়ুন

কবিতা

রাংটিয়া সিরিজ : জ্যোতি পোদ্দার

তিলফুল : জ্যোতি পোদ্দার

জ্যোতি পোদ্দারের কবিতা

প্রবন্ধ-গবেষণা

টাউন শেরপুরে প্রথম রবীন্দ্রজয়ন্তী

শেরপুরে ছোটকাগজ চর্চা

১ম পর্ব । ২য় পর্ব । ৩য় পর্ব । ৪র্থ পর্ব । ৫ম পর্ব । ৬ষ্ঠ পর্ব । ৭ম পর্ব । ৮ম পর্ব । ৯ম পর্ব । ১০ পর্ব । ১১তম পর্ব । ১২তম পর্ব । ১৩তম পর্ব । ১৪তম পর্ব । ১৫তম পর্ব । ১৬তম পর্ব । ১৭তম পর্ব

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন...