বুধবার, নভেম্বর ২৫সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়...

মতামত

পরকীয়া প্রেমের রোমান্স
মতামত, মুক্তগদ্য

পরকীয়া প্রেমের রোমান্স

খুচরো কথা চারপাশে পরকীয়া প্রেমের রোমান্স সুনীল শর্মাচার্য পরকীয়া প্রেমের রোমান্স আজকের সমাজে নানাবিধ সমস্যার ভিড়ে বিবাহ-বহির্ভূত সেক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। যে ছেলেটার হোমওয়ার্ক নিয়ে ভাবার কথা, সে ভাবছে তার না-পাওয়া বান্ধবীটিকে নিয়ে। যে মেয়েটার জীবন গড়ার জন্য কাজ করার কথা, সে জড়িয়ে যাচ্ছে অযাচিত স্ক্যান্ডালে। আবার যে পুরুষ কিংবা নারীটির সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সে পড়ে থাকছে পরকীয়া নামক নিষিদ্ধ রোমান্সের জগতে। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, এসবের পেছনে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্কটি। একটা গ্রাম্য প্রবাদ আছে, ‘পেট আর চেট (শিশ্ন)-এর জন্যই দুনিয়ার যত কাজ-কারবার।’ কিন্তু আমরা পেটের কথা ভুলে অধিকাংশই সময় ব্যয় করছি চেটের পেছনে। একটু কি ভাবনার বিষয় নয়? আমাদের সমাজে বিভিন্ন নিয়ম-কানুনের দ্বারা বিবাহ-বহির্ভূত শা...
বেগুনে আগুন
বিশেষ প্রথম, মতামত, মুক্তগদ্য

বেগুনে আগুন

খুচরো কথা চারপাশে বেগুনে আগুন সুনীল শর্মাচার্য বেগুনে আগুন ‘—কত সাধ যায় রে চিতে, বেগুন গাছে আঁকশি দিতে!’ এই কথাটা শেষ পর্যন্ত ফলে গেল। বেগুনের কিলো ষাট টাকা। সত্তুর টাকা। সুতরাং, আঁকশি দিয়ে টেনে নামিয়ে না-আনলে হাতে পাওয়া ভার। সে আঁকশি আর ক’জনের হাতে আছে? অধিকাংশই যেন অক্ষম দর্শক। থলিতে আর যাই থাক, বেগুন নেই। পাড়ার তেলেভাজার দোকানে নোটিশ—বেগুনি চেয়ে লজ্জা দেবেন না। দোকানদারের সাফ কথা, কড়ে আঙ্গুলের মতো ওই বেগুনে বেগুনি হয় না! কোনো গুণ নেই বলেই কি বস্তুটির নাম বেগুন? বাজারে এবং হেঁসেলে শব্দতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা চলে। কে বা কারা নাকি ল্যাব-এ পরীক্ষা করে বলে গেছেন বেগুনি রঙের ওই সবকটি ভিটামিনে টইটুম্বুর। আপাতত বেগুনি-বিবাগী বলেন, ওসব স্রেফ ধোঁকাবাজি। বেগুনে কিছু নেই। গত বছরও বেগুনের দাম যাচ্ছেতাই বেড়ে গিয়েছিল। একদা এক বাঙালি দম্পতি পুরীতে রথ দেখতে গিয়ে প্...
ভূতের গল্প
মতামত, মুক্তগদ্য

ভূতের গল্প

খুচরো কথা চারপাশে ভূতের গল্প সুনীল শর্মাচার্য ভূতের গল্প হঠাৎ শুনলাম, প্রাথমিক পড়ুয়াদের ক্লাসে বা অন্য কোনো সময় ভূতের গল্প বলা যাবে না। তার নয় হলো। কিন্তু এ কেমন কিম্ভুত কথা! শিশুরা তবে দাদু-দিদার কাছে বসেও ভূতের গল্প শুনতে পাবে না? আমার প্রশ্ন শুনে একটা গেছোভূত বললে—‘মামদোবাজি নাকি! আমাদের ইউনিয়ন নেই? একটানা এক মাস বাংলা বনধ ডেকে, রাইটার্সের কানে জল ঢুকিয়ে দেব।’ আর এই কথা গেল মামদোর কানে। সে বললে—‘মামদোবাজি এখন নেই। বাজি নিষিদ্ধ। আমরা সংখ্যালঘু, আমাদের ভূতপ্রেত কম। সরকারের সঙ্গে ঝামেলায় যাব না। মৌলভি মানা করেছে। হিন্দু ভূতের পাল্লা ভারী।কী সব নাম জানো?’ একানড়ে বললে—‘জানি! অশরীরী, অপচ্ছায়া, অপদেবতা, উপদেবতা, প্রেতাত্মা, ভূতাত্মা। তার আবার ভ্যারাইটি আছে। যেমন—ব্রম্মদৈত্য, স্বন্ধকাটা, পঞ্চানন্দ বা পেঁচো। আর গলায়-দড়ে, জলডোবা, রেলকাটা। আছে পেত্নি, শাঁকচু...
শক্তি পূজোর চিরাচরিত
মতামত, মুক্তগদ্য

শক্তি পূজোর চিরাচরিত

খুচরো কথা চারপাশে শক্তি পূজোর চিরাচরিত সুনীল শর্মাচার্য শক্তি পূজোর চিরাচরিত আমাদের ভড়ং সর্বস্ব শক্তিপূজোর চিরাচরিত সহিংস সংস্কার দেখে আতঙ্কিত হই। গান্ধীজির একটি উক্তি মনে পড়লো—মানুষকে হিংসার শিক্ষা দিতে হয় না। প্রাণী হিসাবে মানুষ সহিংস। সেই রামায়ণের কালে, নরবলি প্রথার যখন চল ছিল, তার ফলে রাজার কুমার রাম-লক্ষণকে প্রণাম করার আদব শেখাতে গিয়ে মহীরাবণকে সুগ্রীবের উদ্যত খাঁড়ায় প্রাণ দিতে হয়েছিল—এত যুগ পরেও আজো আমাদের রক্ত ক্ষরণে সমান বিশ্বাসী রেখেছে। আমরা শিক্ষা-দীক্ষায়-মননে-বিজ্ঞানে উন্নত প্রযুক্তিতে যতই ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী হই না কেন, সংস্কারের কাছে এখনো আমরা শিশু। দীপাবলিতে আমরা আলো জ্বালি, সে আলোর দীপ্তি আমাদের মনের অন্ধকারকে নাশ করে না। দেবীমূর্তির সামনে আমরা পাঁঠা-মোষ-ভেড়া-পায়রা বলি দিই,তবু আমাদের মনের মধ্যেকার পশু দিব্যি বেঁচে বর্তে থাকে। সব দেখে...
কত রকম সমস্যার মধ্যে থাকি
বিশেষ প্রথম, মতামত, মুক্তগদ্য

কত রকম সমস্যার মধ্যে থাকি

খুচরো কথা চারপাশে কত রকম সমস্যার মধ্যে থাকি সুনীল শর্মাচার্য . কত রকম সমস্যার মধ্যে আমরা থাকি। জল, চিকিৎসা, বাসস্থান, রুটি-রুজি। সেই সঙ্গে সমাজের নোংরামো, রাজনৈতিক মাফিয়াদের অত্যাচারও আমাদের কাছে সমস্যা। সংকটও। মানসিক সমস্যাও আছে এবং এই সমস্যার সমাধানে কেউ কোথাও নেই। যেন-বা গাছে ঘুণ লেগেছে কি আর করবো, মুখ ফিরিয়ে চলো। গাছও যে পথ চলতি মানুষকে ছায়া দিচ্ছে, ভুলে যাই আমরা। ভুলে যাই, যে মানুষটি একদিন আমাকে হৃদয় খুলে বসতে দিয়েছিল, আশ্রয় দিয়েছিল, সে আজ মানসিক সংকটে, তাঁর কাছে দাঁড়ানো দরকার—ভুলে যাই। ভুলে যেতে ভালোবাসি। মানসিক সমস্যা ও সংকট আজ সারা পৃথিবীতে, তার নানান দিকও আছে। প্রেম ভালোবাসা থেকে শুরু করে যৌনতা। একাকীত্ব। বন্ধুহীনতা। নিদ্রাহীনতা। এ সমস্তর চিকিৎসা কই? কোথায়? মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ালে মনের রোগ সেরে যায়। মনই মনের শুশ্রুষা করে। কিন্তু ‘মন’ কোথা...
ধর্ম নিয়ে
প্রবন্ধ-গবেষণা, মতামত

ধর্ম নিয়ে

ধর্ম নিয়ে সুনীল শর্মাচার্য সেদিন এক বুদ্ধিজীবীকে বলতে শুনলাম, সব মানুষ নিজেদের ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ বা চিন্তাবিদ আখ্যা দেন, বা যাঁদের জাতপাত, ধর্মে বিশ্বাস নেই এক্কেবারেই, তাঁদের পিতৃত্ব নিয়ে বিশেষ রকম সন্দেহ থেকেই যায়! অর্থাৎ, তিনি তাঁদের স্পষ্টতই অবৈধ বলে দাগিয়ে দিলেন, আক্ষরিক অর্থে যদিও-বা না হয়, রূপকার্থে তো বটেই। তবে কথা গলো, বুদ্ধিজীবীমশাই যা বলেছেন, তা আসলে ক্রমবর্ধমান এক ভাবনাপ্রবাহ—যেখানে অনায়াসেই নিজ জীবনের পছন্দ-অপছন্দকে নৈতিকতার মানদণ্ডে মাপা হচ্ছে। কে কোন ধর্মে বিশ্বাস করবেন, বা আদৌ কোনো ধর্মে বিশ্বাসী হবেন কি না, সবই তো ব্যক্তিগত জীবনের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়, তাই না? মানে বলতে চাইছি, হতেই তো পারে আমি কোনো-এক বিশেষ ধর্মাবালম্বী পরিবারে জন্মালাম, কিন্তু তা বলে আমার কি ন্যূনতম সে অধিকার নেই, অন্তত এই স্বাধীন  সমাজে, যে আমি স্বেচ্ছায়—সে ধর্মকেই পাল্টা প্রশ্ন...
মানুষকেন্দ্রিক দুনিয়াকে করোনার বার্তা
বিশেষ প্রথম, মতামত

মানুষকেন্দ্রিক দুনিয়াকে করোনার বার্তা

মানুষকেন্দ্রিক দুনিয়াকে করোনার বার্তা পাভেল পার্থ সৌরজগতের এই ছোট্ট গ্রহে মানুষের বিবর্তন ও বিকাশ খুব বেশি দিনের না। প্রজাতি হিসেবে মানুষ খুব সবলও নয়। খালি চোখে দেখা যায় না—একটা ভাইরাস যা পারে, মানুষ কী পারে—একটা বুনোলতাও যা পারে, মানুষ তা পারে না। নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। কেবল খাদ্য নয়, অক্সিজেন বলি— পানি বলি—সবকিছুর জন্যই মানুষকে নির্ভর করতে হয় অন্যের ওপর। শতভাগ পরনির্ভরশীল এই প্রজাতিই দুম করে অন্যসব প্রাণপ্রজাতিকে হটিয়ে এই দুনিয়া একতরফাভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করলো। কি নিদারুণ! কী অকৃতজ্ঞ অনাচার!! লাখো বছর ধরে যে জীবাশ্ম জমা হয় মাটির অতলে—মানুষ তাকে টেনেহেঁচড়ে ‘জ্বালানি’ নামে বাজারে তুললো। লুন্ঠিত হলো দেশদুনিয়ার প্রাণসম্পদ। খুব বেশি দিনও নয়, মোটাদাগে কয়েকশ বছর। মানুষ তার নিজের ভোগ আর বিলাসিতাকে তরতাজা রাখতে—পৃথিবীর বৃহৎ পরিবার থেকে অন্য প্রজাত...
টাউন শেরপুরে প্রথম রবীন্দ্রজয়ন্তী
প্রবন্ধ-গবেষণা, মতামত, সাহিত্য

টাউন শেরপুরে প্রথম রবীন্দ্রজয়ন্তী

টাউন শেরপুরে প্রথম রবীন্দ্রজয়ন্তী জ্যোতি পোদ্দার গত শতকের দু’য়ের দশকের শেষের দিকেই মূলত এই শেরপুর পরগণায় নতুন রাজনীতি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। এই রাজনীতি সামন্ততান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন তৎপরতার ভেতর গড়ে ওঠা প্রগতিশীল রাজনৈতিক চর্চা ও তার নানামুখী তৎপরতা। একদিকে ক্ষয়িষ্ণু সামন্ততন্ত্রের ভেতর কলকাতাকেন্দ্রিক শিক্ষার আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা জমিদার তনয়দের কংগ্রেস গঠন ও সর্বভারতীয় কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মসূসি বাস্তাবায়নের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম, অন্যদিকে সাম্যবাদে দীক্ষিত তরুণ শিক্ষিত প্রজন্ম ও তালুকদার পিতার বিদ্রোহী সন্তান শোষণ-মুক্ত সমাজ গড়ার জন্য কম্যুনিস্ট পার্টি গঠন ও নানামুখী আন্দোলন সংগ্রাম চালাবার জন্য লড়াকু শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটে। টাউন শেরপুর তিনের দশক থেকেই এই দুই ভাবার্দশে বিভক্ত হয়ে পড়ে—ব্যক্তি থেকে পরিবারে। আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ে নালিতাবাড়ি নকলা শ্রীবর্দী ও ঝ...