বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়...

গল্প

বানকিনার রক্তপঞ্জি : রাশেদ রহমান
গল্প, বিশেষ প্রথম, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, সাহিত্য

বানকিনার রক্তপঞ্জি : রাশেদ রহমান

বানকিনার রক্তপঞ্জি রাশেদ রহমান গ্রামের নাম বানকিনা...। হাশড়া, কালোহা, পাইকড়া, রোয়াইল, মৌরি—এই পাঁচটি গ্রাম বানকিনাকে ঘিরে রেখেছে। মাঝখানে বানকিনা। ছ’টি গ্রামই দ্বীপসদৃশ। বছরের অন্তত সাত-আটমাস গ্রামগুলো কচুরিপানার মতো জলে ভাসে। সব বাড়ির ঘাটে ডিঙ্গি নৌকা বাঁধা। নৌকাই এই দ্বীপ-গ্রামগুলোর মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। অঘ্রান-পৌষ মাসে এইসব গ্রামের কাঁচা রাস্তা কি হালট জেগে ওঠে। চার কি পাঁচমাস এই পথে ক্যাঁচর ক্যাঁচর শব্দ তুলে গরুরগাড়ি চলে...। থানা-সদর থেকে বহুদূরের গ্রাম বানকিনা, হাশড়া, কালোহা, পাইকড়া, রোয়াইল ও মৌরি। নামা ভূমি। কিন্তু গ্রামগুলো উঁচু টিলার মতো। নামা-অঞ্চলের গ্রাম এরকমই হয়। না-হলে বর্ষার জল উঠে যাবে যে বাড়িতে! বর্ষার জল যতোই বাড়ুক—বানকিনা, হাশড়া, কালোহা, পাইকড়া, রোয়াইল, মৌরির কোনো বাড়িতে জল ওঠে না...। কিছুটা দূরে দূরে সব বাড়ি। একেবারে গা ঘেঁষ...
বন্ধুত্ব : বিশ্বজিৎ দাস
গল্প, সাহিত্য

বন্ধুত্ব : বিশ্বজিৎ দাস

‘তুই কে? ঠিক করে বল।’হিসহিস করে বলল উত্তম। তার সামনে বসে থাকা তরুণটি হাসল। ‘আমি সৌমিক। তোর ক্লাসমেট।’ ‘ক্লাসমেট! উড়ে এসে জুড়ে বসে এখন বলছিস তুই আমার ক্লাসমেট!’ ‘আহা! চটছিস কেন। উড়েই আসি আর জুড়েই বসি, আসলে আমি তোর আর সাথীর ক্লাসমেট। বন্ধু।’ ‘আর বাকিরা? ওরা তোর ক্লাসমেট নয়?’ ‘আমরা সবাই ক্লাসমেট। তবে তুই আর সাথী হচ্ছিস আমার ঘনিষ্ঠ ক্লাসমেট।’ ‘মোটেও না। আমি তোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু না। সাথীও না।’ দাঁতে দাঁত চেপে বলল উত্তম। ‘তুই এত ক্ষেপে যাচ্ছিস কেন? অবশ্যই তুই আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।’ হেসে হেসে বলল সৌমিক। ‘তুই যদি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুই হোস, তাহলে আমি অন্তত জানতাম—তুই কে, কোথায় তোর বাড়ি, আর কোথায় থাকিস তুই।’ ‘জানবি। অত তাড়া কীসের!’ শান্ত ভঙ্গিতেই বলল সৌমিক। মাত্র দিন পনেরো আগের কথা। উত্তমের মনে পড়ল, ক্যান্টিনে বসে গল্প করছিল ও আর সাথী। তখনো নাস্তার অর্ডার দেয...
ডাকপিয়ন ও অশ্বত্থ বৃক্ষ : ফকরুল চৌধুরী
গল্প, সাহিত্য

ডাকপিয়ন ও অশ্বত্থ বৃক্ষ : ফকরুল চৌধুরী

ন্যাড়া মাথা এক মান্দার গাছের নিচে লোকটা নিজেকে সমর্পণ করে, ধরফরায়। দেহে তপ্তকুচি চিনচিন হুল কাটে। ভূমিতে ডালপালার ছায়াজালিকার ছাপ, শরীরেও ছায়ানকশা। মনের আহ্লাদ বাড়ে। সিসাগলা গরমে এই যেন স্বর্গসুখ। চারদিকে গরমকুণ্ডের সুবিশাল প্রান্তর। মরীচিকার ফাঁদ, এদিক সেদিক। ডাকপিয়ন পিঠে রাখা চটের ঝোলাটি অভ্যাশবশত আঁকড়ে আছে। ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাস ফেলে। শরীর ফুঁড়ে ঘাম ঝরছে। ফোটা ফোটা শিশির গড়িয়ে পড়ছে। সেদিকে তার খেয়াল নেই। শরীরে বাতাসের আরাম পরশ। একটু কেঁপে ওঠে। নিজের অবস্থান বিষয়ে সচেতন হয়ে বুঝতে পারে ছোট্ট এক বৃত্তে আটকে পড়েছে। বৃত্তভাঙা মানে নরকের স্পর্শজ্বালা। তখন দূরের অশ্বত্থ নজরে আসে, যেন ঝাকড়া চুলের বিদ্রোহী কবি নজরুল। পাতার ঢেউ খেলা এখান থেকেও চোখে পড়ে। মরিচিকার ধাঁ ধাঁ বৃক্ষের মাথায় চিক চিক করছে। কখনো মনে হয়, গলানো সিলভার পাতায় লেপ্টে আছে, গড়িয়ে গড়ি...
লাল কাঁকড়া : ধ্রুব এষ
গল্প, সাহিত্য

লাল কাঁকড়া : ধ্রুব এষ

লাল কাঁকড়া : ধ্রুব এষ নাইবউদ্দিন বিক্রি হয়ে গেছেন। দশ হাজার টাকা রফায় তাঁকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিক্রি যে করেছে, উটকো কেউ নয়, তাকে কানাশ্যাল ডাকে তার লোকেরা। প্রকৃত নাম আবু সুলেমান। তার লোকেদের ধারণা, সে কানা শেয়ালের মতো চতুর। সে নিজেও মনে করে এটা। এবং কানা শেয়াল ভাবে নিজেকে। কানা শেয়াল থেকে কানাশ্যাল। আর মাত্র এক… না, দুই… দুইটা মিনিট পেলে সে তার নামের মাহাত্ম্য দেখাতে পারত। কিন্তু আজ শনিবার বলে রাস্তাঘাট ফাঁকা। প্রেসক্লাব থেকে একটানে বাস শাহবাগে চলে এসেছে। এই এলাকা তার এখতিয়ারে না। বাধ্য হয়ে ধরা মুরগি বিক্রি করে দিতে হয়েছে। আফসোস! তবে দশ হাজার টাকা সে পাবে। শাহবাগ এলাকার থানেদার গাইট্টা। সে আরও বড় রুস্তম। গাইট্টা, কারণ তার গিঁটে গিঁটে প্যাঁচ। আট প্যাঁচ দিয়ে ধরে মুরগিকে। এমনিও বিটল কম না। বলেছে, ‘পাললি না! কানাশ্যাল হয়েও পাললি না! এহ্-হে-হে-হে! এহ্-হে-হে-হে!’ ...