shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

পরকীয়া প্রেমের রোমান্স

Retail talk all around
How many problems I am in
খুচরো কথা চারপাশে

পরকীয়া প্রেমের রোমান্স

সুনীল শর্মাচার্য

পরকীয়া প্রেমের রোমান্স

আজকের সমাজে নানাবিধ সমস্যার ভিড়ে বিবাহ-বহির্ভূত সেক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। যে ছেলেটার হোমওয়ার্ক নিয়ে ভাবার কথা, সে ভাবছে তার না-পাওয়া বান্ধবীটিকে নিয়ে। যে

মেয়েটার জীবন গড়ার জন্য কাজ করার কথা, সে জড়িয়ে যাচ্ছে অযাচিত স্ক্যান্ডালে।

আবার যে পুরুষ কিংবা নারীটির সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সে পড়ে থাকছে পরকীয়া নামক নিষিদ্ধ রোমান্সের জগতে। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, এসবের পেছনে প্রধান নিয়ামক হিসেবে

কাজ করছে নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্কটি।

একটা গ্রাম্য প্রবাদ আছে, ‘পেট আর চেট (শিশ্ন)-এর জন্যই দুনিয়ার যত কাজ-কারবার।’ কিন্তু আমরা পেটের কথা ভুলে অধিকাংশই সময় ব্যয় করছি চেটের পেছনে। একটু কি ভাবনার বিষয় নয়?

আমাদের সমাজে বিভিন্ন নিয়ম-কানুনের দ্বারা বিবাহ-বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ককে অবৈধ করা হয়েছে। এটি শুধুই সামান্য একটি ছোটখাটো অপরাধ নয়, রীতিমতো জঘন্য একটি পাপ। এমন কাজে কারো জড়িয়ে পড়াকে তার জীবনের চরম অধঃপতন হিসাবে গণ্য করা হয়।

তদুপরি আছে ধর্মের বাধা ও নরকবাসের ভয়। এতকিছু দিয়ে এহেন অবৈধ কাজটিকে থামিয়ে রাখা যাচ্ছে কি? কে কি বলবেন জানি না, কিন্তু এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সমাজের একটা বিরাট অংশ এ কাজে এখনো জড়িত আছে।

খবরের কাগজে পত্রিকায় আসা খবর, কিংবা মোবাইলে স্ক্যান্ডালগুলোকে রেফারেন্স ধরলেও, সংখ্যাটা

কম না। আর অপ্রকাশিত ও না-জানা ঘটনাগুলোর কথা না-হয় বাদই দেয়া গেল।

যে বয়সে একটা ছেলের স্কুলের পড়া আর হোমওয়ার্ক নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকার কথা, তাকে আমরা দেখতে পাই পাড়ার চায়ের স্টলে কোনো মেয়ের অপেক্ষায় বসে আছে।

একসময় জড়িয়ে যাচ্ছে ইভটিজিং নামক অপরাধে। এই ছেলেটি যার জন্য বসে আছে, সেই মেয়েটিকে যদি তার সঙ্গে মিলিয়ে দেয়া যায়, দেয়া যায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ, তাহলে ছেলেটি কয়বার, কতদিন স্টলে আর পাড়ায় আড্ডায় জড়াবে? জড়াবে কি ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক অপরাধে?

ধর্ষণের ক্ষেত্রেও কি এই কথাটা প্রয়োগ করা যায় না?

সেক্সকে এমন ফ্রি করে দিলে সতীত্বের প্রশ্নটা চলে আসে। সতীত্ব কি শারীরিক? না-কি মানসিক? মানসিক না-হলে ধর্ষিতাকে অসতী আখ্যা দেয়াটাও যুক্তিযুক্ত নয় কি?

আবার, সতীত্ব যদি মানসিক ব্যাপার হয়, তাহলেও প্রশ্ন থেকে যায়। সমাজে এমন কোনো নারী কিংবা পুরুষ কি পাওয়া যাবে—যারা জীবনে একবারো স্বপ্নদোষ নামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হননি?

স্বপ্নদোষের সঙ্গমে কেউ কি তার বিবাহিত স্বামী কিংবা স্ত্রীর সঙ্গেই মিলিত হন? স্বপ্নদোষে সতীত্ব

নষ্ট না-হলে মানসিক সতীত্বের ধারণা কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

এবার আসা যাক, বিভিন্ন বিধি-নিষেধের ব্যাপারগুলোতে। বিভিন্ন ধর্ম ও শাস্ত্রে বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ককে মারাত্বক একটি পাপ বলে গণ্য করা হয়েছে। কোনো কোনো ধর্মে এর শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, তদুপরি নরকবাস তো আছেই।

অন্যদিকে, রাষ্ট্র এমন কাজকে অসামাজিক হিসেবে গণ্য করেছে, শাস্তি বিধানও রেখেছে। কথা হলো : এমন বিধি-নিষেধ ও শাস্তির ভয় কি আদতেই মানুষকে এহেন অবৈধ কর্ম থেকে বিরত রাখতে পারছে? পারছে যে না—তার ভুড়িভুড়ি উদাহরণ আমাদের সমাজে বিদ্যমান।

মানুষ যদি এসব নিয়ম-বিধান নাই মানে অথবা মানতে বাধ্য নয়, তাহলে এমন বিধি ঘাড়ে চাপিয়ে রাখার যৌক্তিকতা কতটুকু? এতে বরং অপরাধবোধে যন্ত্রণার মাধ্যমে মানসিকভাবে

অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিই বাড়ছে দিন দিন।

দেশের অধিকাংশ পরিবারই তো পরকীয়া সমস্যায় জড়িত। বিশেষ করে, প্রবাসী স্বামী-স্ত্রীদের প্রায় ৯০% পরকীয়ায় জড়িত। ধরাপড়া পরিবারগুলো কি খুব শান্তিতে আছেন? স্বামী বিদেশে থাকায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন স্ত্রীটিকে তেমন কিছু বলতেও পারে না।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্ত্রী থাকেন বাবার বাড়িতে, অনেক পরিবারে বাবারা—বাড়ির লোকেরা শারীরিক

সম্পর্কের জন্য সাহায্যও করে থাকে। এমনও ঘটনা আছে যে, বাবা-মা নিজে মেয়েটিকে এমন

সঙ্গমের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

বেচারা স্বামীর কানে এসব কথা গেলেও, স্ত্রীর কথাই বিশ্বাস করে, কিন্তু ভোগে অন্তর্দহনে।

শুধু পরকীয়া নয়, এমন অনেক কিছু আছে—যা সমাজ আর আইন স্বীকৃতি দেয় না। কিন্তু অহরহ

ঘটে চলেছে। আর এগুলোকে আটকাবার বাস্তবিক কোনো উপায় নেই!

…………………

পড়ুন

কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের একগুচ্ছ কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের ক্ষুধাগুচ্ছ

লকডাউনগুচ্ছ : সুনীল শর্মাচার্য

গল্প

উকিল ডাকাত : সুনীল শর্মাচার্য

প্রবন্ধ

কবির ভাষা, কবিতার ভাষা : সুনীল শর্মাচার্য

ধর্ম নিয়ে : সুনীল শর্মাচার্য

মুক্তগদ্য

খুচরো কথা চারপাশে : কত রকম সমস্যার মধ্যে থাকি : সুনীল শর্মাচার্য

খুচরো কথা চারপাশে : শক্তি পূজোর চিরাচরিত : সুনীল শর্মাচার্য

খুচরো কথা চারপাশে : ভূতের গল্প : সুনীল শর্মাচার্য

খুচরো কথা চারপাশে : বেগুনে আগুন: সুনীল শর্মাচার্য

খুচরো কথা চারপাশে : পরকীয়া প্রেমের রোমান্স : সুনীল শর্মাচার্য

খুচরো কথা চারপাশে : মুসলমান বাঙালির নামকরণ নিয়ে : সুনীল শর্মাচার্য

খুচরো কথা চারপাশে : এখন লিটল ম্যাগাজিন : সুনীল শর্মাচার্য

খুচরো কথা চারপাশে : যদিও সংকট এখন : সুনীল শর্মাচার্য

খুচরো কথা চারপাশে : খাবারে রঙ : সুনীল শর্মাচার্য

খুচরো কথা চারপাশে : সংস্কার নিয়ে : সুনীল শর্মাচার্য

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন...