shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

কালাকালের ডায়েরি

Retail talk all around
How many problems I am in
খুচরো কথা চারপাশে

কালাকালের ডায়েরি

সুনীল শর্মাচার্য

কালাকালের ডায়েরি

গণহত্যার রক্ত যে সকল রাজনৈতিক দলের হাতে লেগে রয়েছে, তারা কি করে মানুষের কাছে ভোট ভিক্ষা করে? গণহত্যার মতো অপরাধ ক্ষমা করা যায়?

কালাকালের ডায়েরি

আত্মকেন্দ্রিক মোদী

আত্মবিস্মৃত জনগণ!

মেড ফর ইচ আদার!

.

আমার কাছে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ নারী আমার নিরক্ষর মা। তারপর, পুরাণখ্যাত নারী গার্গী, যিনি প্রথম পুরুষের সমান বা অধিক ছিলেন, যাকে থামাতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন পুরুষ ঋষিগণ!

.

আমরা এখন কেমন আছি?

বুঝতে পারি না!

.

একদা এই দল তার সমর্থনকারীদের একটা মৌলরশিতে বেঁধে রাখতো। এমন কি, কি খাবে, কি পরবে, কোথায় যাবে—সবই নেতাদের পারমিশন নিয়ে করতে হতো। বিবাহ থেকে বাচ্চা পয়দা—সবই তাদের অনুমতি সাপেক্ষ এবং লেখক, কবি, বুদ্ধিজীবী হলে কি লিখবে, কোথায় লিখবে, কি বলবে ইত্যাদি পার্টি ঠিক করতো।

আসলে এই সিপিএম (ভারতে) একটা হিপক্রিট পার্টি এবং সূক্ষ্ম সাম্প্রদায়িক। জন্মলগ্ন থেকেই। প্রমাণ আছে অজস্র এবং ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া তাদের যথেষ্ট। আসলে, তারা সর্বহারা পার্টি নয়। CPI(M)= Capitalist Party of India (Marketist).

.

দল বদল এখন অনেকটা তীর্থভ্রমণ বা হজ্জ পালন। তারপর ধোয়া তুলসী পাতা! সব পাপ খণ্ডন। পবিত্র!

এই দল বদলের স্রোত দেখে মনে হয়, কোথায় কে যে গোপনে খুঁটি পূজো সেরে রেখেছে, কে জানে! ভোট জিতে আবার যে যার পছন্দের প্রাপ্তিতে গা ভাসাবেন। দেশ সেবা, জনগণের সেবা এসব ভাঁওতা। নিজের স্বার্থ আর আখের গোছানোর ধান্দাই এখন ভারতীয় রাজনীতির উদ্দেশ্য।

.

দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোকে রাজনীতিমুক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেও, সফল হয়নি রাজনীতিবিদরা। কিন্তু রাজনীতিকে শিক্ষামুক্ত করতে তাঁরা সম্পূর্ণ সফল।

.

মন্মনাঃ ভবঃ। গীতায় কৃষ্ণের এই কথা ভারতবর্ষের সকল রাজনৈতিক দলের কথা। তাহলেই সব পাবে, না-হলে ধ্বংস অনিবার্য।

অর্জুন নই, কর্ণ নই। কর্ণ পারেননি, দুর্যোধনের সঙ্গী হয়েছিলেন। তা হতে রাজি নই আমি। ফলে, জন্ম থেকে সুনীল হয়ে আছি, ঐ থ্রেটেনিংয়ের সামনে।

.

দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক দল ভারতে নেই বললেই চলে। শাসন ক্ষমতা পেয়েছে, অথচ দুর্নীতি করেনি, যদি কোনো দল দাবি করে, সে দাবি হাস্যকর! ঢাকার কুট্টিদের মতো তখন বলতে হয়, ‘আস্তে কন, কত্তা! ঘোড়ায় হাসব!’

দুর্নীতি এখন হাড়ে মজ্জায়। ঘুণে ধরা এই সিস্টেমে এখন এটাই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় এলে অন্য চেহারা ধারণ করে, যে চেহারা মানুষ চিনে ফেলেছে। ফলে, তারা এখন দেনাপাওনা বুঝে নিতে চায়।

এর বাইরে, যে সংকট মানুষের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলেছে, মানুষ তার থেকে মুক্তি চাইছে। সিএএ, এনআরসি এই মুহূর্তে সেই সংকট!

.

১০

ভারতীয় কমিউনিস্ট! শ্যাম রাখি, না কুল রাখি সামাজিক দ্বন্দ্বে তারা ধর্মকে আফিম জেনেও, প্রচ্ছন্ন ধার্মিক। তাই কি তাদের পদক্ষেপ জন্মলগ্ন থেকেই ভীষণ অলৌকিক!!

.

১১

Charles Morgan-এর একটি কথা সামান্য পালটে, বলতে চাই যে, there is no surprise more magical than the surprise of being loved. It is God’s finger on a person’s shoulder…

.

১২

ভলতেয়ার বলেছিলেন, ‘সকল পুরোহিত ভণ্ড বা প্রতারক। অলৌকিক বলে দাবিকৃত সব বাণী বেসাতি মাত্র এবং প্রত্যাদেশ বা ঐশ্বরিক বাণী মানুষের উদ্ভব!’

ভাবছি, কথাটা আজও সত্য, পৃথিবীর সর্বত্র!

.

১৩

পুরুষের মধ্যে লেসবিয়ান থাকে

নারীর মধ্যেও লেসবিয়ান থাকে

.

ভেবে ভেবে অবাক হই প্রকৃতির কাছে…

.

১৪

Master surrendered to British in 1920.

Disciple surrendered to China in 2020.

What a legacy!

.

১৫

ভারতবর্ষ রহিয়াছে ভারতবর্ষেই, অন্ধতা, দাদাগিরি, প্রভুগিরি, ভোট, ক্ষুধা, মন্দির-মসজিদ, অশিক্ষা, বাবাঠাকুর, গর্ভপাত, দলবাজি ও নেতাসহ!

.

১৬

এখন আর আমাদের বলতে হয় না। সমগ্র দুনিয়া জেনে গেছে, লুকোবার আর জায়গা নেই। জেনে

গেছে, ভারতবর্ষ এখন অংশত স্বাধীনতা আছে মোদি সরকারের অধীনে। মৌলিক অধিকার সব খর্ব করা হচ্ছে।

ভোটপাখি রাজনৈতিক দলগুলোর এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই—যা কিছু প্রতিরোধ হচ্ছে, এইসব তথাকথিত রাজনৈতিক দলগুলির বাইরে থেকে। এটা স্বস্তির!

কালাকালের ডায়েরি

১৭

ফ্যাসিস্ট আর ফ্যাসিজম

গণতন্ত্রে এতদিন লুকিয়ে ছিল…

.

এখন দাঁত বের করে হাসছে…

.

তার রাক্ষুসী নখ, দাঁত, মস্ত হা

আমাদের গিলে খাবে…

কালাকালের ডায়েরি

১৮

অরুন্ধতী রায় বললেন, ‘আমাদের এখন নতুন ধরনের রাজনীতির দরকার। শাসনের রাজনীতি নয়, প্রতিরোধের রাজনীতি, বিরোধীদের রাজনীতি। এমন রাজনীতি, যেখানে বিশ্বের প্রতিটি হাত একসাথে হয়ে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে সবাইকে রক্ষা করবে।’

কথাটা আমিও সমর্থন করি। বর্তমানের শাসননির্ভর রাজনীতি, গদি রাজনীতি, ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতি, দলভিক্তিক রাজনীতি, ধনীকের রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক রাজনীতি দিয়ে পৃথিবীর সমগ্র মানু্ষজাতির কল্যাণ কভি নেহি!

কালাকালের ডায়েরি

১৯

বামপন্থা বলতে আমি বুঝি আজীবন বিদ্রোহী থেকে যাওয়া। যেন-তেন প্রকারে ক্ষমতায় পৌঁছনো নয়। ক্ষমতা ক্ষমতার কাজ করে।

সেদিক থেকে দেখলে এদেশে আদৌ কোনো বামপন্থার চর্চা নেই! যা আছে তা ওই, যেন-তেন প্রকারে ক্ষমতায় পৌঁছনো ও নিজেকে শাসকে পরিণত করা!

কালাকালের ডায়েরি

২০

বিশ্বের দরবারে ভারত আর গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে থাকছে না। খুব শিগগিরই এই তকমা ভারতের গা থেকে সরে যাচ্ছে। সুইডেনের এক সংস্থা এই তথ্য দিয়েছে।

বলা হয়েছে, মোদি প্রধানমন্ত্রী হবার পর থেকে ভারতে গণতন্ত্র বিপন্ন। এখন এটা ইলেকটরেল অটোক্রেসির দেশ হিসেবে পরিগণিত হতে চলেছে। ‘India is No Longer a Democracy but an ‘Electoral Autocracy’: Swedish Institute

কালাকালের ডায়েরি

২১

‘ঞ’ অক্ষরটি নিয়ে ভাবি। পিঠে কুঁজ নিয়ে তার এই বেঁচে থাকা, অস্তিত্ব রক্ষার এই মরণপণ লড়াই মূলত শ্রেণিবৈষম্যের বিরুদ্ধে। সে জানে, ব্যঞ্জনবর্ণ হিসেবে তার অবস্থান তৃতীয় শ্রেণির। এটাও ঠিক, শ্রেণিগত দিক থেকে ব্যঞ্জনবর্ণ দ্বিতীয় শ্রেণির।

প্রথম শ্রেণির যারা তারা শাসক, নিয়ন্ত্রক। তার মানে, স্বরবর্ণ প্রকৃত শাসক। শাসকের কথা যখন এলো, পর্যবেক্ষণ করলে, দেখা যায়, তাদেরও গোত্রভেদ আছে, শ্রেণিবিভাজন আছে। এই বিভাজনরেখা ধরে এগিয়ে গেলে ‘ঞ’-এর অবস্থান অনুধাবন করা যাবে, যদি ভাবি, তা আসলে হবে সরল সমীকরণ। সরল সমীকরণের বিপদ এই, তাতে ভ্রান্তি থাকার সম্ভাবনা বেশি।

এই সহজ কথাটি জানা হয়নি বলে, এ দেশে শ্রেণিসংগ্রাম হয়ে ওঠে ভাঁড়ের তামাশা, ভোটমগ্ন দলের আপ্তবাক্য!

কালাকালের ডায়েরি

২২

অনেকেই বলেন যে, তাঁরা কখনো মিথ্যে বলেন না। হাস্যকর দাবি। একমাত্র মৃতদের ক্ষেত্রেই এটা সত্যি হতে পারে। তাঁরা সত্য বা মিথ্যে কোনোটাই বলবার জায়গায় থাকেন না।

একজন জীবিত মানুষ কখনো মিথ্যে বলেন না, এটা সত্য বলে ধরে নিতে হলে বলতে হবে তিনি আর জীবিত নন, মারা গেছেন, মৃত। আর যাঁরা স্রষ্টা তাঁদেরকে তো মিথ্যে বলতেই হয়। সৃষ্টি যদি এক নির্মাণ হয় তাহলে তা গড়েই ওঠে মিথ্যের ওপর।

মিথ্যের পর মিথ্যে না সাজালে না-হয় নির্মাণ, না-পৌঁছানো যায় শিল্পের সত্যে। শিল্পের সত্য বলে একটা কথা আছে এবং সেটা কোথাও গিয়ে মেশে জীবনের সত্যের সঙ্গে। আমার কল্পনা অর্থাৎ মিথ্যে, আমি সেখানেও পৌঁছাতে চেয়েছি শিল্পের সত্যে—যা কোথাও জীবনের সঙ্গে গিয়ে মেলে। আরো সত্যি করে বললে, আসলে সত্য বলে কিছু কি আছে?

আমরা যা কিছু সত্যি বলে জানি সবটাই আপাত সত্য, চিরন্তন সত্য বলে কিছু নেই। অর্ধেক পূর্ণ জলের গ্লাসটা আপনার দেখাতে যা, আমার দেখাতে তার উল্টোটাই হতে পারে। যে জন্য সত্যের দিকে যাওয়াটাই একমাত্র সত্য, এর বাইরে সত্য বলে কিছু নেই।

একজন স্রষ্টাকে এজন্য বাস্তবের ভেতরে যে বাস্তব সেদিকে যাত্রা করতে হয়। যাঁরা বাস্তব নিয়ে পড়ে থাকেন তাঁরা আমার কাছে আর যেই হোন, আমি তাঁদেরকে স্রষ্টা বলে মনে করি না আদৌ।

…………………

পড়ুন

কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের একগুচ্ছ কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের ক্ষুধাগুচ্ছ

লকডাউনগুচ্ছ : সুনীল শর্মাচার্য

সুনীল শর্মাচার্যের গ্রাম্য স্মৃতি

নিহিত মর্মকথা : সুনীল শর্মাচার্য

গল্প

উকিল ডাকাত : সুনীল শর্মাচার্য

এক সমাজবিরোধী ও টেলিফোনের গল্প: সুনীল শর্মাচার্য

আঁধার বদলায় : সুনীল শর্মাচার্য

প্রবন্ধ

কবির ভাষা, কবিতার ভাষা : সুনীল শর্মাচার্য

ধর্ম নিয়ে : সুনীল শর্মাচার্য

মতামত

ভারতীয় বাঙালি ও ভাষাদিবস

ভারতীয় বাম ও তাদের কিচ্ছা

মুক্তগদ্য

খুচরো কথা চারপাশে : সুনীল শর্মাচার্য

কত রকম সমস্যার মধ্যে থাকি

শক্তি পূজোর চিরাচরিত

ভূতের গল্প

বেগুনে আগুন

পরকীয়া প্রেমের রোমান্স

মুসলমান বাঙালির নামকরণ নিয়ে

এখন লিটল ম্যাগাজিন

যদিও সংকট এখন

খাবারে রঙ

সংস্কার নিয়ে

খেজুর রসের রকমারি

‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ পাঠ্যান্তে

মোবাইল সমাচার

ভালো কবিতা, মন্দ কবিতা

ভারতের কৃষিবিল যেন আলাদিনের চেরাগ-এ-জিন

বাঙালিদের বাংলা চর্চা : খণ্ড ভারতে

দাড়ি-গোঁফ নামচা

নস্যি নিয়ে দু-চার কথা

শীত ভাবনা

উশ্চারণ বিভ্রাট

কাঠঠোকরার খোঁজে নাসা

ভারতীয় ঘুষের কেত্তন

পায়রার সংসার

রবীন্দ্রনাথ এখন

কামতাপুরি ভাষা নিয়ে

আত্মসংকট থেকে

মিসেস আইয়ার

ফিরবে না, সে ফিরবে না

২০২১-শের কাছে প্রার্থনা

ভারতে চীনা দ্রব্য বয়কট : বিষয়টা হাল্কা ভাবলেও, সমস্যাটা কঠিন এবং আমরা

রাজনীতি বোঝো, অর্থনীতি বোঝো! বনাম ভারতের যুবসমাজ

কবিতায় ‘আমি’

ভারতে শুধু অমর্ত্য সেন নয়, বাঙালি সংস্কৃতি আক্রান্ত

ধুতি হারালো তার কৌলীন্য

ভারতের CAA NRC নিয়ে দু’চার কথা

পৌষ পার্বণ নিয়ে

প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে

শ্রী শ্রী হক কথা

বর্তমান ভারত

ভারতের এবারের বাজেট আসলে অশ্বডিম্ব, না ঘরকা না ঘাটকা, শুধু কর্পোরেট কা

ইন্ডিয়া ইউনাইটেড বনাম সেলিব্রিটিদের শানে-নজুল

ডায়েরির ছেঁড়া পাতা

অহল্যার প্রতি

উদ্ভট মানুষের চিৎপাত চিন্তা

তাহারা অদ্ভুত লোক

পৌর্বাপর্য চিন্তা-ভাবনা

নিহিত কথামালা

অবিভাজ্য আগুন

পাথরের মতো মৌন জিজ্ঞাসা

ভাবনা যত আনমনে

বিবেক পোড়ে অশান্ত অনলে

কালাকালের ডায়েরি

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন...