shubhobangladesh

সত্য-সুন্দর সুখ-স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবসময়…

ভারতীয় বাম ও তাদের কিচ্ছা

Indian left and theirs
Indian left and theirs

ভারতীয় বাম ও তাদের কিচ্ছা

সুনীল শর্মাচার্য

ভারতীয় বাম ও তাদের কিচ্ছা

ভারতে বামেদের দ্বিচারিতা যে তাদের জন্মলগ্ন থেকে, এ-কথা কারো অজানা নেই। বামপন্থী, বিশেষত সিপিএম সমর্থকরা এমন একটি অলৌকিক দলের কাণ্ডকারখানায় বিশ্বাস করে—যা বাস্তবের মাটি থেকে বহু দূরবর্তী। যেমন, রাজ্যে যে সরকার, তারাই বন্ধ ডাকছে।

এমন মজার ঘটনা বামরাজ্যেই সম্ভব। তো বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সাধের সেক্টর ফাইভে যখন বন্ধ হলো, তখন তিনি সখেদে বলেছিলেন, ‘আমি দুর্ভাগ্যক্রমে এমন একটা দলের সদস্য, যারা বন্ধ ডাকে।’

সম্প্রতি আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট হওয়া নিয়ে পুরনো একটা ব্যক্তিগত ঘটনা শেয়ার করি। কমরেড সুভাষ চক্রবর্তী তখন দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা। একবার তাঁর একটি সাংবাদিক সম্মেলনে আরো অনেক সাংবাদিকদের সঙ্গে আমিও ছিলাম।

ধর্ম-টর্ম বিষয়ে একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘কেউ যদি হিন্দু ধর্মকে গালাগালি দেয়, তাহলে তাঁকে নিশ্চিতভাবে প্রগতিবাদী বলা হবে, যদি আপনি ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করেন, তাহলে আপনি একেবারে একশো শতাংশ মৌলবাদী।’

আর এ-কথাও সকলেই জানেন যে, বামেরা আর যাই করুক, মুসলিমদের বিরুদ্ধে কখনো কথা বলেননি। এটা তাঁদের বৈজ্ঞানিক তোষণ ছিল।

যেমন বাবরি মসজিদ ধ্বংস হওয়ার পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছিলেন, ‘এ রাজ্যে যদি কেউ মসজিদ ভাঙতে আসে, তার মাথা ভেঙে দেব।’ তাই ধর্মান্ধ আব্বাসের সঙ্গে জোট তাদের পক্ষে অস্বাভাবিক বলে মনে করি না। বরং বলতে চাই বামেরা সবচেয়ে বেশি মৌলবাদী।

ভাবুন তো, এই দলটা ভারতে না-থাকলে দেশের কী ক্ষতি হয়! রাজ্যে রাজ্যে দশকের পর দশক ক্ষমতায় থাকব, নিজেদের সর্বভারতীয় দল বলে জাহির করব, আর সময় এলে কেন্দ্র সরকারে যাব না!? এ কোন দ্বিচারিতা?

একটা প্রশ্নের উত্তর বামপন্থীরা কি দেবেন যে, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের উপর মাওবাদীদের হামলা হওয়ার পরও এ রাজ্যে কেন মাওবাদীদের নিষিদ্ধ করা হয়নি? হামলার পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য জনসভায় ‘মাওবাদীরা কাপুরুষ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।

যারা রাজনীতির খবর রাখেন তাঁরা নিশ্চয়ই জানবেন যে, সেই হামলার পর মাওবাদীদের এ রাজ্যে নিষিদ্ধ করা হবে কিনা, এ নিয়ে গোপালন ভবনে একটি মিটিং হয়েছিল। তাতে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, একটি বামপন্থী দল আর একটি বামপন্থী দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে না।

ব্যস, অমনি যাবতীয় সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়ে কমরেডকুল কিলা কিলা শব্দে নেত্য করতে করতে বেরিয়ে এসেছিলেন। পলিটব্যুরো নামক একটি শালগ্রামশিলা—যা নড়েচড়ে না, বাস্তবসম্মত কোনো পরিবর্তনকে বিশ্বাস করে না—সেটাই যদি বারবার কোনো ঘটনার মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়, তাহলে তাদের অবস্থা আজ এমন হতে বাধ্য। আশ্চর্যের কিছু নেই।

মনে পড়ে, ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে এরা তৎকালীন ইউপি সরকারের উপর থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছিল। মুলায়মের সমাজবাদী পার্টি তখন নেহাৎ সমর্থন করেছিল বলে সরকারটা টিকে যায়। না-হলে তো অন্তর্বর্তী নির্বাচন নিশ্চিত ছিল।

যাদের অগ্রপশ্চাত বিবেচনা বোধ নেই, তারা কোনো সরকার গঠনে সমর্থন করতে যায়ই-বা কেন? এই দলটা স্বাধীনতার পরবর্তীকাল থেকে দেশের কোনো কাজে আসেনি। উলটে তখন দেশভাগ সমর্থন করেছিল।

দেশের আসল গাদ্দার এই বামপন্থীরাই। যেহেতু সংসদকে শুয়োরের খোঁয়াড় বলেছি সেজন্য কস্মিনকালেও সংসদে যাব না—এমনই আদর্শবাদ, তাহলে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হয় কী করে? যারা তাদের চিরশত্রু!!

আব্বাসের কথা না হয় বাদই দিলাম। কয়েকদিন আগে এক বামপন্থী তরুণ এমন একটি বিশ্বাস প্রকট করছিলেন এমন—‘বামপন্থীরা কখনো মরে না। আমরা ফিনিক্সের জাত। আবার জেগে উঠব’—শুনতে যদিও খারাপ লাগে না, তবে প্রশ্ন, জেগে উঠেই-বা করবেনটা কী?

আপনাদের দিয়ে দেশের কোন কম্ম হবে, এখনো বোধহীন ধারণায় চরম ধনতান্ত্রিক দেশ চীনের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া? শেষে একটা বইয়ের কথা বলি। প্রখ্যাত কবি এবং বিশিষ্ট বামপন্থী রাম বসুর একটি বই আছে ‘সাম্প্রতিক অস্তিত্ব ও মার্কসবাদ’ নামে। অনুরোধ করি বইটি বিশেষ করে, বামপন্থী তরুণরা পড়ে নেবেন। তাহলে আপনাদের বহু ভুল ধারণার অবসান ও কিঞ্চিত শিক্ষা হতে পারে।

…………………

পড়ুন

কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের একগুচ্ছ কবিতা

সুনীল শর্মাচার্যের ক্ষুধাগুচ্ছ

লকডাউনগুচ্ছ : সুনীল শর্মাচার্য

সুনীল শর্মাচার্যের গ্রাম্য স্মৃতি

নিহিত মর্মকথা : সুনীল শর্মাচার্য

গল্প

উকিল ডাকাত : সুনীল শর্মাচার্য

এক সমাজবিরোধী ও টেলিফোনের গল্প: সুনীল শর্মাচার্য

আঁধার বদলায় : সুনীল শর্মাচার্য

প্রবন্ধ

কবির ভাষা, কবিতার ভাষা : সুনীল শর্মাচার্য

ধর্ম নিয়ে : সুনীল শর্মাচার্য

মতামত

ভারতীয় বাঙালি ও ভাষাদিবস

ভারতীয় বাম ও তাদের কিচ্ছা

মুক্তগদ্য

খুচরো কথা চারপাশে : সুনীল শর্মাচার্য

কত রকম সমস্যার মধ্যে থাকি

শক্তি পূজোর চিরাচরিত

ভূতের গল্প

বেগুনে আগুন

পরকীয়া প্রেমের রোমান্স

মুসলমান বাঙালির নামকরণ নিয়ে

এখন লিটল ম্যাগাজিন

যদিও সংকট এখন

খাবারে রঙ

সংস্কার নিয়ে

খেজুর রসের রকমারি

‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ পাঠ্যান্তে

মোবাইল সমাচার

ভালো কবিতা, মন্দ কবিতা

ভারতের কৃষিবিল যেন আলাদিনের চেরাগ-এ-জিন

বাঙালিদের বাংলা চর্চা : খণ্ড ভারতে

দাড়ি-গোঁফ নামচা

নস্যি নিয়ে দু-চার কথা

শীত ভাবনা

উশ্চারণ বিভ্রাট

কাঠঠোকরার খোঁজে নাসা

ভারতীয় ঘুষের কেত্তন

পায়রার সংসার

রবীন্দ্রনাথ এখন

কামতাপুরি ভাষা নিয়ে

আত্মসংকট থেকে

মিসেস আইয়ার

ফিরবে না, সে ফিরবে না

২০২১-শের কাছে প্রার্থনা

ভারতে চীনা দ্রব্য বয়কট : বিষয়টা হাল্কা ভাবলেও, সমস্যাটা কঠিন এবং আমরা

রাজনীতি বোঝো, অর্থনীতি বোঝো! বনাম ভারতের যুবসমাজ

কবিতায় ‘আমি’

ভারতে শুধু অমর্ত্য সেন নয়, বাঙালি সংস্কৃতি আক্রান্ত

ধুতি হারালো তার কৌলীন্য

ভারতের CAA NRC নিয়ে দু’চার কথা

পৌষ পার্বণ নিয়ে

প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে

শ্রী শ্রী হক কথা

বর্তমান ভারত

ভারতের এবারের বাজেট আসলে অশ্বডিম্ব, না ঘরকা না ঘাটকা, শুধু কর্পোরেট কা

ইন্ডিয়া ইউনাইটেড বনাম সেলিব্রিটিদের শানে-নজুল

ডায়েরির ছেঁড়া পাতা

অহল্যার প্রতি

উদ্ভট মানুষের চিৎপাত চিন্তা

তাহারা অদ্ভুত লোক

পৌর্বাপর্য চিন্তা-ভাবনা

নিহিত কথামালা

অবিভাজ্য আগুন

পাথরের মতো মৌন জিজ্ঞাসা

ভাবনা যত আনমনে

বিবেক পোড়ে অশান্ত অনলে

Spread the love